এবার একসঙ্গে সৌদি আরব ছাড়লেন দুই বোন | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 19.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সৌদি আরব

এবার একসঙ্গে সৌদি আরব ছাড়লেন দুই বোন

সৌদি আরব থেকে পালিয়ে আসা দুই তরুণীকে সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে জর্জিয়া৷ সৌদি আরবে ফেরত পাঠানো হলে ঝুঁকির মুখে পড়বে এমন দাবি করে গত সপ্তাহে তাঁরা আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছিলেন৷ 


সৌদি আরব থেকে জর্জিয়ায় পালিয়ে এসেছিলেন দুই বোন মাহা আল সুবাই (২৮) এবং ওয়াফা আল সুবাই (২৫)৷ গত বুধবার তাঁরা টুইটারে এই খবর জানিয়ে নতুন কোনো দেশে বসবাসের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানান৷ এরই মধ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাঁদের পাসপোর্ট স্থগিত করেছে বলেও দাবি তাঁদের৷ টুইটারে পোস্ট করা ভিডিওতে মাহা বলেন, ‘‘আমরা বিপদে আছি৷ আমাদের মত প্রকাশের জন্য আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন৷ আমরা চাই কোনো দেশ আমাদের স্বাগত জানাক এবং আমাদের অধিকার রক্ষা করুক৷ অনুগ্রহ করে আমাদের সহযোগিতা করুন৷’’

এমন আবেদনের প্রেক্ষাপটে জর্জিয়া সরকার বৃহস্পতিবার তাঁদের সহযোগিতা দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে৷ রাজধানী বিলিসিতে তাঁদের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে দেখা করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ৷ কিভাবে আশ্রয়ের আবেদন করতে হবে সে বিষয়ক তথ্য তাঁদের জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে জর্জিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ ‘‘দুই নারীকে সহযোগিতার প্রস্তাব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়ার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাঁদের সাথে দেখা করেছে,’’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়৷ 

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুই বোনকে একটি নিরাপত্তা ভ্যানে করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন অভিবাসন কার্যালয়েনিয়ে যাওয়া হয়৷ তাঁরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও মন্ত্রণালয় অবশ্য বলছে, এই দুজনের কোনো আত্মীয় জর্জিয়ায় নেই, যাদের মাধ্যমে কোনো বিপদ হতে পারে৷

তাঁদের পাসপোর্ট স্থগিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে সৌদি দূতাবাস৷ এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, মাহা এবং ওয়াফার পাসপোর্ট এখনো কার্যকর রয়েছে৷ দুই বোনের এমন দাবির কোনো সত্যতা নেই বলেও উল্লেখ করেছে সৌদি দূতাবাস৷  তবে জর্জিয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ৷ এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা৷ 

সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, কোনো নারীকে কাজ, বিয়ে বা ভ্রমণের জন্য পুরুষ অভিভাবকের অনুমতিপত্র রাখতে হবে৷ বিভিন্ন অধিকার সংস্থাগুলো এই নিয়মের সমালোচনা করে আসছে৷ তাদের মতে, এই ব্যবস্থায় অনেক পরিবারে নারীদের বন্দি জীবন কাটাতে হয়৷ 

এই নিয়ম উপেক্ষা করে দেশটি থেকে পালিয়ে আসার ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়৷ চলতি বছরের জানুয়ারিতে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক বিমানবন্দরে পালিয়ে এসেছিলেন রাহাফ আল কুনুন নামের আরেক নারী৷ তিনিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছিলেন৷ পরে ক্যানাডা তাঁর এই আবেদন গ্রহণ করে৷

তবে সবার ক্ষেত্রে এমন ভাগ্য হয় না৷ যেমন দিনা আলি লাসলুম৷ ২০১৭ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেয়ার উদ্দেশ্যে সৌদি আরব থেকে পালিয়ে ফিলিপাইন্সের ম্যানিলায় আসেন৷ কিন্তু সেখান থেকে তাঁকে পরিবারের পুরুষ সদস্যের হাতে তুলে দেয়া হয়৷ 

এফএস/এসিবি (রয়টার্স)
 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন