এবার ইউরোপে হানা দিয়েছে করোনাভাইরাস | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 25.01.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস

এবার ইউরোপে হানা দিয়েছে করোনাভাইরাস

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস৷ ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে প্রথমবারের মতো এই ভাইরাস আক্রান্ত তিনজনকে শনাক্ত করেছে ফ্রান্স৷ রোগীর সন্ধান মিলেছে অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও নেপালে৷

যত দিন যাচ্ছে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে৷ শুক্রবার ফ্রান্স তিনজনকে শনাক্ত করেছে যাদের শরীরে ভাইরাসটি সংক্রমিত হয়েছে৷ এরমধ্যে দুইজন সম্প্রতি চীন ভ্রমণ করেছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনিয়েস বুজাঁ৷ তাদেরকে আলাদা করে রাখা হয়েছে৷ আক্রান্ত তৃতীয় ব্যক্তি তাদের একজনের আত্মীয়৷

ভাইরাস সংক্রমিত হওয়া আরো রোগীর সন্ধান মিলতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন বুজাঁ৷ ‘‘যেহেতু রোগীরা ফ্রান্সে আসার পর অনেকের সংস্পর্শে এসেছেন, আমরা তাদেরও খোঁজ নিচ্ছি,'' জানিয়েছেন তিনি৷

সম্প্রতি চীনের উহান প্রদেশে প্রথম রহস্যময় এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলে৷ সেখানকার বন্যপ্রাণী কেনাবেচার একটি বাজার থেকে রোগটি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ এর জীবাণু মানুষের একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে৷

ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বে

এ পর্যন্ত এক ডজনের বেশি দেশ তাদের নাগরিকদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে৷ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শুক্রবার নেপালে প্রথম একজন রোগীর সন্ধান মিলেছে৷

শনিবার অস্ট্রেলিয়া এই জীবাণু আক্রান্ত চারজনের খবর নিশ্চিত করেছে৷ ভিক্টোরিয়া রাজ্যে সেসব রোগীকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ৷ সেখানে আরো রোগীর সন্ধান মিলতে পারে বলে শংকা তাদের৷

মালয়েশিয়া জানিয়েছে, উহান থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে আসা চীনের তিন আক্রান্ত রোগীকে তারা চিহ্নিত করেছে৷ তাদেরকে দেশটির সরকারি হাসপাতালের একটি আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছে৷ সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে ১৩০০ এর বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন৷

আতঙ্কে চীনা নববর্ষ

এদিকে নববর্ষ উপলক্ষ্যে শুক্রবার থেকে সপ্তাহব্যাপী ছুটি শুরু হয়েছে চীনে৷ কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণেএই উৎসবই এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

ভাইরাসের কারণে চীনের উহান শহরে জনজীবন প্রায় থমকে গেছে৷ সেখানে ৪৫০ জন সামরিক চিকিৎসক পাঠানোর সংবাদ দিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া৷

তবে এরিমধ্যে উহান থেকে এই জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে অন্য শহরগুলোতে৷ সব মিলিয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে৷

ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ১৮ টি শহরের সাড়ে পাঁচকোটি বাসিন্দাকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে কর্তৃপক্ষ৷ সারাদেশে বিমানবন্দর, রেল ও বাস স্টেশনগুলোতে বসানো হচ্ছে স্ক্যানিং যন্ত্র৷ 

এদিকে হংকং চীনের সাথে তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় রাশ টেনেছে৷ সেখানে এখন পর্যন্ত পাঁচজন রোগীর খোঁজ পাওয়া গেছে৷

চীনের প্রশংসা 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেও বৈশ্বিক পরিস্থিতি এখনও মহামারির আকার ধারণ করেনি বলে জানিয়েছে৷ করোনাভাইরাসের তথ্য প্রদানে স্বচ্ছতা অবলম্বন করায় দেশটিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক টেডরস আঢানম৷

এই বিষয়ে চীনের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প৷

সার্চ ভাইরাসের সময়কার তুলনায় চীন করোনার ক্ষেত্রে অনেক বেশি স্বচ্ছতা দেখাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েনস স্পানও৷  

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের আক্রান্তরা প্রাথমিকভাবে হাঁপানি সর্দি, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগতে পারেন৷ গুরুতর পরিস্থিতিতে নিউমোনিয়া, ভয়াবহ শ্বাসজনিত সমস্যা, কিডনি অকার্যকর এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে৷ 

এই ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে নিয়মিত হাত ধোয়া, কাশি ও হাঁচি দেয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং মাংস ও ডিম ভাল করে রান্নার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি৷ পাশাপাশি সর্দি, কাশিসহ বিভিন্ন শ্বাসজনিত সমস্যায় কেউ ভুগলে তার সংস্পর্শ থেকেও দূরে থাকতে হবে৷    

এফএস/জেডএ (ইএফই, এএফপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন