এক বছরে ট্রাম্পের নেয়া কয়েকটি আলোচিত সিদ্ধান্ত | বিশ্ব | DW | 19.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

যুক্তরাষ্ট্র

এক বছরে ট্রাম্পের নেয়া কয়েকটি আলোচিত সিদ্ধান্ত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ নেয়ার এক বছর পূর্তি হচ্ছে শনিবার৷ এই এক বছরে নেয়া তাঁর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দেশে ও দেশের বাইরে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনার জন্ম দিয়েছে৷

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

বহুজাতিকের চেয়ে দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ে বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প৷ তাই ‘ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ’ (টিপিপি) আলোচনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি৷ এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে টিটিপ চুক্তির আলোচনা বন্ধ রেখেছেন৷ ‘নর্থ অ্যামেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ বা নাফটা চুক্তি বাতিলের হুমকি দিয়ে মেক্সিকো ও ক্যানাডাকে চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে পুনরায় আলোচনায় বসতেও বাধ্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷

ব্যবসা ও অর্থনীতি

শেয়ার ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ট্রাম্পের প্রথম বছরটা ভালো ছিল৷ ট্রাম্পের জয়ের পরদিন ‘ডাও জোনস ইনডেক্স’ ছিল ১৮,৫৮৯৷ সেটি মধ্য জানুয়ারিতে এসে হয়েছে ২৫,৮০০৷ গত এক বছরে বেকারের সংখ্যাও কমেছে৷ বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৮ থেকে কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে৷ তবে ট্রাম্পের অন্যতম সাফল্য হচ্ছে কর সংস্কার৷ গতমাসেই তিনি সেটা করেছেন৷ ফলে কর্পোরেট কর ৩৫ থেকে ২১ শতাংশে নেমে এসেছে৷

স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্বাস্থ্যনীতি, যেটি ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিত, সেটি বাতিল করতে ব্যর্থ হয়েছেন ট্রাম্প৷ তবে ওবামাকেয়ারে সব মার্কিন নাগরিকের স্বাস্থ্যবিমার অধীনে থাকার যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা বাতিল করতে সমর্থ হয়েছেন তিনি৷ এর ফলে দেশটিতে বিমাহীনের সংখ্যা বেড়ে ১৩ মিলিয়ন হতে পারে বলে মনে করছে ‘কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস'৷

পাবলিক ডিসকোর্স

ওয়াশিংটন পোস্টের হিসেবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত এক বছরে দুই হাজারের বেশি মিথ্যা অথবা বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্বলিত মন্তব্য করেছেন৷ শুরুটা হয়েছিল তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে জনগণের উপস্থিতির সংখ্যা নিয়ে৷ গণমাধ্যমে উপস্থিতির হার কম বলা হলেও তাঁর প্রশাসনের দাবি ছিল, তা ঠিক নয়৷ এছাড়া সরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে কিছু শব্দ হয় বাদ বা সংশোধন করে ব্যবহার করা হয়েছে৷ যেমন ‘ক্লাইমেট' বা জলবায়ু শব্দটি ‘পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা’ বা ইপিএসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিকল্প উপায়ে ব্যবহার করা হয়েছে৷

সরকারের কর্মী সংখ্যা

সরকারি তথ্য বলছে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ১৬ হাজার কম ছিল৷ এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদ এখনও শূন্য আছে৷ ‘পার্টনারশিপ ফর পাবলিক সার্ভিস’ নামের একটি নির্দলীয় সংস্থা এসব তথ্যের দিকে নজর রাখে৷ তারা বলছে, যেসব চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সেনেটের অনুমোদন লাগে সেরকম ৬৩৩টি পদের মধ্যে ২৪৫টি পদ এখনও খালি আছে৷

বিচারক নিয়োগ

সুপ্রিম কোর্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আদালতে প্রায় ২০ জন বিচারকের নিয়োগ সেনেট থেকে নিশ্চিত করাতে পেরেছেন ট্রাম্প৷ অর্থাৎ আগামী বেশ কয়েক বছর মার্কিন বিচার ব্যবস্থায় ছাপ রাখতে পারবেন ট্রাম্পের বিচারকেরা৷

পররাষ্ট্রনীতি

ন্যাটোর কিছু সদস্যরাষ্ট্র পর্যাপ্ত চাঁদা না দেয়ায় প্রায়ই তাদের সমালোচনা করেন ট্রাম্প৷ গত এক বছরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নিয়মিতই বিবাদে জড়াতে দেখা গেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে৷ জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মুসলিম বিশ্বসহ সারা বিশ্বের সমালোচনার মুখে পড়েছেন৷ কিউবা ও ইরানের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে ট্রাম্পকে৷

অভিবাসন

ট্রাম্পের প্রথম বছরে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ির হার প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে৷ এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নিবন্ধনহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন৷ কয়েকটি মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে দেয়া ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আদালতে বিবেচনাধীন আছে৷ ডিভি লটারি কার্যক্রমেরও সমালোচনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ তিনি এটি বাতিল করতে চান৷ অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার সংখ্যা কমলেও ট্রাম্প এখনও যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর তৈরি করতে চান৷

পরিবেশ

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম নেয়া কয়েকটি সিদ্ধান্তের একটি ছিল পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার প্রধান হিসেবে স্কট প্রুইটকে নিয়োগ দেয়া৷ গত এক বছরে তিনি কার্বন নির্গমনকারী বিভিন্ন প্রকল্প, যেমন কয়লা ও গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পরিবহণ, মাইনিং, তেল ও গ্যাস ড্রিলিং ইত্যাদির জন্য নিয়মনীতি শিথিল করেছেন৷ এছাড়া প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প৷

কার্স্টেন ফন নামেন, মিশায়েল ক্নিগে/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়