এবারের গোলাপি সোমবার হবে বর্ণহীন | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 10.02.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

এবারের গোলাপি সোমবার হবে বর্ণহীন

রোজেন মোনটাগ বা গোলাপি সোমবারে রাইনল্যান্ডের উৎসব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে৷ কিন্তু করোনার কারণে গোলাপি সোমবার এবার বর্ণহীন৷

রাইন নদীর ধারে গড়ে ওঠা শহরগুলিকে একসঙ্গে বলে ‘রাইনল্যান্ড’৷ কার্নেভাল সেই রাইনল্যান্ডেরই উৎসব৷ আর রোজেন মোনটাগে কার্নেভাল উৎসব পৌঁছে যায় একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে৷ শীতকালকে বিদায় জানাতেই আয়োজন করা হয় এই উৎসবের৷

প্রতি বছর জার্মনিতে টেলিভিশনের পর্দায় সরাসরি প্রচার করা হয় এই উৎসব৷ কার্নেভাল কোনো ধর্মীয় উৎসব নয়৷ অথচ গত একশ বছর ধরে এই উৎসবটি পালন করা হচ্ছে৷ কোলন, বন ছাড়াও ড্যুসেলডর্ফ এবং মাইনৎস শহরেও কার্নেভালের পরশ লাগে৷ রোজেন মোনটাগে বিশাল প্যারেড বের হয় এসব শহরে৷ কোলনে লাখো পর্যটক ভিড় করেন এই উৎসবে যোগ দিতে৷ পানশালাগুলোতে ভিড় লেগেই থাকে৷

সব দোকানপাট থাকে বন্ধ৷ শহরের কেন্দ্রে মানুষ সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে দেখে প্যারেড৷ ছোট-বড় সবাই নানা ধরনের পোশাকে সেজে মেতে ওঠে চকোলেট সংগ্রহের উৎসবে৷ ‘আলাফ’ আর ‘কামেলে’ শব্দে মুখরিত হয় চারপাশ৷ কেবল যে একটি দিনেই এই উৎসব সীমাবদ্ধ তা কিন্তু নয়৷ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিসে এক একদিন উদযাপিত হয় এই উৎসব৷ কার্নেভালের অনেকগুলো দোকান আছে বন শহরে সেগুলোতে মাস ধরে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় নজরে পড়ে৷

আমি থাকি বন শহরের একেবারে কেন্দ্রে৷ গত দুই বছর ধরে বাড়ির জানালা দিয়েই কার্নেভালের প্যারেড উপভোগ করেছি, কারণ বৃষ্টি৷ শহরের কেন্দ্রে থাকার কারণে যে-কোনো উৎসবের আমেজ আগে থেকে টের পাওয়া যায়৷ বাড়ির পাশেই একটা কিয়স্ক থাকায় সপ্তাহখানেক ধরে হৈ হুল্লোড় শুনে বোঝা যেতো কার্নেভাল আসন্ন৷

HA Asien | Amrita Parvez

অমৃতা পারভেজ, ডয়চে ভেলে

আর এবার করোনাকালে লকডাউনের কারণে গোলাপি সোমবার যে আসন্ন তা একেবারেই বোঝার উপায় নেই৷ অন্য বছর যেমন দুই-তিন সপ্তাহ আগে থেকেই রাস্তায় বিভিন্ন সাজপোশাকে মানুষকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যেতো, এবার একেবারেই চোখে পড়ছে না৷

করোনার কারণে এবার কার্নেভাল উৎসব বাতিল করা হয়েছে৷ চলছে লকডাউন৷ কিন্তু কোলনে এ বছরও রোজেন মোনটাগে কার্নেভালের আয়োজন হয়েছে৷ তবে এই কার্নেভালে অংশ নিচ্ছে পাপেটরা৷ অর্থাৎ, ১৫ ফেব্রুয়ারি পাপেটদের নানা ধরনের পোশাকে সাজিয়ে বের করা হবে ইনডোর প্যারেড৷ টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে এটি৷ ৩২ মিটার দীর্ঘ মঞ্চে হেঁটে বেড়াবে ১৫৫টি পাপেট৷

তবে কার্নেভাল না হওয়ায় সবচেয়ে কষ্টে আছে শিশুরা৷ এই লকডাউনে আমরা হোম অফিস করে, বাসার কাজ করে সময় কাটাচ্ছি, কিন্তু শিশুদের অন্য শিশুদের সঙ্গে দেখা করার উপায় নেই৷ কার্নেভালের মতো উৎসবের জন্য যে শিশুরা পুরো বছর মুখিয়ে থাকে, তাদের জন্য এটা বড় কষ্টের, বড় বেদনার৷

২০১৮ সালের আয়োজনের ছবি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন