এবার ‘বড়দের’ বিশ্বকাপও জিততে হবে বাংলাদেশকে | বিশ্ব | DW | 10.02.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

এবার ‘বড়দের’ বিশ্বকাপও জিততে হবে বাংলাদেশকে

স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছে বাংলাদেশ৷ আনন্দের আতিশয্যে এখন ‘আসল’ লক্ষ্য থেকে সরে যাবে না তো? এবার তো বড়দের বিশ্বকাপটাও জিততে হবে!

ফাইনালে ভারতকে একরকম নাস্তানাবুদ করে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ৷ বোলিং, ফিল্ডিং, ব্যাটিং সব বিভাগেই ভারতকে কুপোকাত করেছে আকবর আলীর দল৷ শরিফুল, ইমন, অভিষেক, রকিবুলদের দেখে মনে হয়েছে ক্রিকেটে আরো বড় প্রাপ্তির কাছাকাছি চলে এসেছে বাংলাদেশ৷

আরো বড় প্রাপ্তি মানে, সাফল্যে ধারাবাহিক হয়ে ক্রিকেট দুনিয়ার ‘এলিট’ শ্রেণিতে জায়গা পাকা করে নেয়া৷ তা করতে হলে ওয়ানডে বিশ্বকাপটাও এবার জিততে হবে৷

টেস্ট আর টি-টোয়েন্টির চেয়ে বাংলাদেশ ওয়ানডেতে বরাবরই ভালো৷ ভালো হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাশরাফি এবং মাহমুদুল্লাহ৷ গত কয়েকবছরে যত সাফল্য, তার প্রায় সবই এসেছে এই পাঁচজনের হাত ধরে৷ তাদের শূন্যস্থান পূরণের জন্য তেমন কেউ এগিয়ে আসছেন না, বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই সংখ্যা ক্রমশ বড় হচ্ছিলো৷ এবার অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে তা দূর হবার আশা দেখা গেছে, মনে হয়েছে এই দলের কয়েকজন অন্তত অনেকদূর যাবেই৷

কোনো সাফল্য এলে মাতামাতি, প্রশংসা আর পুরস্কারের বাড়াবাড়ি শুরু হতে দেরি হয় না৷
বিশ্বকাপজয়ী দলটার প্রশংসা এবং পুরস্কার অবশ্যই প্রাপ্য৷ তবে যে-কোনো কিছুই অতিরিক্ত হয়ে গেলে ফলাফল ভালো হয় না, এই কথাটা মনে রাখা দরকার৷ 



অনূর্ধ্ব ১৯ দলের খেলোয়াড়দের ইতিমধ্যে 'সোনালি প্রজন্ম' বলা শুরু হয়ে গেছে৷ অধিনায়ক আকবর আলীকে আকবর দ্যা গ্রেট বলতে শুরু করেছেন কেউ কেউ৷ কেউ কেউ আকবরের মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনিকে৷

বিশ্বকাপ এনে দিলেন যারা, তাদের নিয়ে গর্ব তো হবেই৷ অবশ্যই তারা সোনালি প্রজন্ম৷ কিন্তু মনে রাখতে হবে, ফুটবলে পর্তুগাল এমনই একটা প্রজন্ম পেয়েছিল৷ দেশকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ গিয়েছিল তারা৷ কিন্তু বিশ্বকাপে তারা কোনোদিন পাত্তাই পায়নি৷

অসাধারণ, গ্রেট ইত্যাদি শব্দগুলো অতি ব্যবহারে কখনো কখনো খুব ক্লিশে হয়ে যায়৷ শব্দের ভারে, অতি স্বীকৃতির চাপে চাপা পড়ে যায় অনেক ক্রিকেট-প্রতিভা৷

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রায় প্রতি আসরেই কেউ না কেউ মহাতারকা হওয়ার সম্ভাবনা দেখিয়েছেন,  ফাইনালে সেঞ্চুরি করে বা পাঁচ উইকেট নিয়ে সাড়া জাগিয়েছেন ৷  অথচ ফাইনালের সেই ম্যাচ-সেরাদের অনেকের এখন কোনো পাত্তাই নেই৷

১৯৯৮-এর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে সেঞ্চুরি করে ইংল্যান্ডকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন স্টিফেন পিটার্স৷ অনেক মাতামাতি হয়েছিল তাকে নিয়ে৷ সেই পিটার্সের পক্ষে ইংল্যান্ড জাতীয় দলে খেলার সুযোগ কোনোদিনই হয়নি৷



দুই বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে জ্বলে উঠেছিল নীরজ প্যাটেলের ব্যাট৷ ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হয়েছিলেন তিনি৷ ভারতের ক্রিকেটে তিনিও এখন দপ করে জ্বলে উঠে ফুস করে নিভে যাওয়ার দৃষ্টান্ত৷ জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি কিছুই খেলা হয়নি তার৷

২০০২-এর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া৷ ৪ উইকেট নিয়ে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন জারার্ড বার্ক৷ নিজেকে আর মেলে ধরতে না পারায় বার্কের ক্যারিয়ারও আর এগোয়নি৷ দেশের হয়ে টেস্ট, ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন তার জীবনেও অধরাই থেকেছে৷

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ মাতানো পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অবস্থা আরো করুণ৷

২০০৪ এবং ২০০৬- টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন তারা৷ ২০০৪-র ফাইনালে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে প্রথম অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন আসিফ ইকবাল৷ পরের আসরের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে জয় এনে দিয়েছিলেন আনোয়ার আলী৷ দুজনের একজনও পরে একবারের জন্যও‌ জাতীয় দলে  ডাক পাননি৷ দুবারে ফাইনাল খেলা ২২ জনের মধ্যে শুধু ফাওয়াদ আলম এবং নাসির জামশেদই তিন ফরম্যাটে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার অল্পবিস্তর সুযোগ পেয়েছেন৷

ভারতকে ২০০৮ বিশ্বকাপ জেতানো অজিতেশ আরগান, ২০১২ বিশ্বকাপ জেতানো উন্মুক্ত চান্দ, সাউথ আফ্রিকাকে ২০১৪ বিশ্বকাপ জেতানো করবিন বশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০১৬ বিশ্বকাপ জেতানো কিসি কার্টিও একই পথের পথিক৷ অনূর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ জেতার পর তারা সবাই বিস্মরণের পথেই হেঁটেছেন৷ দেশের হয়ে আর কিছু করতে পারেনি, তাদের কথা কেউ খুব বেশি মনেও রাখেনি৷

Ashish Chakraborty (DW/T. Mehedi)

আশীষ চক্রবর্ত্তী, ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগ

ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া আর ভারতকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতানোদের কেউ কেউ হারিয়ে গেলেও সেই দেশগুলোর ক্রিকেট তাতে পিছিয়ে পড়েনি৷ এর কারণ তাদের ঘরোয়া ক্রিকেট৷ সেখানে খুব প্রতিযোগিতামূলক খেলা হয়৷ খেলা হয় স্পোর্টিং উইকেটে৷ পাতানো ম্যাচ হয় না৷ ফলে দু-চারজন ঝরে পড়লেও কিছু আটকে থাকে না৷

কিন্তু পাকিস্তান বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাপারটা ওরকম নয়৷ তাই ভালো অভিভাবকত্ব, ভালো পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কয়েকজন সম্ভাবনাময় খেলোয়ার হারিয়ে গেলেই লম্বা সময়ের জন্য সেখানে বড় একটা শূন্যতার সৃষ্টি হয়৷ পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজে প্রতিভার ঘাটতি আগে ছিল না, এখনো হয়তো নেই৷ শুধু অগোছালো, পরিকল্পনাহীন ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্যই তাদের উজ্জ্বল ঐতিহ্য ক্রমশ ফিকে হচ্ছে৷

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটও খুবই দুর্বল কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে৷ দেশে পাটা উইকেটের ছড়াছড়ি৷ পাতানো ম্যাচও হয় নিয়মিত৷ তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ যে তরুণদের এমন একটা দল গড়তে গড়তে পেরেছে এটা দারুন সৌভাগ্যের৷

আকবর আলীর দলটা বাংলাদেশের জন্য অমূল্য সম্পদ৷ তাদের উপযুক্ত মর্যাদা এবং পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে রক্ষা করতেই হবে৷ পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটকেও ঢেলে সাজানো শুরু করতে হবে তাড়াতাড়ি৷ এত বড় সাফল্যের পর আবার 'যেই লাউ সেই কদু' হওয়া যাবে না৷ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের পথ রচনা শুরু করতে হবে এখন থেকেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন