এমন আদেশে কি অপরাধ কমবে? | বিশ্ব | DW | 30.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

এমন আদেশে কি অপরাধ কমবে?

সিলেটের এমসি কলেজ হোস্টেলে ধর্ষণের ঘটনার পর মাউশি দেশের সব কলেজে বহিরাগতদের প্রয়োজন ছাড়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে৷ পুলিশের টহলও বাড়ানো হচ্ছে৷

এমসি কলেজের সামনে প্রতিবাদ

এমসি কলেজের সামনে প্রতিবাদ

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) মঙ্গলবার মোট ৯ দফা নির্দেশ দেয়৷ তাতে বলা হয়, করোনার কারণে ১৮ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে৷ তাই ক্যাম্পাসগুলোতে নিরাপত্তা বজায় রাখাসহ কলেজের সকল সরকারি সম্পদ ও সরঞ্জামের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সচেষ্ট থাকতে হবে৷

নির্দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: কলেজ ক্যাম্পাসে বিনা প্রয়োজনে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে, ছাত্রাবাসসমূহ বন্ধ রাখতে হবে এবং ছাত্রাবাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকসহ সকল প্রবেশপথে সার্বক্ষণিক প্রহরী নিয়োজিত রাখতে হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে পুলিশ টহল জোরদার করতে হবে৷ এসব নির্দেশের চিঠি দেশের সব কলেজের অধ্যক্ষদের পাঠানো হয়েছে৷

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম মো. ফারুক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সিলেট এমসি কলেজের ঘটনাই বলে দেয় দেশের অনেক কলেজ ক্যাম্পাসেরই পরিস্থিতি ভালো না৷ আরো কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি৷ আর এই করোনার সময় হোস্টেল খোলা থাকার কথা নয়৷ তাই সব দিক বিবেচনা করে ওই নির্দেশগুলো দেয়া হয়েছে৷ যাতে পরিস্থিতির আর অবনতি না ঘটে৷’’

অডিও শুনুন 00:51

এমসি কলেজের ঘটনাই বলে দেয় অনেক কলেজ ক্যাম্পাসেরই পরিস্থিতি ভালো না: মহাপরিচালক

শুধুমাত্র এমন নির্দেশ দিয়ে পরিস্থিতি ভালো রাখা যাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ক্ষমতার মধ্যে যা আছে তা আমরা করার চেষ্টা করছি৷ বাকিটা দেখার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর৷’’

সিলেট এমসি কলেজ হোস্টেলে ধর্ষণের ঘটনায় যে ছয় জনকে আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে মাত্র একজন কলেজের নিয়মিত ছাত্র৷ তিনজন প্রাক্তন ছাত্র এবং দুইজন অছাত্র বহিরাগত বলে জানিয়েছেন ওই হোস্টেলের সুপার অধ্যাপক জামাল উদ্দিন৷ তিনি অবশ্য ঘটনার সময় ছুটিতে ছিলেন বলে জানান৷ কিন্তু এই করোনার সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, হোস্টেলও বন্ধ, তারপও দুর্বৃত্তরা সেখানে কিভাবে ছিল জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ‘‘তারা বাইরে থেকে এসে ঘটনা ঘটিয়ে আবার চলে যায়৷ হোস্টেলে অবস্থান করতো না৷’’ কিন্তু ঘটনার পর হোস্টেল খালি করার নির্দেশ দিলে হোস্টেল থেকে অনেক ছাত্রকে তখন বের হয়ে যেতে দেখা যায়৷ তারা  কীভাবে ছিলেন? এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি৷ তবে কলেজের অধ্যক্ষ সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘আমরা বহিরাগতদের ব্যাপারে পুলিশেও আগে খবর দিয়েছি, কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয় নি৷ করোনার সময় গেটে তালা মেরে রাখলেও তারা তালা ভেঙে ঢুকেছে৷ তাদের রাজনৈতিক প্রভাব আছে৷ আমি অসহায়৷’’

অডিও শুনুন 02:10

এটা বন্ধ করতে হলে বড় অপরাধী বা গডফাদারদের শাস্তি দিতে হয়: ড. কায়কোবাদ

এদিকে আরো কিছু কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই করোনার মধ্যেই সেখানকার হোস্টেলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ রাজনৈতিক প্রভাবে অবস্থান করছে৷ তারা সেখানে নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজেও জড়িয়ে পড়ছে৷

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসকেন্দ্রিক অপরাধ, চাঁদাবাজি একটি ‘প্রচলিত’ অপরাধ হিসেবেই অব্যাহত আছে৷ সিলেটে ধর্ষণ মামলার আসামি ছাত্রলীগের সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে হোস্টেলের হাউজ টিউটরের বাংলো দখলেরও অভিযোগ আছে৷ স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, সাবেক কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা ওই এলাকায় তাদের ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে এই হোস্টেলটি ব্যবহার করে আসছিল৷ ধর্ষণ মামলার আসামিরা তাদেরই ক্যাডার৷

শিক্ষাবিদ ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, ‘‘হল, হোস্টেল কারা দখল করে? ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন৷ এখন তাই ছাত্রলীগের দখলে আছে৷ এটা রাজনৈতিক একটা বিষয়৷ এই ছাত্রদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হয়৷ সুতরাং, মাউশির একটা নির্দেশ কতটা কাজে আসবে তা নিয়ে আমার সংশয় আছে৷’’

তিনি বলেন, ‘‘যখন অপরাধীরা শাস্তি না পায়, তখন এই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়৷ আর এটা বন্ধ করতে হলে বড় অপরাধী বা গডফাদারদের শাস্তি দিতে হয়৷ কিন্তু এটা কি এখানে হবে? আমরা কখনো কখনো কিছু ছোট খাট অপরাধীকে শাস্তি পেতে দেখি৷ শাস্তির মাত্রা খুবই কম৷ ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অপরাধ কমে না৷’’

গতবছরের ৯ অক্টোবরের ছবিঘরটি দেখুন...

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন