এ কী হচ্ছে সাংবাদিকতায়! (ভিডিওসহ? ক্লিক করুন) | আলাপ | DW | 09.10.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

এ কী হচ্ছে সাংবাদিকতায়! (ভিডিওসহ? ক্লিক করুন)

শিরোনাম দেখে অনেক পাঠকই হয়তো আঁতকে উঠবেন৷ নিশ্চয়ই ভেতরে আহামরি কিছু রয়েছে৷ ভেতরে ভিডিওও থাকতে পারে, ফলে গোপন কিছু দেখার আগ্রহও আরো বেড়ে যাবে৷ আর এটাই হচ্ছে ক্লিকবেইট জার্নালিজম৷

শিরোনাম এবং প্রথম প্যারাতেই পাঠকদের বোঝাতে হবে সংবাদের মূল বিষয়টা কী৷ সেগুলো এমন আকর্ষণীয় হতে হবে, যাতে পাঠক শুরুতেই পুরো সংবাদ পড়তে আগ্রহী হয়ে ওঠেন৷ যারা সাংবাদিকতায় পড়াশোনা করেছেন, বা যারা অন্য বিষয়ে পড়াশোনা করলেও পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা বেছে নিয়েছেন, তাদের সবার সাংবাদিকতার অন্যতম এই ‘গোল্ডেন রুল’ জানা বাধ্যতামূলক৷

কিন্তু অনলাইন সাংবাদিকতার যুগে ছন্দ হারিয়ে শিরোনাম-টিজার-ইন্ট্রো পরিণত হচ্ছে বড়শিতে গাঁথা টোপের মতো৷ যত ভালো টোপ দেয়া যাবে, মাছ বড়শি গিলতে তত আগ্রহী হয়ে উঠবে৷ ফলে এখন প্রায়শই ‘এ কী করলেন’, ‘দেখুন ভিডিওসহ’ ইত্যাদি শিরোনাম পাঠকদের নজরে আসে৷ কিন্তু তাতে কী ক্ষতি? বিশাল ক্ষতি আছে, এবং সে ক্ষতি কেবল সাংবাদিকতার জন্য নয়, পাঠক, এমনকি পুরো সমাজের জন্যও৷

যে-কোনো সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক পাতায় চাঞ্চল্যকর, বিতর্কিত বা সেনসিটিভ ইস্যু নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের মন্তব্য সেকশনে যান৷ দেখবেন, অনেক পাঠকই কটূ মন্তব্য করছেন, সাংবাদিকদের গালি দিচ্ছেন, পক্ষপাতের অভিযোগ তুলছেন৷ যৌক্তিক আলোচনা বাদ দিয়ে বাজে ভাষায় নিজের ক্ষোভ ঝাড়তে আসা পাঠকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে৷ কিন্তু এর জন্য দায় কি কেবল পাঠকেরই?

অনেক পাঠকই নিজে যা ভাবছেন, সে অনুযায়ী সংবাদ প্রকাশ হলেই কেবল সাংবাদমাধ্যমকে নিরপেক্ষ ভাবেন৷ কিন্তু সংবাদমাধ্যমের কাজ কি পাঠককে খুশি করা? নাকি ‘নিরপেক্ষ' অবস্থান থেকে পাঠকের কাছে সত্য তুলে ধরা? সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে দ্বিতীয়টা সত্য হলেও ক্লিক কামানোর যুগে প্রথমটাই বেশি মুখ্য হয়ে উঠছে৷

বরগুনায় রিফাত হত্যাকাণ্ডের আসামী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির ঘটনাটাই উদাহরণ হিসেবে বলি৷ শুরু থেকেই মিন্নি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের কুৎসিত আক্রমণের শিকার হচ্ছেন৷ তিনি দোষী কি না, সেটা ঠিক করবে আদালত৷ সংবাদ মাধ্যম তার জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করবে৷ কিন্তু প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমগুলো অনেকটা সে পথে থাকলেও, পাঠক জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বী সংবাদমাধ্যমগুলোর অনেকেই গিয়েছে ক্লিকবেইটের পথে৷

‘এ কী করলেন মিন্নি (ভিডিওসহ)’, ‘মিন্নির গোপন তথ্য ফাঁস’, ‘মিন্নির বিয়ের বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন কাজী’ ইত্যাদি শিরোনামে শতশত সংবাদ প্রকাশ হয়েছে৷ এর ফলে সংবাদমাধ্যমগুলো সাময়িক কিছু ক্লিক পেলো বটে, কিন্তু তাতে সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন হলো? যে পাঠকেরা এটা পড়ে শেয়ার করলেন, তারা কি কখনো বুঝতে পারলেন মিন্নি অপরাধী হয়ে থাকলেও তারও নির্দিষ্ট কিছু অধিকার রয়েছে?

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনারভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ অ্যাকশনে গেছে৷ পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, কিন্তু সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা কী? এই ৩২ দিনে তো স্থানীয় পত্রিকাতেও কোনো সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বলে খবর পাইনি৷ এত বড় ঘটনা কোনো সাংবাদিক জানতেন না? নাকি ভিডিও ভাইরাল না হলে এই সংবাদ পাঠক ‘খাবে না' বলে কেউ আগ্রহই পাননি?

HA Asien | Anupam Deb Kanunjna

অনুপম দেব কানুনজ্ঞ, ডয়চে ভেলে

ভিডিও ভাইরালের পর বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যমে শিরোনামে লেখা হয়েছে, ‘গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন’৷ আমি ঠিক জানি না, এই সংবাদে ‘বিবস্ত্র’ শব্দটা আইন বা সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে কতটা জরুরি৷ কিন্তু পাঠকদের ‘আকৃষ্ট’ করতে এর ব্যবহার কারো কারো কাছে অতিপ্রয়োজনীয়৷

শারীরিক সম্পর্ক এবং ধর্ষণ এই দুটো বিষয়কে বাংলাদেশের অনেকেই এখনো আলাদা করে বুঝে উঠতে পারেনি৷ ফলে এ বিষয়ে মানুষের আগ্রহ থাকলেও তা প্রকাশের কোনো স্বাভাবিক উপায় নেই৷ বাংলাদেশে পর্নের চাহিদা বিশ্বের অন্য কোনো দেশের চেয়ে কম নয়, কিন্তু যৌন সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করাটা মহাপাপ হিসেবে দেখা হয়৷

সেই সুযোগ নিয়ে অনেক সংবাদমাধ্যম পাঠকদের সুরসুরি দিয়ে রগরগে সংবাদ প্রকাশ করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে চায়৷ কিন্তু এর ফলে আমরা কি একটা ধর্ষকামী সমাজ গড়ে তুলছি?

ভাইরালের পথে পাঠকও ছোটেন, সঙ্গে যদি সংবাদমাধ্যমও ছোটে তাহলে তো সমস্যা৷ সংবাদ প্রকাশ করার পাশাপাশি পাঠকদের রুচির পরিবর্তনে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও আলোচনাটা জরুরি৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন