একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: দৌড়ঝাঁপ শুরু সাংসদদের | বিশ্ব | DW | 25.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: দৌড়ঝাঁপ শুরু সাংসদদের

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনও প্রায় এক বছর বাকি৷ রাজনৈতিক দলগুলো এরই মাঝে শুরু করেছে ‘দৌড়ঝাঁপ'৷ এক্ষেত্রে ‘এক ঢিলে দুই পাখি' মারছেন সংসদ সদস্যরা৷ এলাকার উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনের পাশাপাশি চালাচ্ছেন জনসংযোগ৷

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কয়েকজন সংসদ সদস্যের কথায় এর সত্যতা মিলেছে৷ এলাকায় যাওয়া-আসা আগের তুলনায় বেড়ে গেছে তাঁদের প্রায় সবার৷

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনহয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি৷  সংসদ সদস্যরা শপথ নেয়ার দিন থেকে পরবর্তী ৫ বছর পর্যন্ত থাকে নির্বাচিত সংসদের মেয়াদ৷ ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি বর্তমান সরকার গঠিত হয়৷ সংবিধান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১১ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা আছে৷ 

এই নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের সাথে সংলাপ করেছে নির্বাচন কমিশন৷ নেয়া হয়েছে তাঁদের নানা সুপারিশ৷ জাতীয় নির্বাচনের ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজও শুরু হয়ে গেছে৷ এরপর রোডম্যাপ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ ও অন্যান্য কাজে হাত দেবে নির্বাচন কমিশন৷

কাজেই আর বসে থাকার সময় নেই কারও৷ 

অডিও শুনুন 01:11
এখন লাইভ
01:11 মিনিট

সবার কাছে গ্রহযোগ্য এবং বিজয় আনতে পারবে, এমন প্রার্থীই আমরা চাই: ওবায়দুল কাদের

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদ ওবায়দুল কাদেরের কাছে তাঁর জাতীয় নির্বাচন প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সামনে নিয়ে আসেন দলকে৷ নোয়াখালী ৫ আসনের এই সাংসদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ আমি আমাকে নিয়ে ভাবছি না৷ আমি ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক, তাই সারা দেশ নিয়ে আমাকে ভাবতে হয়৷ আমরা তো সারা দেশে কাজ শুরু করে দিয়েছি৷ প্রিপারেশন চলছে তো৷''

আওয়ামী লীগ জনসংযোগকেই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের গণসংযোগ, মেম্বারশিপ ক্যাম্পেইন, পার্টির সদস্য সংগ্রহ শুরু হয়ে গেছে৷ গ্রামে উঠান বৈঠক, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জোরদার হচ্ছে৷ তবে জনসংযোগের ব্যাপারটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে৷ নতুন সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নতুন ভোটার এবং টিকে থাকবে এমন ব্যক্তিদের টার্গেট করা হচ্ছে৷''

আগামী নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে কেমন ব্যক্তিকে গুরুত্ব দেবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ? ওবায়দুল কাদেরের সংক্ষিপ্ত জবাব, ‘‘একটা কথাই বলি, বেশি কথা বলবো না৷ যেমন প্রার্থী সবার কাছে গ্রহযোগ্য হবে এবং একইসাথে বিজয় আনতে পারবে, এমন প্রার্থীই আমরা চাইব৷''

অডিও শুনুন 01:44
এখন লাইভ
01:44 মিনিট

সময়ের সাথে সাথে কর্মপন্থায় কিছু পরিবর্তন আসবে তখন অবস্থা বুঝে কাজ করব: হানিফ

এ্কই বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ অবশ্য আরেকটু বিস্তারিত বলেছেন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি জানান, ‘‘অতীত ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে, আওয়ামী লীগ সব সময়ই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে৷ সব সময়ই জনগণের ম্যান্ডেটকে গুরুত্ব দিয়েছে৷ সবকিছু ঠিক থাকলে সম্ভবত আগামী বছরের ডিসেম্বরের দিকে জাতীয় নির্বাচন হবে৷ সেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের তরফ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে৷''

‘‘প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যথারীতি জনসংযোগকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে৷ মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের চাঙা করতে ইতিমধ্যেই আমরা জেলায় জেলায় কর্মীসভা করেছি৷ আরও কর্মীসভা, সংসদ সদস্য নবায়নের প্রক্রিয়া ও সদস্য সংগ্রহ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি৷ এসব কাজে আমাদের জনসম্পৃক্ততা থাকবে৷ পাশাপাশি প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে৷ সোর্সের মাধ্যমে প্রতি তিন মাস পরপরই জরিপ চালানো হচ্ছে প্রার্থী , নির্বাচনের মাঠ সম্পর্কে৷ প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মনোনয়ন বোর্ডকে সাহায্য করবে এসব তথ্য৷ সব মিলিয়ে আমাদের নির্বাচন প্রস্তুতির কাজ চলছে৷''

 তাঁর নিজের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া ৩ আসনের সাংসদ হানিফ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কেন্দ্রের নানান কাজে ব্যস্ত থাকায় আমি এলাকায় সেভাবে যেতে পারি না৷ তারপরও মাসে দুইবার তো যাই- ই৷ নির্বাচন এগিয়ে এলে তখন আরও বেশি করে যাব৷ এখন আমার কাজ মূলত জনসংযোগ করা৷ সেখানেই বেশি জোর দিচ্ছি৷ এলাকায় এতদিনেও কোন কাজটি হয়নি, এখন কোনটি করত হবে এসব দেখছি৷ তবে এটা ঠিক যে, সময়ের সাথে সাথে কর্মপন্থায় কিছু পরিবর্তন তো অবশ্যই আসবে৷ তখন সেভাবেই আমরা্ অবস্থা বুঝে কাজ করব৷'' 

অডিও শুনুন 01:59
এখন লাইভ
01:59 মিনিট

দেখি শেষ পর্যন্ত জোটে থাকব, নাকি আলাদা থাকবো: তাজুল ইসলাম

অন্যদিকে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও বসে নেই৷ এরইমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের কমিটিগুলো করা হয়েছে বলে জানান দলের সিনিয়র নেতা ও কুড়িগ্রাম ২ আসনের সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম চৌধুরী৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রস্তুতি তো শুরু হয়ে গেছে৷ কতগুলো জায়গায় জাতীয় পার্টির কমিটি হয়েছে, কতগুলো জায়গায় হয়নি, সেগুলোর হিসাব ঠিক করা হচ্ছে৷ আমরা ইউনিয়ন কমিটি এরইমধ্যে শেষ করেছি, পৌরসভা কমিটিও প্রায় শেষ পর্যায়ে৷ এরপর হাত দেবো জাতীয় পর্যায়ে৷ আমাদের পার্টির চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যাপারে বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলছেন, খোঁজখবর নিচ্ছেন৷ আশা করি ৩০০ আসনেই আলাদা করে আমরা প্রার্থী দিতে পারবো৷''

তিনি যোগ করেন, ‘‘রাজনৈতিক মেরুকরণ তো ভিন্ন কথা৷ দেখি শেষ পর্যন্ত জোটে থাকব, নাকি আলাদা থাকবো৷'' কুড়িগ্রাম থেকেই বরাবর নির্বাচন করেছেন তাজুল ইসলাম৷ বলেন, ‘‘আমার এলাকায় সব সময় যোগাযোগ ছিল, আছে৷ গত সপ্তাহেও গিয়েছিলাম৷ ভোট করতে হলে তো এলাকায় আরও যোগাযোগ বাড়াতে হবে৷''

অডিও শুনুন 01:00
এখন লাইভ
01:00 মিনিট

আমি সারা বছর কাজ করি, পরীক্ষায় আমার ভয় নেই:মঞ্জু

জাতীয় পার্টির আরেক অংশ জেপি-র প্রধান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পিরোজপুর ২ আসনের সাংসদ৷ তাঁর কণ্ঠে অবশ্য খুব বেশি তাড়া শোনা যায়নি৷ বলেন,‘‘দেখুন, যারা ভালো ছাত্র তারা কিন্তু সারা বছর পড়ালেখা করে, আর যারা তা নয়, তারা পরীক্ষার আগে তিন মাস পড়ে৷ আমি তো সারা বছর কাজ করি৷ কাজেই পরীক্ষাতে আমার ভয় নেই৷ আমি নিয়মিত এলাকায় যাই, কাজ করি৷ নির্বাচন এগিয়ে আসছে বলে আলাদা কিছু করছি না৷''

বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মঞ্জু আরো বলেন, ‘‘ যারা সারাবছর কাজ করে না, তারাই বোধহয় এই সময় জায়গা টিকিয়ে রাখতে বেশি দৌড়ঝাঁপ করে৷'' 

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দুই দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্যদের সাথে ডয়চে ভেলের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি৷ তবে, মাঠ পর্যায়ের নানা সূত্র থেকে জানা গেছে, নির্বাচনের নানা প্রস্তুতি তাঁরাও নিতে শুরু করেছেন৷ আগামীতেও তাঁরা আওয়ামী লীগের সাথে জোটে থাকতে পারেন বলেও আভাস মিলেছে৷

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়