এ যুগেও পিরিয়ডের সময় গোবর আর গাছের পাতা! | বিশ্ব | DW | 02.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আফ্রিকা

এ যুগেও পিরিয়ডের সময় গোবর আর গাছের পাতা!

স্যানিটারি ন্যাপকিন তাঁদের কাছে মহার্ঘ্য৷ পিরিয়ডের দিনগুলিতে তাঁরা ব্যবহার করেন পুরনো কাপড়, গোবর কিংবা গাছের পাতা! আন্তর্জাতিক ‘মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন' দিবসে উঠে এলো এই ছবি৷ 

স্যানিটারি প্যাড যেনো তাদের কাছে এক মহামূল্যবান বস্তু

স্যানিটারি প্যাড যেনো তাদের কাছে এক মহামূল্যবান বস্তু

এ যেন আদিম যুগে পড়ে থাকা!  তৃতীয় বিশ্বের গরীব দেশগুলিতে স্যানিটারি ন্যাপকিন এখনও অনেক মূল্যবান৷ সারা মাসে সামান্য সেই টাকাও জোটে না, যাতে স্যানিটারি ন্যাপকিন কেনা যায়! তাই আফ্রিকার গ্রামাঞ্চলের স্কুলপড়ুয়া বালিকারা নিজেদের জন্য বেছে নেয় পুরনো কাপড়, গোবর অথবা গাছের পাতা৷ আর এ সমস্যার একটা সহজ সমাধান হলো স্কুল কামাই করা! ভারত, বাংলাদেশের মতো আফ্রিকাতেও তাই ছাত্রীদের মধ্যে প্রায়ই স্কুল কামাই করা বা স্কুলছুটের সংখ্যাটা চোখে পড়ার মতো থাকে৷

বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলিতে আর্থিক কারণে এখনও মহিলারা কাপড় বা প্রাকৃতিক জিনিসে সুরক্ষা খোঁজেন৷ ‘মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন' বা মাসিকের দিনে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সম্পর্কে ধারণাটাই তাদের নেই৷ বিশ্বে উল্লেখযোগ্য হারে সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের বৃদ্ধির তথ্য তাঁদের জানা নেই৷ কিন্তু সঠিক ধারণা বা তথ্য জানা থাকলেও পিছিয়ে থাকা চিন্তাভাবনা আর অজ্ঞতার জন্য সমাজে স্যানিটারি ন্যাপকিন এখনও মেয়েদের মধ্যে গৃহীত হয়নি৷ আর তাই আন্তর্জাতিক ‘মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন' দিবসে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার, নাগরিক সমাজ এবং ব্যবসায়ীরা আফ্রিকার এই অঞ্চলের দারিদ্র্যপীড়িত মেয়েদের স্যানিটারি সমস্যা দূর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷

দক্ষিণ আফ্রিকায় জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) প্রতিনিধি লানগেলানি শিলুবানে মনে করেন, ‘‘মহিলাদের পিছিয়ে পড়ার কারণটাই হচ্ছে মাসিক সমস্যার যথেষ্ট সমাধান না থাকা৷'' তাঁর মতে, পিরিয়ড সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রায় ২৫ লক্ষ মেয়ে৷ এদের অনেকেই স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে পারে না আর্থিক কারণে, তাই স্কুল কামাই করে৷ কিন্তু তিনি মনে করেন, এ সমস্যা থেকে বেরোতে তাদেরই পদক্ষেপ নিতে হবে৷

জিম্বাবোয়ে, মোজাম্বিকের মতো গরিব দেশগুলিতে মেয়েরা কী ব্যবহার করেন? অনেকেই পুরনো তোয়ালের টুকরো ব্যবহার করে থাকেন৷ তবে সে ক্ষেত্রে সমস্যার খুব একটা সমাধান হয় না৷ সমাধান খুঁজতে এরা বেছে নেন ভিন্নতর পদার্থ, যা আধুনিক বিশ্বে অনেকে ভাবতেই পারবেন না৷ ওইসব দেশগুলিতে মহিলারা এখনো গোবর বা গাছের পাতাকে ব্যবহার করেন মাসিকের দিনগুলিতে৷

ভারত বা বাংলাদেশের মতো আফ্রিকারও ব্যাপক অঞ্চল জুড়ে আজও প্রচুর অন্ধবিশ্বাস এবং কুসংস্কার এই ব্যাপারটিতে ইন্ধন জুগিয়ে এটা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে বাধা দেয়৷ দক্ষিণ ভারতের অরুণাচলম্ মুরুগনন্থমের সস্তায় স্যানিটারি প্যাড তৈরি মহিলাদের আর্থিক সামর্থ্য বাড়ালেও সমাজে কতটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পেরেছে, সেই প্রশ্ন তোলে৷ সমাজের নেতিবাচক মনোভাব যে মেয়েদের সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে, তাতে দ্বিমত নেই৷

এ প্রসঙ্গে জোহান্সবার্গে মহিলা উন্নয়ন মন্ত্রী বাথাবাইল ড্লামিনি বলেন, ‘‘মাসিক সমস্যার সমাধান নিয়ে রীতিমতো সম্মেলন করা উচিত, যাতে সামাজিকভাবে তা গৃহীত হয়৷ এমনিতে সমাজের রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গির ভূমিকা রয়েছে এ ক্ষেত্রে৷ স্যানিটারি প্যাড কেনার সামর্থের কথা বাদ দিলেও সমাজের ট্যাবুর জন্য মহিলারা তা ব্যবহার করতে পারেন না৷''

জার্মান স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়াশ ইউনাইটেড-এর উদ্যোগে শুরু হয় ‘মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন' দিবস৷ এই সংগঠনের পক্ষে ইনা জুর্গা বলেন, ‘‘আমরা কমপক্ষে ২৪টি আফ্রিকান দেশের কথা জানি, যেখানে এই দিনটি পালিত হয়৷ বেনিন থেকে কিরিবাটি এবং চাদ থেকে জিম্বাবোয়ে– সর্বত্রই৷''

তাঁর মতে, কেনিয়ার গ্রামাঞ্চলে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন মহিলা মাসিকের দিনগুলিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারেন না৷ উগান্ডাতে ৭০ শতাংশ মেয়ে স্কুলে পড়তে পড়তে পিরিয়ডের মুখোমুখি হয়ে স্কুল কামাই করে৷

বিশ্ব ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নাইজেরিয়ার ২৫ শতাংশ মহিলা মাসিকের দিনগুলোতে অভাবের কারণে ঠিকঠাক পরিচ্ছন্নতামূলক পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন না৷

স্বাভাবিকভাবেই এ জন্য দরকার যথেষ্ট অর্থায়ন৷ শিলুবানে বলেন, ‘‘এরকম সমস্যার মোকাবিলা করতে সরকারকে এসব ক্ষেত্রে আরও বেশি করে অর্থ খরচ করতে হবে৷ এমনকি পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং স্যানিটারি ন্যাপকিনকে করমুক্ত করতে হবে৷''

পিএস/এসিবি (ডিপিএ, এএফপি)   

আপনি কি স্যানিটারি ন্যাপকিনকে করমুক্ত করার পক্ষে? জানান আপনার মতামত, নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন