এড চায়নার সোফা গাড়ি, বিছানা গাড়ি, কমলা গাড়ি | বিষয় | DW | 21.01.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

এড চায়নার সোফা গাড়ি, বিছানা গাড়ি, কমলা গাড়ি

ব্রিটিশ নাগরিক এড চায়না অদ্ভুত সব গাড়ি বানাতে পছন্দ করেন৷ যেমন সোফা গাড়ি, বিছানা গাড়ি, কমলা গাড়ি ইত্যাদি৷ এসব করতে গিয়ে আটটি গিনিজ রেকর্ডের মালিক হয়েছেন চায়না৷

গ্রামের রাস্তায় ঘণ্টায় ১১১ কিলোমিটার গতিতে বিশ্বের সবচেয়ে ‘দ্রুতগতির বিছানা’ চালিয়ে ২০০৮ সালে রেকর্ড করেন এড চায়না৷ ব্রিটিশ এই মানুষটির শখ অদ্ভুত সব গাড়ি তৈরি করা৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি নতুন কিছু করতে পছন্দ করি৷ কীভাবে সবকিছু কাজ করে, তা জানতে আগ্রহী আমি৷ যেসব জিনিস সাধারণত একসঙ্গে খাপ খায় না সেগুলোকে একসঙ্গে করতে আমার খুব ভালো লাগে৷ এমন গাড়ি কি বানানো যায় যা দেখে গাড়ি মনে হয় না, কিন্তু আইন মেনে রাস্তায় চলতে পারে?

এখন পর্যন্ত আটবার তার নাম গিনিজ বুকে উঠেছে৷ এড চায়না বলেন, ‘‘আমার মনে হয় আর কেউ এসব করছে না৷ নিজেকে এমন অদ্ভুত অবস্থানে ভাবতে ভালোই লাগে৷ তবে এর একটা ছোট্ট সমস্যাও আছে৷ কারণ, এই কাজ করে কতদূর যাওয়া যাবে তা নিজেকেই ভেবে বের করতে হয়৷ আমার মনে হয় গিনেজে নাম ওঠার এটা একটা কারণ৷ সোফার রেকর্ডটাই দেখুন না! গিনেজ কর্তৃপক্ষ নিজেই আমার কাছে এসে বলেছে, আপনি কি জানেন, সোফা করে ঘণ্টায় ৮৭ মাইল বেগে চলাটা একটা বিশ্বরেকর্ড?

সোফা গাড়ির স্টিয়ারিং হুইল পিজা প্যান দিয়ে তৈরি আর ব্রেক কষা হয় বিয়ারের ক্যান দিয়ে৷ হাঁটু দিয়ে অ্যাক্সিলারেটর প্যাডেল নিয়ন্ত্রণ করা হয়৷ এড চায়না যখন এক কার শো-তে এই সোফা চালিয়েছিলেন, তখন এক দর্শক সময় মেপেছিলেন৷ আর তাতেই রেকর্ড হয়ে যায়৷ ‘‘প্রায় ২২ বছর আগে ১৯৯৮ সালে আমি সবচেয়ে দ্রুতগতির ফার্নিচারের রেকর্ডটি করেছিলাম৷ কিন্তু মনে হলো একটা রেকর্ড যথেষ্ট নয়৷ আরো দরকার৷ তাই আরও বেশি করে ক্রেজি গাড়ি বানানো শুরু করি এবং রেকর্ড হতে থাকে,’’ বলেন এড চায়না৷

ভিডিও দেখুন 04:03

গাড়ির যত রকমফের



এড চায়না ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাক্ট ডিজাইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন৷ ব্রিটিশ টেলিভিশন শোতে গাড়ি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করে তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান৷ লন্ডনের কাছে তার ওয়ার্কশপে নিজ হাতে এসব গাড়ি বানান তিনি৷

এড চায়নার সবচেয়ে নতুন রেকর্ড বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির সম্পূর্ণ ইলেক্ট্রিক আইসক্রিম ভ্যান৷ এতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১৯ কিলোমিটার গতি তোলা তার কাছে কোনো সমস্যাই ছিল না৷ তবে অন্য ধরনের কিছু চ্যালেঞ্জ ছিল৷ ‘‘যেমন কিছু নিয়ম ছিল যা গিনেজ আমাদের জন্য বাদ দিয়েছে৷ এছাড়া ইভেন্টের আগে, পরে সবাইকে আইসক্রিম পরিবেশন করতে হয়েছে, যা একটা বড় সমস্যা ছিল,’’ বলেন এড চায়না৷

কারণ, ডিজেল ইঞ্জিনের পরিবর্তে তাকে ব্যাটারিচালিত ইঞ্জিন দিয়ে আইসক্রিম মেশিন চালানোর একটা প্রযুক্তি বের করতে হয়েছিল৷ পরিবেশবান্ধব এই আইসক্রিম মেশিনের মেধাস্বত্ত্ব এড চায়নার এবং এখন সাধারণ আইসক্রিম গাড়িতেও এটি ব্যবহার করা হচ্ছে৷
 
ইতিমধ্যে এড চায়নার একটি রেকর্ড ভেঙে গেছে৷ তবে ইলেক্ট্রিক আইসক্রিম ট্রাক আবিষ্কারের বিষয়টি এখনও তাকে আরও নতুন কিছু করার প্রেরণা দেয়৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি আসলে বিশ্বকে পরিবর্তন করে আরও ভালো জায়গায় নিতে পারি৷ ডিজেল দিয়ে আইসক্রিম ট্রাক চালাতে এখন আর কে চায়, তাই না? গিনিজ রেকর্ডের বিষয়টি আনন্দের ছিল, কিন্তু তার পেছনে সবসময় একটা ইঞ্জিনিয়ারিং উদ্দেশ্য ছিল৷ ভালো লাগার জন্য কিছু করা একটা ব্যাপার অবশ্যই, তবে এর পেছনে দ্বিতীয়, তৃতীয় কারণও আছে৷ আমার মনে হয় মানুষ অবাক হবে, এমন কাজ আপনি নিশ্চয় করবেন, কিন্তু তার একটা কারণও থাকা উচিত৷’’

ভবিষ্যতে চলাফেরার নতুন ধরন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারেন এড চায়না৷

গেরহার্ড সনলাইটনার/জেডএইচ

ইন্টারনেট লিংক