‘এক মাসে হত্যা অথবা গুম হয়েছেন ৩০০ জন’ | বিশেষ আয়োজন | DW | 05.02.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশেষ আয়োজন

‘এক মাসে হত্যা অথবা গুম হয়েছেন ৩০০ জন’

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে-পরে গত এক মাসে বিরোধী জোটের ৩০০ জন নেতা-কর্মীকে হত্যা অথবা গুম করা হয়েছে৷ মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি৷

খালেদা জিয়া বলেন, এভাবে বিনা বিচারে হত্যা-গুম একটি সভ্য সমাজে চলতে পারে না৷ তিনি বলেন, বিএনপি কার্যালয়ের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী ২৪২ জনকে হত্যা এবং ৬০ জনকে গুম করা হয়েছে৷ তবে বাস্তব চিত্র আরো ভয়াবহ৷ দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন৷ গুলশানের ওয়েস্টইন হোটেলে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলন বিএনপি-বিহীন দশম সংসদ নির্বাচনের পর, এটা তাঁর দ্বিতীয় সংবাদ সম্মেলন৷ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সিনিয়র নেতা এবং ১৯ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন৷

পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার ডয়চে ভেলেকে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আইন-কানুন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী কাজ করে৷ এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই৷ কেউ যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ তবে ঢালাওভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা সমীচিন নয়৷ তিনি বলেন, প্রত্যেকটি ঘটনায় মামলা হয়, এরপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এর তদন্ত করে৷

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, প্রহসনের ভোটের মাধ্যমে গঠিত ‘অবৈধ' সরকার নির্বাচনের পর বিরোধী দল দমনে ‘বর্বরতা' চালাচ্ছে৷

গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের নামে জনগণকে প্রতারিত করা হয়েছে দাবি করে আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রতারণার পর গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না৷ ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, একই ধারায় ভোট ছাড়াই অবৈধ সরকার গঠন করা হয়েছে৷ এঁরা কেউ নির্বাচিত নন৷ এই সরকার ও সংসদ যে গণতান্ত্রিক হতে পারে না, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷ ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে যে প্রহসনের আয়োজন করা হয়েছিল, দেশবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছে৷ ৫ ভাগ ভোটারও ভোট কেন্দ্রে যাননি৷

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগের দাবির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যেটাই তাদের কাছে সুবিধাজনক মনে হয়, তখন সেটাই তারা বলে৷ যদি জনগণের ভাষা বুঝতে পারতেন, তাহলে তারা সব দলের সঙ্গে আলোচনার পর একটা সমঝোতায় পৌঁছাতেন৷ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের আহ্বান উপেক্ষা হলে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া৷ তবে দল গোছানোর জন্য তারা কিছুটা সময় নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি৷

খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘আমরাও অনির্দিষ্টকালের জন্য সংলাপ ও সমঝোতার আহ্বান জানিয়ে যাব, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই৷'' নতুন নির্বাচনের জন্য বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোট কোনো দিনক্ষণ বেঁধে দেবে কিনা – এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছেন তারা৷ তা না হলে বিএনপি কবে থেকে জোরদার আন্দোলনে যাবে – জানতে চাইলে খালেদা জিয়া সরকারের দমন-পীড়নের কথা তুলে ধরে বলেন, দল গুছিয়ে অচিরেই কর্মসূচি দেয়া হবে৷ তবে নির্দিষ্ট করে কোনো দিনের কথা তিনি জানাননি৷

জামায়াত ছাড়ার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে খালেদা জিয়া বলেন, তাঁর দল কার সঙ্গে জোট করবে সে বিষয়ে আওয়ামী লীগের বলার কিছু নেই৷ এই প্রসঙ্গে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের কথাও তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারপার্সন৷ দশম সংসদ নির্বাচনে না যাওয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল কিনা – জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনে না যাওয়াটা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল৷ খালেদা জিয়ার কথায়, ‘‘আমরা কোনো ভুল করিনি, ভুল করেছে সরকার, অবৈধ সরকার৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়