এক অংকের সুদহার কি বাস্তবায়ন সম্ভব? | বিশ্ব | DW | 25.12.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

এক অংকের সুদহার কি বাস্তবায়ন সম্ভব?

নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই ব্যাংকগুলোকে শিল্প খাতে নয় ভাগ সুদে ঋণ বিতরণ করতে হবে৷ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক৷ যদিও তা কতটা বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে৷

Flash-Galerie Bengalische Banknoten (DW)

বাংলাদেশে উৎপাদন খাতের জন্য ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনতে হবে৷ পয়লা জানুয়ারি থেকেই তা কার্যকর করতে হবে ব্যাংকগুলোকে৷ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশে ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম৷

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমটিকে বলেন, ‘‘ব্যাংকঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার কৌশল ঠিক করতে গত ১ ডিসেম্বর ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল৷ সেই কমিটির সুপারিশের আলোকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভায় শিল্প খাতে ৯ শতাংশ সুদহার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে৷''

ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ঘেটে দেখা যায়, বর্তমানে বেশিরভাগ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পে নয়ভাগের বেশি সুদে ঋণ বিতরণ করছে৷ যা এমনকি সর্বোচ্চ সাড়ে ১৭ ভাগ পর্যন্তও রয়েছে৷ ক্ষুদ্র শিল্পে সর্বোচ্চ ২০ ভাগ হারেও ঋণ বিতরণ করছে কোনো কোনো ব্যাংক৷ গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গড়ে ব্যাংকগুলো এখন নয় থেকে ১১ ভাগ সুদে আমানত নিচ্ছে আর ঋণ বিতরণ করছে ১৩ থেকে ১৫ ভাগ হারে৷

সুদের এই উচ্চহার বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে দাবি করে আসছেন ব্যবসায়ীরা৷ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যেও সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি খাতের ঋণ নেয়ার প্রবণতা কমার তথ্য পাওয়া যায়৷ অক্টোবরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে দশ ভাগে, আর জুলাই থেকে অক্টোবর এই সময়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র এক দশমিক পাঁচ-পাঁচ ভাগ৷ 

এমন অবস্থায় ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছিল ব্যবসায়ীরা৷ এজন্য ব্যাংক মালিকদের সাথে কয়েক দফা বৈঠকও করেছে সরকার৷ তাদের দেয়া হয়েছে বিভিন্ন সুবিধা ও আর্থিক ছাড়৷ গত বছর ব্যাংক কোম্পানি আইনে বেশ কিছু পরিবর্তনও আনা হয়েছে৷

পরে ব্যাংক মালিকরা সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে আমানত ও সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের ঘোষণা দিলেও তা কার্যকর হয়নি৷ 

এবার কি বাস্তবায়ন হবে?

বাংলাদেশ ব্যাংক সুদের হার বেধে দিতে পারে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা৷ এই নির্দেশনা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর এর৷ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে তিনি বলেন, ‘‘চাপিয়ে দিয়ে সুদের হার কমবে বলে আমার মনে হয় না৷ সরকারি ব্যাংকগুলো কমালেও বেসরকারি ব্যাংকগুলো কমাতে পারবে বলে মনে হয় না৷''

ব্র্যাক ব্যাংকের এই চেয়ারম্যানের মতে, ‘‘বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয় অনেক বেশি৷ এখন ব্যাংকগুলোকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির জন্যই অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়৷ এরপর কম সুদে ঋণ নিলে তার আয় অনেক কমে যাবে যাবে৷''

একই কথা বলছেন ব্যাংকররাও৷ বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ৯ শতাংশ সুদ হারে ঋণ দিলে প্রতিটি ব্যাংকের আয় ১৫০ কোটি টাকার মতো কমে যাবে৷ যার ফলে ব্যাংকগুলোর মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে৷ এতে রাজস্ব আদায় ও শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে৷

তবে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই৷ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে সংগঠনটির সভাপতি,  শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ‘‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই দাবিটি করে আসছিলাম৷ সরকার বেশ কয়েকবার উদ্যোগও নিয়েছে৷ কিন্তু ব্যাংকগুলো মানেনি৷ এবার একটি কাঠামোর মধ্যে এনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে৷ আশা করছি ব্যাংকগুলো এটা বাস্তবায়ন করবে৷ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়া নজরদারি থাকবে৷''

তবে সুদহার এভাবে বেধে দেয়ারই বিপক্ষে আহসান এইচ মনসুর৷ তিনি বলেন, ‘‘মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সবকিছুই যেখানে বাজারের উপর; সেখানে সুদের হারও বাজারের উপর ছেড়ে দেওয়া উচিৎ৷''

এফএস/কেএম (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন