এবার তথ্য জমা রাখতে মুশকিল আসান ডিএনএ! | অন্বেষণ | DW | 30.08.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

এবার তথ্য জমা রাখতে মুশকিল আসান ডিএনএ!

ফ্লপি ডিস্ক, সিডি, ডিভিডি, ব্লু রে-র পর মেমরি স্টিকের যুগ এলো৷ এখন সলিড স্টেট ডিস্কের মধ্যে এক টেরাবাইট বা তারও বেশি তথ্য জমা রাখা যাচ্ছে৷ কিন্তু তাতেও কুলোচ্ছে না৷ এবার ডিএনএ-র মধ্যে বিশাল পরিমাণ তথ্য ভরার চেষ্টা চলছে৷

রোব্যার্ট গ্রাস জুরিখ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নের প্রোফেসর৷ অন্যান্য গবেষকদের সঙ্গে মিলে তিনি এমপিথ্রি-র মতো ডিজিটাল ফাইল সংরক্ষণের এমন এক প্রক্রিয়া সৃষ্টি করেছেন, যার আওতায় কৃত্রিম জিনোমের মধ্যে তথ্য রাখা যায়৷

একটি ডিএনএ অণু এ, সি, টি এবং জি নামের চারটি নিউক্লিয়াসের ভিত্তিতে তৈরি৷ শূন্য ও এক দিয়ে তৈরি বাইনারি কম্পিউটার কোডগুলি একটি করে ভিত্তির সঙ্গে যুক্ত৷ তারপর এক সিন্থেসাইজার ডিএনএ-র কৃত্রিম স্ট্র্যান্ড বা শৃঙ্খল সৃষ্টি করে৷ তার উপর কম্পিউটার ফাইল মজুত রাখা হয়৷ পরে কোনো এক সময় তা খোলা সম্ভব৷

এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল৷ মাইক্রোসফটের মতো তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি ডিএনএ-র মধ্যে তথ্য জমা রাখার প্রক্রিয়ায় বিশাল বিনিয়োগ করছে৷ এমন উদ্যোগের প্রয়োজন আছে বৈকি! রোব্যার্ট গ্রাস বলেন, ‘‘প্রতি বছর কম্পিউটারের ধারণক্ষমতা ও গতি বেড়ে চলেছে৷ আমরা তাতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি৷ একইসঙ্গে আমরা জানি, যে বর্তমান কম্পিউটারের গঠনগত বৈশিষ্ট্যের একটা সীমা রয়েছে৷ অনন্তকাল ধরে সেই ক্ষমতা বাড়িয়ে চলা সম্ভব নয়৷ সে কারণে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প জীববিদ্যা বা রসায়নের ক্ষেত্রে গঠনগত বৈশিষ্ট্যের দিকে নজর দিচ্ছে৷ এই সব জগতে তথ্য সংরক্ষণের কায়দা অনুকরণের চেষ্টা চলছে৷ এমন চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রে ডিএনএ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে৷''

ভিডিও দেখুন 04:21

তথ্য সংরক্ষণের অভিনব উপায়

বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ডিএনএ অনুকরণযোগ্য হতে পারে৷ কারণ মানবজাতির মধ্যে চিরকাল নিজস্ব জিনোম বিশ্লেষণের আগ্রহ থাকবে৷ তাই ভবিষ্যতেও ডিএনএ বিশ্লেষণ করার যন্ত্র থাকবে৷ তাছাড়া ডিএনএ অণুর বিস্ময়কর আয়ুর বিষয়টিও ভুললে চলবে না৷ প্রাচীন বরফের নীচে ম্যামথ বা অন্যান্য প্রাণীর জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানতে পেরেছেন, যে হাজার হাজার বছর ধরে ডিএনএ অক্ষত থাকতে পারে৷

কিন্তু সমস্যা হলো, একমাত্র আদর্শ পরিবেশেই হাড়ের মধ্যে জিনগত তথ্য অবিকৃত থাকে৷ এমনকি ল্যাবেও কয়েক মাসের মধ্যে ডিএনএ অণু নষ্ট হয়ে যায়৷ রোব্যার্ট গ্রাস মনে করেন, ‘‘এক ধরনের কৃত্রিম জীবাশ্ম এই সমস্যার সমাধান করতে পারে৷ আসলে আমরা হাড়ের বৈশিষ্ট্য নকল করার চেষ্টা করছি৷ এক টুকরো ক্যালসিয়াম ফসফেটের মধ্যে ডিএনএ থাকে৷ আমরা অতি ক্ষুদ্র কাচের বল তৈরি করেছি, যার মধ্যে ডিএনএ স্ট্র্যান্ড বা শৃঙ্খল বসানো রয়েছে৷''

কাচের মধ্যে সংরক্ষণ করে ডিএনএ হাজার বছর ধরে অক্ষত রাখা যাবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ কাচের এই গ্লোবিইউল বা ক্ষুদ্র বল একমাত্র ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের নীচে দেখা সম্ভব৷ প্রত্যেক গ্লোবিইউলের মধ্যে ১০ কিলোবাইট তথ্য রাখা যায়, যা দুটি হরফের সমান৷ রোব্যার্ট গ্রাস বলেন, ‘‘এই ছবিতে একটি বইয়ের বিশ বা ত্রিশটি পাতা দেখা যাচ্ছে৷ তবে মনে রাখতে হবে, যে এই সব কণা দুই লাখ গুণ বড় করে দেখানো হচ্ছে৷ সেগুলি সত্যি অত্যন্ত ক্ষুদ্র৷ জুম কমিয়ে এই বিশ থেকে ত্রিশ পাতা থেকে কিছুটা পিছিয়ে এলে পর্দার মধ্যে একটা গোটা বই দেখা যাবে৷ আরও পিছিয়ে এলে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে একটা গোটা লাইব্রেরি পর্দার মধ্যে এঁটে যাবে৷ আরও পিছোলে কোটি কোটি ক্ষুদ্র গ্লোবিউল ভরে যেতে পারে৷ সামান্য কয়েকটি ধুলিকণার মধ্যে সম্ভবত একটা গোটা লাইব্রেরি স্থান পাবে৷''

আপাতত এভাবে কয়েকশো মেগাবাইট জমা রাখা যাচ্ছে৷ এক কণা ডিএনএ-র মধ্যে গোটা লাইব্রেরি ভরতে এখনো আরও অনেক কাজ বাকি৷

ভিংকলার/ম্যারৎস/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন