এ দেশ যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতা বিরোধীদের নয় | বিশ্ব | DW | 04.04.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

এ দেশ যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতা বিরোধীদের নয়

সরকার না চাইলেও জামায়াত শিবির এবং হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে ২৫টি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন৷ বলেছে, বাংলাদেশকে কোনোভাবেই মৌলবাদী, স্বাধীনতা বিরোধীদের তুলে দেয়া যাবে না৷

হেফাজতে ইসলামের চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখে লং মার্চ শনিবার৷ তারা একদিন আগে শুক্রবার ঢাকার দিকে লং মার্চ নিয়ে আসা শুরু করবে৷ সরকার এ জন্য তাদের সব ব্যবস্থাই করে দিচ্ছে৷ মতিঝিল শাপলা চত্বরে শনিবার সারাদিন তাদের সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে৷ তাদের দাবি, শাহবাগের কথিত নাস্তিক, ব্লগারদের ফাঁসি দিতে হবে৷ আর তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে ১৮ দলও৷

তবে শেষ পর্যন্ত তাদের প্রতিরোধে মাঠে নেমেছে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ ২৫টি সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং পেশাজীবী সংগঠন৷ তারা শুক্রবার সন্ধ্য ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হরতাল ডেকেছে হেফাজতের লং মার্চ প্রতিহত এবং জামায়াত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে৷ ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, তারা সরকারের ভূমিকায় হতাশ হয়ে হরতালের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন৷ হেফাজতে ইসলাম তাদের ইচ্ছেমত ব্লগারসহ যে কাউকে নাস্তিক বলছে আর সরকারের পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে৷ শুধু তাই নয়, আটক ব্লগারদের ছবি সংবাদমাধ্যমকে দিয়ে তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে পুলিশ, জানিয়েছেন তিনি৷ কারণ মৌলবাদীরা তাদের চিনে নিল এবং নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর তারা মুক্তি পেলে তাদের ওপর হামলা করবে মৌলবাদীরা৷ তাই বলা চলে যে, সরকারই সেই সুযোগ করে দিল৷

তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম মূলত যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবিরকে রক্ষায় মাঠে নেমেছে৷ সে কারণেই তারা শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে৷ শাহরিয়ার কবির বলেন, কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন সফল হবে না৷ এ দেশে স্বাধীনতা বিরোধী- যুদ্ধাপরাধীদের নয়, এদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার৷ জামায়াত আর তাদের সহযোগী হেফাজতকে প্রতিরোধ করা হবেই৷ সরকার মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আপোষ করলেও দেশের মানুষ আপোষ করবে না৷

অন্যদিকে, শোলাকিয়ার ইমাম তৌদিহী জনতা সংহতি পরিষদের প্রধান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ ডয়চে ভেলেবে বলেন, দেশে আস্তিক-নাস্তিকের কোনো সংকট সৃষ্টি হয়নি৷ এটি জামায়াতের পক্ষ হয়ে হেফাজতে ইসলাম তৈরি করেছে৷ তারা জামায়াতকে রক্ষায় এই ইস্যু সৃষ্টি করে মাঠে নেমেছে, ইসলাম রক্ষায় মাঠে নামেনি৷ এছাড়া, তারা ব্লগারদের যে নাস্তিক বলছে তা তারা বলতে পারে না৷ ইসলাম এই ফতোয়া দেয়ার অধিকার কাউকে দেয়নি৷ গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তার প্রমাণ করেছে যে তারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে৷

এখানেই শেষ নয়, ব্লগারদের গ্রেফতারেরও সমালোচনা করেছেন মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ৷ তিনি বলেন, তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা যায় না৷ পুলিশ তাই করছে৷ হেফাজতকে খুশি করার এই প্রক্রিয়া অন্যায় বলে মনে করেন তিনি৷

ওদিকে, হেফাজতে ইসলাম ঘোষণা করেছে ২৫টি সংগঠন হরতাল প্রত্যাহার না করলে তারা ৭ই এপ্রিল থেকে লাগাতার হরতাল দেবে৷ জবাবে শাহরিয়ার কবির বলেন যে, কোনো হুমকির মুখে হরতাল প্রত্যাহার করা হবে না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন