এক ভোটার, দুটি ভোট! | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 24.01.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

এক ভোটার, দুটি ভোট!

ভোটার প্রতি দু-দুটো ভোট! এমন ‘আজব' ব্যবস্থা থাকলেও জার্মানিতে ভোটগ্রহণ সাধারণত শান্তিপূর্ণ হয়৷ ফলাফল নিয়েও তেমন উত্তেজনা দেখা যায় না৷ কারচুপির সুযোগ নেই বললেই চলে৷

জার্মানিতে নির্বাচনের দিনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের আশেপাশে বিভিন্ন দলের পতাকা, দলীয় কর্মীদের জটলা, শক্তি প্রদর্শন, ভোটারদের উপর প্রচ্ছন্ন চাপের কোনো চিহ্ন নেই৷ ঠিক কোথায় যে ভোট হচ্ছে, চট করে সেটাও চোখে পড়বে না৷ কয়েক সপ্তাহ আগেই প্রত্যেক তালিকাভুক্ত ভোটার লেটারবক্সে কর্তৃপক্ষের চিঠি পেয়ে যান৷ সেটি সঙ্গে নিয়ে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছতে হয়৷ সঙ্গে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা চাই৷ সেই দুটি যাচাই করার পর হাতে ব্যালট পেপার আসে৷ ঘেরাটোপের মধ্যে বসে পছন্দের প্রার্থী ও দলের নামের পাশে কলম দিয়ে ক্রস চিহ্ন দিয়ে সেটি নির্ধারিত বাক্সে ঢুকিয়ে দিলেই হলো৷

ভোটের দিন কোনো কারণে ব্যস্ত থাকলে আগেভাগেই ব্যালট সংগ্রহ করে খামে করে ভোট দেবার সুযোগও রয়েছে৷ বিদেশে বসবাসরত জার্মান নাগরিকরাও ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্গত করার আবেদন করে এভাবে ভোট দিতে পারেন৷ 

Deutsche Welle Asien Bengali Sanjiv Burman

সঞ্জীব বর্মন, ডয়চে ভেলে

জার্মানির নির্বাচন ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া বাংলাদেশ-ভারতের তুলনায় অনেকটাই আলাদা৷ ইউরোপের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভোটারদের সংখ্যা ছয় কোটি ১০ লাখের মতো৷ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র থাকার কারণে এবং তাদের বাসস্থানের পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের নাম-ঠিকানা নথিভুক্ত করা আবশ্যিক হওয়ায় নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়৷ জার্মানিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার নেই৷ ভোটগ্রহণের শেষে হাতে করে কাগজের ব্যালট গোনা হয়৷ তাই ফলাফল সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাষ পেতে একটু সময় লেগে যায়৷

ফেডারেল কাঠামোর কারণে জার্মানির সঙ্গে ভারতের কিছু তুলনা করা যেতে পারে৷ দুই দেশেই জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়৷ তবে জার্মান নাগরিকরা সেইসঙ্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনেও জনপ্রতিনিধি বেছে নেন৷ বাংলাদেশ বা ভারতের মতো জার্মানিতেও পৌর স্তরে নির্বাচন হয়৷ তবে জার্মানির জাতীয় নির্বাচনের একটি বৈশিষ্ট্য সত্যি অভিনব৷ একটি নয়, ভোটারদের দু-দুটি করে ভোট দিতে হয়৷ একটি ভোট পছন্দের প্রার্থীর জন্য, অন্যটি পছন্দের দলের জন্য৷ সংসদের আসনগুলিও সেভাবে বিভক্ত৷ যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পান, তিনি সরাসরি সংসদে নির্বাচিত হন৷ দ্বিতীয় ভোটের শক্তির ভিত্তিতে দলগুলি নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন পায় এবং পছন্দমতো প্রার্থীদের সংসদে পাঠাতে পারে৷ তবে কমপক্ষে ৫ শতাংশ ভোট না পেলে কোনো দলই সংসদে স্থান পায় না৷ ফলে সংসদসহ নির্বাচিত ব্যক্তিদের অন্যান্য মঞ্চে রাজনৈতিক দলের সংখ্যা সীমিত থাকে৷ জার্মানির ইতিহাসের কালো অধ্যায়ের প্রেক্ষাপটে সংসদে অসংখ্য দলের উপস্থিতি এড়াতে এমন নিয়ম চালু করা হয়েছিল৷ 

এমন ‘যান্ত্রিকতা-সর্বস্ব' ব্যবস্থা সত্ত্বেও জার্মানির নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনার অভাব নেই৷ তবে পথেঘাটে অরাজকতা সৃষ্টি করে বা জনগণের সম্পত্তি নষ্ট করে সেই উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে না৷ সংবাদপত্র, রেডিও-টেলিভিশন, জনসভায় সেই সব বিষয় নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা চলে৷ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও দলীয় রাজনীতির মঞ্চ হয়ে উঠেছে৷ এক ইউটিউব তারকা সরাসরি চ্যান্সেলরের সাক্ষাৎকার নিয়ে তরুণ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি তুলে ধরেছিলেন৷

সাম্প্রতিক কালে বিশ্বের অনেক প্রান্তের মতো জার্মানিতেও মূল স্রোতের রাজনৈতিক দলগুলি কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে৷ চরম দক্ষিণপন্থি এএফডি দল সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে৷ ফলে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক তর্কবিতর্ক চলছে৷ অনেকে বলছেন, ‘নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ' হিসেবে উদারপন্থি মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ না করলে এমন সংকীর্ণ ভাবধারার দলগুলির শক্তিবৃদ্ধি হয়৷ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে ঘরে বসে না থেকে ভোট দেবার আবেদন বাড়ছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন