ওয়াশিংটনের ‘ইটের′ জবাবে চীনা ‘পাটকেল′ | বিশ্ব | DW | 02.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ওয়াশিংটনের ‘ইটের' জবাবে চীনা ‘পাটকেল'

বিশ্বের দুই প্রধান অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে পুরোপুরি সংঘাত শুরু হয়ে গেছে৷ ‘অ্যামেরিকা ফার্স্ট' নীতির আওতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের উপর বাড়তি শুল্ক চাপানোর পর চীনও পালটা আঘাত হানলো৷

শুরু হয়ে গেল বাণিজ্য যুদ্ধ৷ অ্যামেরিকা চীন থেকে অ্যালুমিনিয়াম কিছু পণ্য আমদানির উপর বাড়তি শুল্ক চাপানোর ঘোষণার পর চীনও পালটা পদক্ষেপের ঘোষণা করেছে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার মূল্যের ১২৮টি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে অবিলম্বে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপাচ্ছে বেইজিং৷ এর মধ্যে শুকরের মাংস, ওয়াইন, কিছু ফলমূল, বাদাম ইত্যাদি খাদ্যপণ্য রয়েছে৷ রবিবার ঘোষণার পর সোমবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে এই পদক্ষেপ৷

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে আমদানির উপর একতরফাভাবে শুল্ক চাপাচ্ছেন ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পথে চলেছেন, তার পরিণাম যে অ্যামেরিকাকেও ভোগ করতে হবে, মার্কিন প্রশাসন তা এখন টের পাচ্ছে৷

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ডাব্লিউটিও'র বিধান অনুযায়ী অ্যামেরিকা থেকে ১২০টি পণ্যের আমদানির উপর শুল্ক কমানোর কথা ছিল৷ কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সে দেশ সেই দায়বদ্ধতা আপাতত মুলতুবি রাখছে৷ চীন মনে করিয়ে দিয়েছে ডাব্লিউটিওর কাঠামোয় জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে এমন পদক্ষেপও সম্ভব৷ উল্লেখ্য, ওয়াশিংটনও জাতীয় স্বার্থের দোহাই দিয়ে চীনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল৷

পুরোদস্তুর বাণিজ্য যুদ্ধ এড়াতে চীন অ্যামেরিকার উদ্দেশ্যে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ প্রত্যাহার করার ডাক দিয়েছে৷ সে ক্ষেত্রে ডাব্লিউটিওর বিধিনিয়মের আওতায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে পারবে৷ চীনের মতে, বিশ্বের দুই প্রধান অর্থনীতির মধ্যে সহযোগিতাই সঠিক পথ৷

ট্রাম্প প্রশাসন চলতি সপ্তাহে আরও কয়েকটি চীনা পণ্যের আমদানির উপর শুল্ক ঘোষণার তোড়জোড় করছে৷ এই সিদ্ধান্তকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে চীনের নীতির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে৷ ফলে অ্যামেরিকার বাজারে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি মূল্যের হাইটেক চীনা পণ্যের দাম বেড়ে যাবে৷

এমন সংঘাত গোটা বিশ্বের অর্থনীতির উপর মারাত্মক আঘাত হানতে পারে বলে অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন৷ পরিস্থিতি এড়াতে আলোচনার সময়ও অত্যন্ত কম৷ এসব ক্ষেত্রে সংঘাত এড়াতে ৬০ দিনের সময় স্থির করা হয়৷ কিন্তু অ্যামেরিকা ও চীন পরস্পরের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করে এসেছে, এত কম সময়ে তার কারণ দূর করা অত্যন্ত কঠিন৷ তাছাড়া ওয়াশিংটন এখনো পর্যন্ত তর্জনগর্জন করলেও কোনো পদক্ষেপ কার্যকর করেনি৷ অন্যদিকে চীন অবিলম্বে বাড়তি শুল্ক চাপিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে৷

এসবি/এসিবি (রয়টার্স, ডিপিএ, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন