একটি ছিনতাই, অনেক প্রশ্ন... | বিশ্ব | DW | 19.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

একটি ছিনতাই, অনেক প্রশ্ন...

ঢাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন জার্মান তরুণী সুইন্ডে ভিডারহোল্ড৷ হতাশা এবং ক্ষোভ নিয়েই দেশে ফিরেছেন তিনি৷ বিষয়টি নিয়ে একরকম তোলপাড়ই চলছে৷ বিদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়টিও উঠে এসেছে আলোচনায়৷

ফটোগ্রাফির প্রতিষ্ঠান ‘পাঠশালা'র শিক্ষার্থী ভিডারহোল্ড বৃহস্পতিবার ভোরে ধানমন্ডির শংকর বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশায় করে তাঁর এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় ফিরছিলেন৷ জিগাতলা সীমান্ত স্কয়ারের সামনে একটি সাদা প্রাইভেটকারে আসা ছিনতাইকারীরা তাঁর ব্যাকপ্যাক টান দিয়ে নিয়ে যায়৷ ওই ব্যাগে তাঁর ল্যাপটপ, ক্যামেরা, ক্রেডিট কার্ড এবং দুটি হার্ডডিস্কসহ অন্যান্য জিনিস ছিল৷

ছিনতাইয়ের ঘটনা তাঁর বন্ধু শশাঙ্ক সাহা বাংলা দৈনিক প্রথম আলোর কাছে বর্ননা করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘সুইন্ডে তাঁর বন্ধুদের জানিয়েছেন, তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দুটি হার্ডডিস্ক৷ দীর্ঘ সময় কষ্ট করে তোলা ছবি এতে রয়েছে৷ দু'টি হার্ডডিস্কের জন্য বৃহস্পতিবার সারা দিনই কেঁদেছেন৷ তাঁকে কিছু খাওয়ানোও যায়নি৷ শুক্রবার ভোরবেলা বন্ধুরা তাঁকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়ে আসেন৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘গত জানুয়ারিতে ধানমন্ডির পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটে ফটোগ্রাফি কোর্স করতে ঢাকায় আসেন সুইন্ডে৷ তিনি চট্টগ্রামে জাহাজভাঙা শিল্প, সুন্দরবন, কুয়াকাটাসহ অনেক জায়গায় প্রচুর ছবি তুলেছিলেন৷ ছিনতাইকারী যে গাড়িতে ছিল, সেই গাড়ির নম্বরপ্লেট বাংলায় থাকায় তিনি সেটি বুঝতে পারেননি৷ রিকশাচালকও সেটি খেয়াল করেননি৷ এ ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েন সুইন্ডে৷''

অডিও শুনুন 02:00
এখন লাইভ
02:00 মিনিট

‘দুঃখ নিয়ে সে বাংলাদেশ ছেড়েছে, যা আমাদেরও কষ্ট দেয়’

সুইন্ডে  ঘটনার পর ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন,  ‘‘আমি পাঁচ মাসে এখানে অনেক জায়গায় গিয়েছি৷ অনেক অভিজ্ঞতা৷ অনেক সহযোগিতা পেয়েছি৷  কিন্তু একটি ঘটনা পুরো বাংলাদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাটি কালো মেঘে ঢেকে দিলো৷ না, এটা (বাংলাদেশ) ভ্রমণের জন্য নিরাপদ নয়৷ একা ভ্রমণ না করাই ভালো৷ আমি কেবল একটি কথাই বলতে পারি, দেখে-শুনে চলো, নিজের ক্ষেত্রে সাবধানে থেকো৷আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি বাংলাদেশ ছাড়ছি৷''

পাঠশালার অধ্যক্ষ তানভির মুরাদ তপু ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সুইন্ডে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ার পরই আমরা জানতে পারি৷ এরপর তাঁকে নিয়ে আমরা থানায় যাই৷ সে একটি মামলা করেছে৷ ঢাকায় থাকাকালে সে একবার দেশের বাইরেও গিয়েছিল৷ আর বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সে ছবি তুলেছে৷ সেই সব ছবিই হার্ডডিস্কে ছিল৷ সে ওই ছবিগুলোর জন্যই বেশি কাতর হয়ে পড়ে৷ অবশেষে মনভরা দুঃখ নিয়ে সে বাংলাদেশ ছেড়েছে, যা আমাদেরও কষ্ট দেয়৷''

তিনি জানান, ‘‘হানোফারের সঙ্গে আমাদের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম আছে৷  তার আওতায়ই সুইন্ডে পাঠশালায় ফটোগ্রাফি কোর্স করতে এসছিলেন৷  আমাদেরও তিন জন এখন হানোভারে আছে৷ সুইন্ডে বাংলাদেশ সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত ছিলেন৷ সবার সঙ্গে মিশতেন৷ ক্লাসেও ছিলেন মনোযোগী৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি দুঃখ নিয়ে বাংলাদেশ ছাড়লেন৷''

অডিও শুনুন 00:27
এখন লাইভ
00:27 মিনিট

‘আশা করছি, সুইন্ডে তাঁর ছিনতাই হওয়া জিনিসপত্র ফেরত পাবেন’

ধানমন্ডি থানা পুলিশ এখন সুইন্ডের ছিনতাই হওয়া জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছে৷ শুধু থানা পুলিশ নয়, ডিবি, পিবিআইসহ পুলিশের আরো কয়েকটি সংস্থা মাঠে নেমেছে ব্যাগ উদ্ধারে৷ ধানমন্ডি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) পারভেজ হাসান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা আশপাশের এলকার সিসি ক্যামেরার সব ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি৷ সীমান্ত স্কোয়ারের  ভিডিও ফুটেজের জন্য পুলিশ সদরদপ্তরে আবেদন করেছি৷ ৪-৫টি প্রাইভেট কার চিহ্নিত করেছি৷ আশা করি, ফুটেজ দেখে আমরা ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করতে পারবো৷ আমরা আশাবাদী, সুইন্ডে তাঁর ছিনতাই হওয়া জিনিসপত্র ফেরত পাবেন৷''

বাংলাদেশে এর আগেও একাধিক বিদেশি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন৷ ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে মঞ্চ থেকে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত লিওনি কুলেনারার ভ্যানিটি ব্যাগ চুরির ঘটনা ঘটে৷ পরে অবশ্য ওই ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধারে সক্ষম হয় পুলিশ৷

ঢাকা মেট্রেপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ঘটনার পর থেকেই পুলিশ সুইন্ডের ব্যাগ উদ্ধারে তৎপর আছে৷ অতীতেও  এরকম ঘটনা ঘটেছে৷ বিদেশি নাগরিকদের ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনতাইকারী আটক এবং মালামাল উদ্ধারে সক্ষম হয়েছি৷ আশা করি, এবারও সক্ষম হবো৷''

অডিও শুনুন 02:22
এখন লাইভ
02:22 মিনিট

‘সবার জন্য সমান নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব হয় নয়’

হোলি আর্টিজান হামলার পর বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিক এবং  দূতাবাসের বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয় সরকার৷ বিদেশি নাগরিকরা এরপর থেকে বাংলাদেশ ভ্রমনে আস্থা ফিরে পায়৷ সেই নিরাপত্তা এখনো অব্যাহত আছে কিনা জানতে চাইলে মাসুদুর রহমান বলেন, ‘‘বিদেশি দূতাবাস এবং নাগরিকদের  নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এখনো কার্যকর আছে৷ আমরা নিরাপত্তার জন্য বিদেশি নাগরিক যাঁরা বাংলাদেশে আসেন, তাঁদের চলাচলের ওপর খেয়াল রাখি৷ তবে নানা কাজে তাঁরা আসেন৷ কেউ ভ্রমণ করতেও আসেন৷ সবার জন্য সমান নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব হয় না৷''

সুইন্ডের বিদেশ ভ্রমণের নেশা আছে৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ  করে ছবি তুলেছেন৷ ঢাকায় গ্যোয়েটে (বানানভেদে গোয়েটে) ইন্সটিটিউটের সামনেও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন তিনি৷ পাঠশালার জনসংযেগ কর্মকর্তা ইমরান আহমেদের ভাষায়, ‘‘অত্যন্ত বন্ধু বৎসল সুইন্ডে আমাদের সবাইকে আপন করে নিয়েছিলেন৷ কিন্তু আমরা তাঁকে হাসিমুখে তাঁর দেশে পাঠাতে পারলাম না৷ এটা আমাদের দুঃখ৷ এখন যদি  পুলিশ তাঁর ছিনতাই হওয়া জিনিসপত্র উদ্ধার করে তাঁকে ফেরত দিতে পারে, তাহলে আমরা সবাই খুশি হবো৷''

প্রতিবেদনটি নিয়ে আপনার কোনো মন্তব্য থাকলে লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও