একটি চিরকুট এবং ভারতে সমকামী নারীদের পরিণতি | বিশ্ব | DW | 14.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

একটি চিরকুট এবং ভারতে সমকামী নারীদের পরিণতি

ভারতে দুই সমকামী নারী নদীতে ঝাঁপিয়ে পরে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন৷ সমকামী অধিকারকর্মীরা বলছেন, ‘শুদ্ধিমূলক ধর্ষণ' এবং পারিবারিক চাপে পরেই তারা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন৷

এর মধ্য দিয়েই ভারতে সমকামীদের প্রকৃত করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে৷ নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার আগে আত্মহত্যাকারীরা চিরকুট লিখে গেছেন৷ সোমবার ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ গুজরাটের ওই ঘটনায় স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা অবশ্য কোনও তথ্য জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন৷

বার্তা সংস্থা রয়টার্সে স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বলা হয়, পুলিশ এমনকি চিরকুটের ব্যাপারটিও অস্বীকার করেছে৷

তারা জানিয়েছে আত্মহত্যাকারীদের চিরকুটে লেখা ছিল – ‘আমরা এই পৃথিবী ছেড়ে একে অপরের সাথে থাকার জন্য চিরতরে চলে যাচ্ছি৷ এ পৃথিবী আমাদের একসাথে থাকা গ্রহণ করে না৷'

অধিকারকর্মী অঞ্জলি হোপালান বলেন, ‘‘সমকামীদের মধ্যে বাই-সেক্সুয়াল, পুরুষ সমকামী, হিজড়াদের চেয়ে নারী সমকামীদের আত্মহত্যার প্রবণতাই বেশি৷''

তিনি বলেন, ‘‘পুরুষ সমকামীদের চেয়ে তারা অনেক বেশি খারাপ ও কঠিন জীবনযাপন করেন৷ পুরুষদের সমকামিতা তাদের চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে৷ নারীদের যৌনতা নিয়ে ভারতে খুব স্বল্পই কথা হয়৷ ফলে এটি নারী সমকামীদের জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে৷''

ভারতে সমকামীদের সংখ্যা নিয়ে কোনও পরিসংখ্যান নেই৷ তবে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে ২৫ লাখ মানুষ নিজেদের সমকামী বলে দাবি করেছেন৷

এরমধ্যে নারী সমকামীরা দুই ধরনের বৈষম্যের শিকার হন৷ প্রথমত, তারা পুরুষতান্ত্রিকতার শিকার হন এবং দ্বিতীয়ত তাদের ‘সমকামী' আচরণের জন্য৷

২০০৯ সালের জুলাই মাসে দিল্লি হাইকোর্টের একটি রায়ে সমকামিতা অপরাধের আওতায় পড়ে না বলে রায় দিলেও ২০১৩ সালে পুনরায় সমকামিতাকে অবৈধ ঘোষণা করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট৷

যদিও এই আইনটি প্রয়োগ করা হয় কমই, কিন্তু এর দ্বারা সমকামীরা প্রতারণা ও নিপীড়ণের শিকার হন৷ শহরের বাইরে সমকামীরা সহিংস আক্রমণ, নৃশংসতা, এমনকি মৃত্যুর পর্যন্ত শিকার হন৷

হিজড়া অধিকার রক্ষাকর্মী মায়া উর্মি আহের বলেন, ‘‘গ্রামাঞ্চলে ‘সংশোধনমূলক ধর্ষণে'র ব্যাপারটি পুরোদস্তুর চালু রয়েছে এবং এটি অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি যে কারণে নারীরা কথা বলতে সাহস পান না৷''

তিনি বলেন, ‘‘নারীদের পারিবারিক দায়িত্ব ও সন্তানদের কথা চিন্তা করে৷ এ ধরনের ধর্ষণের খবর খুব কমই গণমাধ্যমে প্রচার করে পরিবার৷ কেননা, যারা এ খবরগুলো নিয়ে আসেন তারা হয় ওই নারীর স্বামী হন, কিংবা ভাই বা বাবা৷ এ ব্যাপারে অপরাধের তুলনায় আইনি প্রয়োগ খুবই হাস্যকর পর্যায়ে রয়েছে৷''

এইচআই/ডিজি (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন