ঐতিহ্য ‘পুনরুদ্ধারে’ সদরঘাটে পরিবর্তনের আহ্বান | বিশ্ব | DW | 24.05.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ঐতিহ্য ‘পুনরুদ্ধারে’ সদরঘাটে পরিবর্তনের আহ্বান

ঢাকার ঐতিহ্য ‘পুনরুদ্ধারে’ সদর ঘাটের লালকুঠি থেকে রূপলাল হাউজ অংশের টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস৷

সদরঘাট

সদরঘাট

ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম জানায়, সোমবার সদরঘাটের লালকুঠি প্রাঙ্গণে ‘ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্ট' প্রকল্পের কার্যাবলী সংক্রান্ত প্রদর্শনী পরিদর্শনের পর আলোচনা সভায় বিআইডব্লিওটিএকে এই আহ্বান জানান শেখ ফজলে নূর তাপস৷

মেয়র বলেন, ‘‘বুড়িগঙ্গা নদী ঘেঁষে গড়ে ওঠেছে আমাদের ঢাকা৷ কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা এই ঐতিহাসিক স্থাপনা হতে এখন আর বুড়িগঙ্গা দেখতে পাই না৷ কারণ সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি দখলদারত্বের ছোবলে নদী আজ দখল হয়ে গেছে৷ তাই, আমি বিআইডব্লিউটিএকে অনুরোধ করব, অতিসত্বর আপনারা লালকুঠি হতে রূপলাল হাউজ পর্যন্ত অংশে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সরিয়ে ফেলুন৷ ঢাকার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে টার্মিনালের এই অংশটি দ্রুত সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিন৷''

Bangladesch Dhaka | Fazle Noor Taposh

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস

   

ঢাকার প্রধান নৌ টার্মিনাল সদরঘাট থেকেই দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের লঞ্চ এবং স্টিমার ছেড়ে যায়৷ সদরঘাটের যে অংশ থেকে মেয়র টার্মিনাল সরাতে বলেছেন, সেই অংশ থেকে চাঁদপুরগামী লঞ্চ এবং বিআইডব্লিউটিসির স্টিমার ছেড়ে যায়৷ নদী তীর সংলগ্ন সড়কে টার্মিনালের বিপরীত পাশেই লাল কুঠি ও রূপলাল হাউজের অবস্থান৷ ১৮৭৪ সালে ভারতের ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল জর্জ ব্যারিং নর্থব্রুকের ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই টাউন হলে ১৯২৬ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল৷

ঊনবিংশ শতকের রূপলাল হাউজ ইউরোপের রেনেসাঁ যুগের স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত৷ নদীর দিকে সম্মুখভাগে ভবনের চূড়ায় একটি বড় ঘড়ি ছিল, যা ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের ভূমিকম্পে ভেঙে পড়ে৷

মেয়র তাপস জানান, ‘‘নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর দুঃখজনকভাবে দেখলাম, লালকুঠি আর ঢাকা গেইটই শুধু করপোরেশনের আওতাধীন৷ রূপলাল হাউজসহ যে সব স্থাপনা ঢাকার অস্তিত্ব সৃষ্টি করেছে, ঢাকাকে পরিচিতি দিয়েছে, সেগুলো করপোরেশনের আওতাধীন নয়৷ তাই রূপলাল হাউজ দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় হস্তান্তর করতে আজকের অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্টদের যে দাবি, সেই দাবির সাথে আমিও একাত্মতা পোষণ করছি৷ রূপলাল হাউজ আমাদেরকে হস্তান্তর করলে আমরা এর পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করব৷ আমরা ঢাকার সকল ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও স্মৃতিস্তম্ভের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই৷'' 

অনুষ্ঠানে বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশ ও ভুটানের আবাসিক পরিচালক মারসি মিয়াং টেমবন ১৮৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত লালকুঠি এখনও টিকে আছে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং এই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সিটি করপোরেশনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন৷ আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘‘রূপলাল হাউজ অবৈধ দখলের কবলে রয়েছে৷ আমি মেয়রকে বলব, তা দখলদারমুক্ত করুন৷ এসব ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সিটি করপোরেশনের আওতায় নিয়ে আসুন৷'' 

প্রতিবন্ধীবান্ধব সদরঘাট

লালকুঠির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের প্রশংসা করে ইতিহাসের এই শিক্ষক-গবেষক বলেন, ‘‘জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমি দেখলাম, এটা (লালকুঠি) পরিবর্তন হচ্ছে, আমার মনটা ভরে গেল৷''

ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে গুরুত্ব দিয়ে সভায় বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘‘ঐতিহ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে আমার শহরে নিয়ে আসতে পারাটা যেমন মর্যাদার, তেমনি পর্যটক আকর্ষণের মাধ্যমে লাভবান হওয়াটা সম্মানেরও৷''

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের সভাপতি প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদা, বিশ্ব ব্যাংকের সাউথ এশিয়া সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের আঞ্চলিক পরিচালক জন রুম, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি ফজলে রেজা সুমন, দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ সভায় বক্তব্য রাখেন৷

এএস/এসিবি (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম)