এশিয়ায় আলোকচিত্র শিল্পের পথিকৃৎ দৃক | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 04.09.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

এশিয়ায় আলোকচিত্র শিল্পের পথিকৃৎ দৃক

বাংলাদেশে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন আনতে এবং এই দেশকে ইতিবাচকভাবে বর্হিবেশ্বে তুলে ধরতে ১৯৮৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করে দৃক৷ আলোকচিত্র গ্রন্থাগার হিসেবে কাজ শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি এখন ছড়িয়ে গেছে বিভিন্ন দিকে৷

১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বের দৃক যাত্রা শুরু করেছে ঠিক, তবে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলতে আরো আগেই কাজ শুরু করেছিলেন ড. শহিদুল আলম৷ এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কাজের দুটো দিক ছিল৷ প্রথম দিক হচ্ছে, সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনা৷ দ্বিতীয় দিক হচ্ছে, আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দেশকে নেতিবাচকভাবে দেখা হতো৷ বন্যা, মহামারি, দারিদ্র - এগুলোর কারণেই মানুষ বাংলাদেশকে চিনতো৷ এবং আমাদের ধারণা তখনও ছিল, এখনও আছে যে, পাশ্চাত্যের অধিকাংশ শেতাঙ্গ আলোকচিত্রী, যারা আমাদের দেশে এসে ছবি তুলে নিয়ে যান, তারা আমাদের দেশকে একভাবেই দেখান এবং দেখাতে চান৷ এবং তাদের মাধ্যমেই আমাদের এই (নেতিবাচক)পরিচিতিটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷''

Bürogebäude Drik Bangladesh

১৯৮৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করে দৃক

বাংলাদেশকে বিদেশিদের কাছে এই নতুন পরিচয়ে পরিচিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেন ড. আলম৷ গড়ে তোলেন একটি সুদক্ষ দল৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা যারা আমাদের দেশকে নিয়ে গর্ব করি, আমাদের দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সম্ভাবনা – এগুলো নিয়ে যারা ভাবি, তারা ভিন্নধরনের ছবি তুলবে, ছবি দেবে সেটা আশা করে এবং তাদের জন্য একটা কাঠামো তৈরি করি আমরা৷''

বলাবাহুল্য, বিশ্বের নামকরা আলোকচিত্র গ্রন্থাগারগুলো লন্ডন, নিউ ইয়র্ক বা প্যারিসের মতো শহরে অবস্থিত৷ এসব গ্রন্থাগারে রয়েছে আলোকচিত্র সম্পর্কিত আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা৷ শহিদুল আলম গ্রন্থাগার তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্বের বড় কোন দেশের কোন শহরকে বেছে নেননি৷ বরং নিজের দেশের রাজধানী ঢাকাতেই কাজ শুরু করেন তিনি৷ গড়ে তোলেন দৃক আলোকচিত্র গ্রন্থাগার৷ এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘শুরুতে ছোট আকারে আমরা কাজ শুরু করি৷ পাশ্চাত্যে আলোকচিত্র গ্রন্থাগারগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে৷ সেগুলো শুরুতে আমাদের ছিল না৷ ফলে অনেক কিছু আমাদের করে নিতে হয়েছে৷ এবং মানুষ গড়া থেকে শুরু করে যান্ত্রিকভাবে যা যা দরকার, সবকিছু আমরা নিজেরা করেছি৷ এমনকি আমাদের গ্যালারির যে টালিগুলো, সেগুলো আমাদের পেছনের বাগানে নিজেদের হাতে গড়া৷''

অডিও শুনুন 03:59

সাক্ষাৎকারটি শুনতে ক্লিক করুন এখানে

২৩ বছর আগে গড়ে ওঠা দৃকের কর্মপরিধি এখন অনেক বিস্তৃত৷ বিশেষ করে এটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাঠশালা, ছবিমেলা, মেজরিটি ওয়ার্ল্ড, দৃকনিউজসহ বিভিন্ন উদ্যোগ৷ এই প্রসঙ্গে ড. আলম বলেন, ‘‘আমাদের ছবি সারা পৃথিবীতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আমরা বাংলাদেশে ই-মেল চালু করি৷ সেটা তিরানব্বইয়ের শেষে-চুরানব্বইয়ের শুরুর দিকের কথা৷ এখন যে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলা হয়, সেটা কিন্তু আমরা সেই ১৯৯২-১৯৯৩ সালের দিকেই চালু করেছি৷''

তিনি বলেন, ‘‘(আলোকচিত্র গ্রন্থাগার) গড়তে গিয়ে আমরা আরো কিছু জিনিসের প্রয়োজন অনুভব করেছি৷ তার মধ্যে একটা হচ্ছে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা৷ প্রথমে আমরা দৃকেই প্রশিক্ষণ দিতাম৷ পরবর্তীকালে পাঠশালা – আমাদের শিক্ষাঙ্গন – সেটাকে শুরু করা হয়৷ আরেকটি হচ্ছে আমাদের ছবিমেলা৷ যেটা প্রতি দু'বছর অন্তর হয়৷ এটা এশিয়ার প্রথম ছবিমেলা৷ এবং এটা এখন পৃথিবীতে একটি ভিন্ন আলোকচিত্র উৎসব হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে৷ এছাড়া আরো অনেক বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছি আমরা৷''

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন