এখনো দর্শকদের মাতিয়ে রাখছে গতিশীল সৃষ্টিকর্ম | অন্বেষণ | DW | 13.10.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

এখনো দর্শকদের মাতিয়ে রাখছে গতিশীল সৃষ্টিকর্ম

যান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে সমালোচনা হিসেবে যন্ত্রসর্বস্ব ভাস্কর্য সৃষ্টি করেছিলেন সুইজারল্যান্ডের এক শিল্পী৷ অভিনব কায়দায় মানুষের কাছে সেগুলি পৌঁছে দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি৷

তার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ হিসেবে এক মিউজিয়াম জাহাজ পানিতে নেমেছে৷

এমএস ইভোলিউশন নামের ছোট বজরা শিল্পের অসংখ্য নিদর্শন নিয়ে প্যারিসের এক নদী বন্দরে নোঙর করেছে৷ সুইজারল্যান্ডের শিল্পী জঁ ত্যাঁগেলি-র তৈরি ভাস্কর্য ও যন্ত্রপাতি সেখানে প্রদর্শিত হচ্ছে৷ ত্যাঁগেলি মিউজিয়ামের প্রধান রোলান্ড ভেৎসেল বলেন, ‘'২৫ বছর আগে বাসেল শহরে ত্যাঁগেলি মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা করা হয়৷ সেখানেই ত্যাঁগেলির সবচেয়ে বড় সংগ্রহ রয়েছে৷ একটি জাহাজে করে ইউরোপে তাঁর স্মৃতিধন্য জায়গাগুলি গিয়ে আমরা প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করছি৷''

মিউজিয়াম জাহাজের মূল আকর্ষণ হলো এই ফোয়ারা ভাস্কর্য৷ সেন নদী থেকেই ফোয়ারার পানি আসে৷

১৯৯১ সালে জঁ ত্যাঁগেলি-র মৃত্যু হয়৷ তিনি ‘মেটাম্যাটিক্স' নামে পরিচিত ভাস্কর্য যন্ত্রের জন্য বিখ্যাত ছিলেন৷ অটোমেশন ও প্রযুক্তির উপর সমাজের বেড়ে চলা নির্ভরতার সমালোচনা করতে গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে তিনি সেগুলি তৈরির কাজ শুরু করেন৷

এভাবে তিনি ‘কাইনেটিক আর্ট' নামে পরিচিত শিল্পশাখার অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি পান৷ ভেৎসেল জানান, ‘‘কাইনেটিক আর্টের মৌলিক অর্থ গতিশীল শিল্প৷ ত্যাঁগেলির প্রায় সব সৃষ্টির মধ্যে মোটর রয়েছে বলে সেগুলি গতিশীল৷ শিল্পী হিসেবে তিনি পারফরমেন্স আর্টও সৃষ্টি করেছেন৷ শিল্পকর্ম স্টুডিওতে আবদ্ধ না রেখে পথে নিয়ে গেছেন৷ আমরা এই উদ্যোগের ক্ষেত্রেও গতিশীলতাকে মূলমন্ত্র করে জাহাজ নিয়ে ইউরোপের মধ্যে ঘুরছি৷''

ত্যাঁগেলি মিউজিয়াম শিল্পীর জন্মের শহর বাসেলে অবস্থিত৷ সেখান থেকে জাহাজ ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি ঘুরে আবার সুইজারল্যান্ডে ফিরে যাচ্ছে৷ ত্যাঁগেলি প্যারিস শহরে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পাওয়ায় সেখানেই জাহাজ সবার আগে নোঙর করেছে৷ নিকি দ্য স্যাঁ ফাল নামের শিল্পী পরের দিকে তার স্ত্রী হিসেবে অভিজ্ঞতার সুবাদে শিল্পের প্রতি ত্যাঁগেলির কৌতুকপূর্ণ মনোভাব তুলে ধরেন৷

ভিডিও দেখুন 04:44

দর্শকদের মাতায় গতিশীল সৃষ্টিকর্ম

ত্যাঁগেলি মিউজিয়ামের প্রধান রোলান্ড ভেৎসেল বলেন, ‘‘তিনি মনে করতেন, শিল্পকে মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে, অন্য এক ধরনের প্রাসঙ্গিকতা হাসিল করতে হবে৷ সেই লক্ষ্যে তিনি এমন সৃষ্টির কাজে মেতে উঠেছিলেন, যা ইন্দ্রিয় সজাগ করে তোলে, যাকে ঘিরে ইন্টারঅ্যাক্টিভ অভিজ্ঞতা সম্ভব৷''

‘আহোই' নামের প্রদর্শনীর দর্শকরা হাতেনাতে সেই অভিজ্ঞতার স্বাদ পেতে পারেন৷ জাহাজের মধ্যে তারা দোলনায় দোল খেতে পারেন, শব্দ ও সংগীত সৃষ্টি করতে পারেন৷

মুভমেন্ট ও সাউন্ডের মাধ্যমে এই শিল্প সত্যি মনে অনেক আনন্দ দেয়৷ যেমন এক দর্শক সম্পূর্ণ অপরিচিত কোনো মানুষকে চিঠি লিখছেন৷ বোতলে সেই বার্তা ভরা হবে৷ জাহাজ পরের বন্দরে পৌঁছলে সেই বোতল খোলা হবে৷ তিনি নিজে বাসেল শহরের ছোট এক ছেলের লেখা চিঠি হাতে পেয়ে খুব খুশি৷

প্রদর্শনীর আরেকটি অংশ প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে পঁপিদু সেন্টারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে৷ সেখানে তিনটি পারফরমেন্সের মাধ্যমে ত্যাঁগেলির ভাস্কর্যগুলিকে জীবন্ত করে তোলা হচ্ছে৷ সেখানে শিল্পীরা নিজেদের শরীর দিয়ে সংগীত সৃষ্টি করছেন৷ সেইসঙ্গে তারা নৃত্যরত ভাস্কর্যে রূপান্তরিত হচ্ছেন৷ পারফরমেন্স আর্টিস্ট হিসেবে মারি-কারোলিন ওমিনাল বলেন, ‘‘আমার কাছে শরীরও এক ধরনের যন্ত্র৷ আমি নিজের শরীরকে যন্ত্র হিসেবে ভাবি৷ দুইয়ের মধ্যে কোনো সীমা বা পার্থক্য আমি দেখি না৷''

প্যারিসের পর্ব শেষ হলে জাহাজ আরও দশ সপ্তাহ ধরে যাত্রা করবে এবং পথে ছোটবড় সবার মুখে হাসি ফোটাবে৷

লুনা পাউলিচ/এসবি

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়