একশ ইউরোতে চিড়িয়াখানায় রাত কাটানোর সুযোগ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 19.08.2009
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

একশ ইউরোতে চিড়িয়াখানায় রাত কাটানোর সুযোগ

একশ ইউরোর বিনিময়ে কোলন চিড়িয়াখানায় এক রাত কাটানোর সুযোগ দেয়া হচ্ছে বাচ্চাদের৷ লক্ষ্য - পরিবেশ রক্ষায় তাদের সচেতন করা, এগিয়ে নিয়ে আসা৷

default

নর্থরাইন ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যে যে সব চিড়িয়াখানা রয়েছে কোলনের চিড়িয়াখানা সবচেয়ে বিখ্যাত৷ এর প্রধান কারণ হল প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি প্রাণী এখানে সংরক্ষিত আছে৷ প্রতিদিনই আসে হাজার হাজার পশুপ্রেমী৷ এবং তারা কখনোই খালি হাতে আসেন না৷ তারা খাবার নিয়ে আসেন, ইচ্ছেমত ছবি তোলেন, হাত বুলিয়ে দেন পশুর গায়ে৷ আদর করেন৷ ঘন্টার পর ঘন্টা কাটান প্রাণীগুলোর সঙ্গে৷ কিন্তু যখন তারা চলে যান তখন কি পশুগুলো ভীষণ একা হয়ে পড়ে?

সদর দরজা বন্ধ হওয়ার পরই মানবশূন্য হয়ে পড়ে চিড়িয়াখানা৷ ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে আসে বিশাল চিড়িখায়ানায়৷ সেই সময় সাধারণত পশু-পাখিগুলোর একাই রাত কাটানোর কথা৷ একটি বাচ্চা বলছে, শশশশশশ............এত জোরে নয়৷ পশু পাখিরা সব ঘুমাচ্ছে৷

এত রাতে চিড়িয়াখানায় ঘোরাঘুরি করছে প্রায় ২০ জন স্কুলের ছেলে-মেয়ে৷ তাদের সবার বয়স ৭ থেকে ১২৷ তারা ধীরে পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে চিড়িয়াখানার মধ্যে দিয়ে৷ একে একে পার হয়ে যাচ্ছে পেঙ্গুইন, সীল, বেবুনের খাঁচা৷ সীলের ডাক শুনে আনিকা বলল, গলা শুনে মনে হচ্ছে সীল যেন কাঁদছে৷

সবাই দেখার চেয়ে শোনায় মন দিয়েছে বেশি৷ কারণ অন্ধকারে শব্দ বেশ স্পষ্টভাবে ভেসে আসছে৷

Schüler im Kölner Zoo

বাচ্চাদের কাছে চিড়িয়াখানার আকর্ষণই আলাদা

চিড়িয়াখানায় কাজ করেন মায়ক্রাঞ্জ৷ তিনি বললেন, রাতে খুব কাছ থেকে এসব পশু পাখির ডাক শোনা নিশ্চয়ই অন্যরকম অনুভূতি৷ রাতে সামনে থেকে একটি সিংহের গর্জন শোনা আর টেলিভিশনের পর্দায় সিংহের গর্জন শোনার মধ্যে কোন মিলই নেই৷

আন্দ্রেয়াস মায়ক্রাঞ্জ চিড়িয়াখানায় ক্যাম্পিংয়ের মূল উদ্যোক্তা৷ ১০০ ইউরোর বিনিময়ে বাচ্চাদের এক রাত চিড়িয়াখানায় কাটানোর ব্যবস্থা তিনিই করে দিয়েছেন৷ এর সঙ্গে রয়েছে পশুপাখি দেখাশোনার কাজ৷ তবে তা মাত্র এক দিনের জন্যই৷ একদিন বাচ্চারা সময় কাটাচ্ছে পৃথিবীর প্রায় সব ধরণের পশুপাখির সঙ্গে৷ তিনি আরো বললেন, প্রায় সব ধরণের পশুপাখিই রয়েছে আমাদের সংগ্রহে৷ পাখি, সরীসৃপ থেকে শুরু করে সব ধরণের মাছ দেখা যাবে৷ এক্যুয়ারিয়ামে রয়েছে নানা প্রজাতির উদ্ভিদ এবং প্রাণী৷

একটি মাছ, যার গায়ে কমলা এবং সাদা ডোরা কাটা৷ সেই মাছটি সবাই চেনে৷ সেই মাছটির নাম নেমো৷ ওয়াল্ট ডিজনির ফাইন্ডিং নেমোর পর মাছটির নাম হয়ে গেছে নেমো৷ এবং এই মাছটির কাছে আসার পরই সব বাচ্চারা এক সঙ্গে চিৎকার দিয়ে উঠেছে নেমো-নেমো বলে৷

এক্যুয়ারিয়ামে রয়েছে অসংখ্য প্রজাতির মাছ৷ মেয়ে মাছগুলো আকৃতিতে তুলনামূলকভাবে বেশ বড়৷ বাচ্চারা চোখ বড় বড় করে দেখছে৷ তারা জানছে, শিখছে৷ সাপ, কুমির, হাতি, বাঘ - কিছুই বাদ থাকছে না৷ ঠিক রাত বারোটার আগেই সবাইকে ক্যাম্পে ফিরতে হবে৷ চিড়িয়াখানার মাঝখানেই বসানো হয়েছে ক্যাম্প৷ ক্যাম্পের মাঝখানে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে৷ আগুনোর কাছেই বসেছেন লুসিয়া শ্রোডার৷ তিনি জানালেন, কেন এই ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন৷ উদ্দেশ্য কি ? লুসিয়া বললেন, আমাদের লক্ষ্য বাচ্চাদের সঙ্গে এই চিড়িয়াখানার, পশু পাখিদের মধ্যে একটি যোগসূত্র ঘটিয়ে দেয়া৷ শুধু পশু-পাখি নয় প্রকৃতির সঙ্গেও পরিচিত হওয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি৷ বলা প্রয়োজন, বাচ্চারা নিজেরাই অনেক কিছু দেখেছে, আবিস্কার করেছে৷ আমরা যারা এখানে কাজ করি আমরা চাচ্ছি এক সময় এসব বাচ্চা প্রকৃতিকে রক্ষার কাজে এগিয়ে আসুক৷

প্রতিবেদক: মারিনা জোয়ারদার, সম্পাদনা :আবদুল্লাহ আল-ফারুক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন