‘এটা বার্ধক্যের দোষ হতে পারে′ | আলাপ | DW | 27.08.2021

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘এটা বার্ধক্যের দোষ হতে পারে'

মাহবুব উল আলম হানিফ, এমপি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন সরকার পরিচালনায় রাজনীতিবিদ ও আমলাদের ভূমিকা নিয়ে, কথা বলেছেন আমলাদের এক্তিয়ারের সীমা নিয়েও৷

ডয়চে ভেলে: রাজনীতিবিদ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সাথে আমলাদের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত?

মাহবুব উল আলম হানিফ: রাজনীতিবিদরাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধি হয়৷ দেশের মানুষ যে স্বপ্ন দেখে, দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্খা তারাই বাস্তবায়ন করেন৷ দেশ পরিচালনায় রাজনীতিবিদ অপরিহার্য৷ মুক্তিযুদ্ধ, দেশের স্বাধীনতা, উন্নয়ন ও অগ্রগতি- যা কিছু অর্জন তা রাজনীতিবিদদের মাধ্যমে৷ আর সেটা হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে৷ সরকারি কর্মচারিদের কাজ হলো সরকারের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা৷ সরকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়ে গঠন করা হয়৷

কেউ কেউ বলেন রজনীতিবিদ না থাকলে দেশ চলে , কিন্তু আমলা না থাকলে দেশ চলে না...

এটা যারা বলেন তারা বিরাজনীতিকরনের পক্ষে৷ পৃথিবীতে এমন কোনো উন্নত দেশ দেখাতে পারবেন না যে দেশটা রাজনীতি ছাড়া ভালোভাবে চলছে৷ সেটা সম্ভব নয়৷ আমলাদের দিয়ে দেশ পরিচালনা সম্ভব নয়৷ রাজনীতিবিদরা যে পরিকল্পনা করেন, দেশের মানুষের জন্য আমলারা তা বাস্তবায়ন করেন৷

প্রবীণ রজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ সংসদে আমলাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷ তিনি বলেছেন ,নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বাইপাস করে আমলারা কাজ করছেন...

এটা আমাদেরে দেশের একটা দুর্ভাগ্য যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে দেশে রাজনীতি ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছে ৷ এই দেশে সামরিক এবং বেসামরিক আমলাদের দিয়ে সরকার পরিচালনার চেষ্টা করা হয়েছে৷ জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে রাজনীতি জটিল করার চেষ্টা করেছেন৷ জিয়াউর রহমান প্রায়ই বলতেন আই উইল মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট ফর দ্য পলিটিশিয়ানস৷ এরপর এরশাদ ক্ষমতায় এসে একই কাজ করেছেন৷ তারা রাজনীতি সম্পর্কে একটা নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেছেন৷ এসব কারণে দেশে আমলাদের একটা আধিপত্য তৈরি হয়েছে৷ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতার পক্ষে ও বিপক্ষে একটা বিভাজন সৃষ্টি করেছে৷ আর এই বিভাজনের কারণেই আমলারা শক্তিশালী হয়েছে

এবার করোনাকালেও তো দেখা গেছে এমপি,মন্ত্রী জনপ্রতিনিধিনিদের দায়িত্ব না নিয়ে আমলা বা সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে...

এর একটি কারণ আছে৷ এবার করোনা মহামারির কারণে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারবিশ্বই হতভম্ব হয়ে পড়েছে৷ এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷  তার মধ্যে একটি আছে লকডাউন৷ আর সেকারণে অনেকের আয় বন্ধ হয়৷ সেই  সব নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ত্রাণ ,প্রণোদনা, সহায়তা পৌঁছে দিতে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়৷

আওয়ামী লীগের আমলা-নির্ভর হওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না: মাহবুব উল আলম হানিফ

এটা কি জনপ্রতিনিধরা পারতেন না?

তৃণমূল পর্যায়ে মেম্বার, চেয়ারম্যানরা এটা করতে গিয়ে বুঝে হোক আর না বুঝে হোক চাল বা ত্রাণ যখন ভাড়া করা জায়গায় রেখেছেন বা নিজেদের বাড়িতে রেখেছেন, তখন তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট হয়৷ ত্রাণ আত্মসাৎ বা চুরির অভিযোগ ওঠে৷ নেতিবাচক রিপোর্ট হয়৷ একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়৷ রাজনীতিবিদরা বিতর্কে পড়ে যান৷ এই বিতর্ক যাতে না হয়, রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিদের বিতর্কের বাইরে রাখতেই সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব দেয়া হয়৷

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন ,ফেরাউন খালিফারাও আমলাতন্ত্রের বিকল্প বের করতে পারে নাই...

আমার কাছে মনে হয় বয়সের কারণেই আমরা অনেক সময় কথা বলতে গিয়ে স্পিড হারিয়ে ফেলি৷ এটা আসলে কারুর দোষ নয়, বার্ধক্যের দোষ হতে পারে৷ বৃদ্ধ বয়সের একজন মানুষের সব কথা বিবেচনা করা বা সেটা নিয়ে আলোচনা করার দরকার আছে বলে আমরা মনে হয় না৷

বলা হয়ে থাকে বর্তমান আওয়ামী লীগ একটি আমলা-নির্ভর দলে পরিণত হয়েছে...

আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল৷ আওয়ামী লীগের আমলা-নির্ভর হওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না৷ তবে কোনো কোনো নেতা যারা মন্ত্রিপরিষদে রয়েছেন তাদের অনেকের ব্যক্তিগত দুর্বলতার কারণে মনে হতে পারে তাদের চেয়ে আমলারা শক্তিশালী৷ তবে আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল৷ এই দলের কাছে জনগণ কখনো আমলা-নির্ভরতা প্রত্যাশা করে না৷

বরিশালের ঘটনা কি রাজনীতিবিদ আমলাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের ফল?

সেভাবে দেখার সুযোগ নেই৷ এখানে উভয় পক্ষের বাড়াবাড়ি ছিল৷ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে গিয়েছে৷ আর দিন শেষে দেখা গেছে রাজনীতিবিদরা কোণঠাসা নয়৷ এসব ঘটনায় যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে৷

অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন রাজনীতিকে দুর্বৃত্তায়িত বলেছে৷ বরিশালের মেয়রকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে৷ এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

এটা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নাই৷ কারণ, আমাদের জেনারেল সেক্রেটারি ইতিমধ্যেই বলেছন, যিনি বলেছেন তিনি ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন৷ যে বিবৃতি দেয়া হয়েছে তার সাথে অধিকাংশ সচিবসহ সরকারি কর্মকর্তারা একমত নন৷ আর যে বা যারা আন্দোলিত হয়ে এই বিবৃতি দিয়েছেন, তারা তাদের কর্তৃত্বের সমস্ত সীমা লংঙ্ঘন করে এই বিবৃতি দিয়েছেন বলে সবাই মনে করেন৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়