একাত্তরের গণহত্যার ‘স্বীকৃতি′ দেওয়ার আহ্বান | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 04.08.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

একাত্তরের গণহত্যার ‘স্বীকৃতি' দেওয়ার আহ্বান

বাংলাদেশে একাত্তরে জেনোসাইডের স্বীকৃতির প্রস্তাব পাস করতে জেনোসাইড বিশেষজ্ঞদের আন্তর্জাতিক জেনোসাইড স্কলার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে৷

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

‘তথ্য প্রযুক্তির যুগে জেনোসাইড ও এর নিবৃত্তি: একবিংশ শতকের চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই আহ্বান জানানোর কথা মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম৷

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইএজিএস প্রেসিডেন্ট মেলানি ও‘ব্রায়েনের কাছে প্রস্তাবের খসড়া পাঠিয়েছেন একাত্তরে শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের ছেলে তৌহীদ রেজা নূর৷

বিংহ্যামটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং স্কলার তৌহীদ রেজা নূর বলেন, "আমাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খসড়া প্রস্তাব পাঠিয়েছি, যা আইএজিএস রেজুলেশন কমিটি যাচাই-বাছাই করে অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল বডির কাছে ভোটের জন্য তুলবে৷"

১৯ জুলাই স্পেনের বার্সেলোনায় আইএজিএস এবং স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব বার্সেলোনার যৌথ আয়োজনে পাঁচ দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি শুরু হয়৷ সেখানে সারা বিশ্বের জেনোসাইড বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা জেনোসাইড বিষয়ক আলোচনা করেন৷ সম্মেলনের প্রথম দিনে জেনোসাইড নিরোধ বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ উপদেষ্টা এলিস ওয়াইরিমু দেরিতু মূল বক্তব্য দেন৷ 

এর আগে ‘বাংলাদেশে জেনোসাইডের পঞ্চাশ বছর এবং অতঃপর' শিরোনামে প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়৷ খ্যাতিমান জেনোসাইড বিশেষজ্ঞ ও বৃটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এডাম জোন্সের সভাপতিত্বে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের চারজন গবেষক শাহরিয়ার আলম, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, এমরান আজাদ এবং ড. তৌহীদ রেজা নূর নিজেদের গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন৷

বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে জেনোসাইডের স্মৃতি কীভাবে প্রবাহিত হচ্ছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিংহ্যামটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক শাহরিয়ার আলম৷ 

‘একাত্তর সালের জেনোসাইড বিষয়ে বাংলাদেশের তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গীঃ একটি নৃতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ‘ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান৷   

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলএম গ্র্যাজুয়েট এমরান আজাদ আলোচনা করেন একাত্তরে সংঘটিত জেনোসাইডের শিকার পরিবারের জন্য গঠিত বিচার প্রক্রিয়ার অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও এর ভবিষ্যৎ বিষয়ে৷

এই সেশনের শেষ বক্তা তৌহীদ রেজা নূর আলোচনা করেন বাংলাদেশে সংঘটিত জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে৷ দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই স্বীকৃতির নানা চ্যালেঞ্জ বিষয়ে আলোকপাতের পর তিনি সেশনের সভাপতি অধ্যাপক জোন্সের মাধ্যমে আইএজিএস-এর প্রতি বাংলাদেশে সংঘটিত জেনোসাইডকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব পাশ করার দাবি তুলে ধরেন৷ সম্মেলনের শেষদিন নবগঠিত নির্বাহী পরিষদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আইএজিএস-এর সদস্য এবং বাংলাদেশ জেনোসাইডের শিকার পরিবারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে ওই জেনোসাইডের স্বীকৃতি দিয়ে রেজ্যুলিউশন ঘোষণা দেবার প্রস্তাব করেন তৌহীদ নূর, সভার কার্যবিবরণীতে নথিভুক্ত হয়৷

এই প্রস্তাবনার মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের জেনোসাইড স্কলারদের প্ল্যাটফর্ম আইএজিএস-এর দিক থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জেনোসাইডকে স্বীকৃতি দেবার প্রক্রিয়াটি শুরু হলো৷

বাংলাদেশে জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিমূলক রেজ্যুলিউশন প্রস্তাবের প্রতি খ্যাতিমান জেনোসাইড বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক গ্রেগরি স্ট্যান্টন, অধ্যাপক হেলেন জারভিস এবং অধ্যাপক এডাম জোন্স পূর্ণ সমর্থন জানান৷

সভায় এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি মফিদুল হক৷

এনএস/এসিবি (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম) 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়