একটি হত্যাকাণ্ড ও অ্যালবিনো-বিরোধী কুসংস্কারের বীভৎস রূপ | বিশ্ব | DW | 29.06.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

মালাওই

একটি হত্যাকাণ্ড ও অ্যালবিনো-বিরোধী কুসংস্কারের বীভৎস রূপ

ম্যাকডোনাল্ড মাসাম্বুকা ভেবেছিলেন সত্যিই বুঝি তার জন্য কনে দেখা হয়েছে৷ ভাইয়ের কথায় আস্থা রেখে খুশিমনেই বেরিয়েছিলেন হবু স্ত্রী-কে দেখতে৷ এভাবে বোকা বানিয়ে মালাওইর এক যাজক, এক পুলিশকর্মীসহ ১২ জন মিলে হত্যা করে তাকে৷

 

ম্যাকডোনাল্ড মাসাম্বুকার ‘অপরাধ'- তার শরীরের ত্বক জন্মের পর থেকেই মেলানিন তৈরিতে অক্ষম৷এ কারণে গায়ের ত্বক, চুল সবই সাদা৷ এমন চেহারার সব মানুষ, অর্থাৎ, অ্যালবিনোদের অপয়া ভাবেন আফ্রিকা অঞ্চলের অনেক মানুষ৷ এমন অযৌক্তিক ধারণা থেকে তাদের ওপর নানা ধরনের নিপীড়ন, নির্যাতন চালানো হয়৷ অনেক সময় হত্যাও করা হয় তাদের৷

২২ বছর বয়সি ম্যাকডোনাল্ড মাসাম্বুকাকে হত্যা করা হয় ২০১৮ সালের ৯ মার্চ৷

মালাওইর দক্ষিণাঞ্চলের মাচিঙ্গা জেলার ব্লান্টায়ার শহরের বাসা থেকে তার ভাই-ই ডেকে নিয়ে যায় তাকে৷ ভাই বলেছে, একজন সুপাত্রীর সন্ধান পাওয়া গেছে, তাই ভালোবাসার কাঙাল ম্যাকডোনাল্ড খুব সেজেগুজেই বেরিয়েছিলেন৷

পরের ঘটনা কোনোদিন হয়ত জানাই হতো না৷ নয় দিন পর তার মৃতদেহ পাওয়ার পরও কেউ বুঝতে পারেনি নৃশংস এক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন জন্মের পর থেকেই চেহারার কারণে সমাজে কোণঠাসা হয়ে থাকা ম্যাকডোনাল্ড মাসাম্বুকা৷ কিন্তু এক পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় আরো দশজনের সহায়তায় তাকে হত্যা করেই থামেননি ক্যাথলিক চার্চের যাজক৷ বাড়তি কিছু উপার্জনের লোভে ম্যাকডোনাল্ডের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করতে চেয়েছিলেন তিনি৷ তার প্রস্তুতির সময়ই ধরা পড়ে যান স্থানীয়ভাবে খুব সম্মানিত সেই যাজক৷  

তারপরও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা সহজ হয়নি৷ ঘটনার তদন্ত ও আদালতে দীর্ঘ শুনানির পর গত সপ্তাহে মামলার রায় হয়েছে৷ রায়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১২ জনেরই বিভিন্ন মেয়াদের সাজা হয়েছে৷

সবচেয়ে বেশি ৩০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে ক্যাথলিক গির্জার যাজক টোমাস মুহোশার৷ এছাড়া পুলিশ কর্মকর্তা চিকোন্ডি চিলেকাসহ বাকিদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত৷

ম্যাকডোনাল্ড হত্যাকাণ্ড তুমুল সাড়া জাগালেও সাব সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলোতে অ্যালবিনোদের হত্যার ঘটনা নতুন কিছু নয়৷ বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল ল্যান্সেট-এর সাস্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে প্রতি পাঁচ হাজারের মধ্যে অন্তত একজন শিশু ত্বকের এমন সমস্যা নিয়ে জন্ম নেয়৷

ত্বকের এমন সমস্যা আছে যাদের, তাদের অ্যালবিনো বলা হয়৷ অ্যালবিনো শব্দটি এসেছে লাতিন শব্দ অ্যালবাস থেকে৷ অ্যালবাস অর্থ সাদা৷

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাকডোনাল্ড হত্যাকাণ্ডের পরের চার বছরে শুধু মালাওইতেই কমপক্ষে ২০ জন অ্যালবিনোকে হত্যা করা হয়েছে৷ জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন বলছে, অ্যালবিনোদের অপয়া ভাবেন এমন মানুষ সারা বিশ্বেই রয়েছে, তাই গত ১০ বছরে সারা বিশ্বে শুধু ত্বকের এই সমস্যার কারণে অন্তত ৬০০ জন মানুষ আক্রমণের শিকার হয়েছেন৷

অ্যালবিনোদের ওপর হামলা সবচেয়ে বেশি হয় মালাওই, জাম্বিয়া, জিম্বাবোয়ে, সাউথ আফ্রিকা ও তাঞ্জানিয়ায়৷ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিক্ষার হার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই কেবল সমাজ থেকে অ্যালবিনো-বিরোধী কুসংস্কার দূর করা সম্ভব৷ পাশাপাশি সমাজের নেতৃত্বের পর্যায়ে নিয়ে আসার মাধ্যমেও সমাজে অ্যালবিনোদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর কথা বলছেন তারা৷

এমন উদ্যোগ অবশ্য ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে৷ বড় দৃষ্টান্ত জার্মানিতে তাঞ্জানিয়ার রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ পোসি৷ জন্মগতভাবে অ্যালবিনো হলেও সব প্রতিকূলতা জয় করে দেশে দেশে তাঞ্জানিয়ার দূত হয়ে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন তিনি৷

সের্তান স্যান্ডার্সন/ এসিবি