এমন মায়ের গল্প আর কখনো জানতে চাই না | আলাপ | DW | 11.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

এমন মায়ের গল্প আর কখনো জানতে চাই না

পৃথিবীতে কোনো মায়ের কাছে তার সন্তানের চেয়ে আপন কি কেউ আছে? মা কি তার সেই নাড়ি ছেঁড়া ধনকে খুন করতে পারে? হ্যাঁ, জার্মানিতে এমনই এক ঘটনা ঘটেছে৷

পাঁচ সন্তানকে হত্যা করা মা এই ভবনের এক অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন

পাঁচ সন্তানকে হত্যা করা মা এই ভবনের এক অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন

এক মা তার পাঁচ শিশু সন্তানকে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত৷ এমন ঘটনার কারণ কী হতে পারে?

সম্প্রতি জলিঙ্গেন শহরে এক মা তার পাঁচ সন্তানকে খুন করার খবরটা পড়ে আঁৎকে উঠেছিলাম৷ কেন সেই মা তার শিশু সন্তানদের খুন করলো? আর সন্তানদের হত্যা করার পর তিনি নিজেই বা কেন ট্রেনের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন? কী কারণ থাকতে পারে অনেক ভেবেও কোনো কুল কিনারা পাইনি৷ ছয় সন্তানের পাঁচজনকে খুন করে মা নিজে আত্মহত্যার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আছে৷

জার্মানিতে জটিল বা ভয়ংকর কোনো কিছু ঘটলে আমি সাধারণত আমার জার্মান প্রতিবেশী বা বন্ধুদের কাছ থেকে সেসব বিষয়ে তাদের মতামত বা অভিজ্ঞতা জানার চেষ্টা করি৷ এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি৷

আমাদের খুব পছন্দের একজন প্রতিবেশী ডাক্তার হর্স্ট লিংকার তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে বললেন, ‘‘মা সন্তানকে খুন করেছে, এরকম ঘটনা এর আগেও বেশ কয়েকবার দেখেছি৷ এরকম মর্মান্তিক ঘটনার জন্য শুধু মা-কে দোষ দেয়া যায় না৷ সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা নেই, এ কথা মোটেই ঠিক নয়৷ মাত্র ২৭ বছর বয়সি এক মা এতগুলো শিশু সন্তান নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি আর পরিবেশের চাপ সামলে উঠতে না পেরে হয়ত এমন ঘটনা ঘটিয়েছে৷’’ 

ডাক্তার লিংকার আরো বললেন, ‘‘সামাজিক বা পারিবারিকভাবে যারা অবজ্ঞা আর অবহেলার শিকার হয় তারা অনেক সময় মৃত্যুকেই সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করে থাকে৷’’ তার সাথে দীর্ঘ আলাপে আমার মনে হলো, এসব ঘটনার জন্য অনেক সময় আশেপাশের পরিবেশের অনেকটাই ভূমিকা থাকে৷

‘‘খবরটি শুনে আমি একেবারে স্তম্ভিত!’’ এভাবেই শুরু করেন সাবেক স্কুল শিক্ষক মারিয়ানে৷ অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও বিষন্নতা থেকে এমনটা ঘটতে পারে বলে তিনি মনে করেন৷ কোনো বিষয়ে কেউ অতিরিক্ত বিষণ্ণ বা অবসাদগ্রস্ত হলে তাদের কেউ সাহায্য করতে পারবে না ভেবে তারা এতটাই আগ্রাসী হয়ে ওঠে যে, মৃত্যুচিন্তাও থামাতে পারে না৷ এ মায়ের ক্ষেত্রেও এমনটা হতে পারে বলে মারিয়ানের ধারণা৷ বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন একটি ঘটনায় করোনার কিছুটা ভূমিকা থাকতেও পারে বলে তিনি মনে করেন৷

প্রায় একই কথা বলেন মার্গারিটা জুন্ডাকেম্পারও৷ মারিয়ানের কথার সাথে আরো একটু যোগ করে তিনি বলেন,  পারিবারিক বন্ধন ভেঙে যাওয়ায় অনেক সময় শুধু মা নয়, বাবাদের কেউ কেউও তাদের স্ত্রীর প্রতি প্রতিশোধ নিতে সন্তানকে হত্যা করেছে, এমন ঘটনা তিনি আগেও শুনেছেন৷ তবে মার্গারিটা এসবের জন্য জার্মানদের পারিবারিক শিক্ষাকে কিছুটা হলেও দায়ী করতে চান৷ তিনি এই প্রজন্মের জার্মানদের মধ্যে ধৈর্য ও ভদ্রতাজ্ঞানের ঘাটতির জন্য আক্ষেপ করেন৷  

আমার আরেক প্রতিবেশী আন্দ্রেয়াস লাউটারবাখ এ বিষয়ে বলেন, ছয় সন্তানের মা ক্রিস্টিয়ানের সংসার ভাঙা একক মা জীবন এতটাই অগোছালো ছিল যে, অবুঝ বাচ্চাদের নিয়ে সবকিছু সামাল দিতে পারেনি, অন্যদিকে কারো সাহায্যও সে নিতে চায়নি৷ শেষ পর্যন্ত সবকিছুর চাপ সহ্য করতে না পেরে নিজের সন্তানদের জীবন কেড়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সমাধান খুঁজেছে বলে মনে করেন আন্দ্রেয়াস৷ প্রতিবেশী বা কাছের মানুষদের সাথে সুসম্পর্ক থাকলে পরিস্থিতি হয়ত এতদূর গড়াতো না৷ আন্দ্রেয়াসের বিশ্বাস, দুঃখ ভাগাভাগি করলে কষ্ট অনেকটাই কমানো সম্ভব৷ এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয়, এর আগেও তিনি দেখেছেন৷

Nurunnahar Sattar, DW-Mitarbeiterin Bengali Programm

নুরুননাহার সাত্তার, ডয়চে ভেলে

আসলে এরকম ঘটনায় আমরা সাধারণ মানুষ প্রথমেই মায়ের দোষ খুঁজি, ঘটনার পেছনের কারণ জানার তেমন আগ্রহ থাকে না৷ ডয়চে ভেলেতে চাকরির সুবাদে আমার এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অনেক মায়ের সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে, তাদের সাথে সন্তানদের গভীর সম্পর্কের নানা গল্প শুনেছি৷ তাই আমার মনে হয়, স্থান-কাল ভেদে সন্তান লালন-পালনে মায়েদের মধ্যে ভিন্নতা থাকতেই পারে, তবে নিজের সন্তানকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে মায়ের ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, কিংবা দেশ- এসবের তেমন কোনো ভূমিকা নেই৷ সন্তানের ভালো-মন্দে বিদেশি মায়েদেরকেও আমার মতো করেই ভাবতে দেখেছি৷ নিজেদের মতো করে সব মা-ই তাদের সন্তানকে ভালোবাসেন৷ তবে কখনো পরিস্থিতি আর পরিবেশের চাপে পড়ে তারা কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে এরকম মর্মান্তিক কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেন৷ ডাক্তার লিংকারের সাথে সুর মিলিয়ে আমারো বলতে ইচ্ছে করছে, আশেপাশের মানুষ,  প্রতিবেশী বা পরিচিতদের প্রতি আমরা কিছুটা সহনশীল হলে এরকম বড় দুর্ঘটনা কিছুটা হলেও ছোট করে আনা সম্ভব৷ এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক আমি তা কখনোই চাই না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়