একটি অসুখী সমাপ্তি মানে খারাপ শুরু | বিশ্ব | DW | 22.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সংবাদভাষ্য

একটি অসুখী সমাপ্তি মানে খারাপ শুরু

এসপিডি দলের সম্মেলনে জোট সরকার গড়ার পক্ষে মত এসেছে৷ তারপরও দল এখন বিভক্ত৷ এর চেয়েও খারাপ খবর হচ্ছে, সম্মেলনে ভোটের ফল দুর্বল নেতৃত্বের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে, মনে করেন ডিডাব্লিউর সাবিনে কিনকার্ৎস৷

জার্মানির সামাজিক গণতন্ত্রী দল, এসপিডির প্রধান মার্টিন শুলৎস যেন দলের বর্তমান অবস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন৷ সম্মেলনে দেয়া তাঁর এক ঘণ্টার বক্তব্যে আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু ছিল না৷ পরে ভোটের সময় সম্মেলনে উপস্থিত ৬০০ প্রতিনিধির মধ্যেও একই প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে৷

বছরখানেক আগে ইউরোপীয় সংসদের প্রেসিডেন্টের পদ ছেড়ে এসপিডির প্রধান হয়ে দলের মধ্যে গতির সঞ্চার করেছিলেন শুলৎস৷ কিন্তু এক বছর পর তাঁর পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে আছে৷

এদিকে, এসপিডির তরুণ কর্মীদের সংগঠনের জোট গঠন নিয়ে বিরোধিতার বিষয়টি অনেক ডেলিগেটের মধ্যে নিশ্চিতভাবেই ছড়িয়ে পড়েছিল বলা যায়৷ যদিও এসপিডির অনেক শীর্ষ নেতা তরুণদের এই বিরোধিতাকে ‘অপ্রয়োজনীয় প্রতিবাদ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন৷ ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, ৪৪ শতাংশ ডেলিগেট জোটের বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন৷ আর ৫৬ শতাংশ প্রতিনিধি দলীয় প্রধানের জোট গড়ার সিদ্ধান্তের প্রতি তাঁদের সমর্থন জানান৷

রবিবারের ফলাফল তরুণ নেতৃবৃন্দসহ জোটের বিরোধিতাকারীদের ভবিষ্যতে শীর্ষ নেতাদের আরও বিরোধিতা করার ব্যাপারে উৎসাহী করে তুলবে৷ কারণ, শেষ পর্যন্ত দলের প্রায় সাড়ে চার লক্ষ সদস্যের ভোটে সরকার গঠনের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে৷

আন্দ্রেয়া নালেস: শীর্ষনেতা হিসেবে ভালো?

এসপিডি দলে দেখা দেয়া বিভাজন দিন দিন আরও বাড়বে৷ দলের মধ্যে সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী দু'টি অংশ একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছে৷ দুই অংশই তাঁদের নিজেদের পক্ষে জোরালো যুক্তি দিতে সক্ষম৷ কিন্তু দুটোর ক্ষেত্রেই ঝুঁকি আছে৷ কারণ, চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সিডিইউ দলের সঙ্গে জোট গঠন করলে এসপিডি দূর্বল হয়ে পড়তে পারে৷ আবার নতুন নির্বাচন হলেও দলটির একই পরিমাণ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে৷ এই পরিস্থিতির আসলে কোনো আদর্শ সমাধান নেই৷ এটি আসলে একটি উভয় সংকট৷

Kinkartz Sabine Kommentarbild App

সাবিনে কিনকার্ৎস, ডিডাব্লিউ

মার্টিন শুলৎস এই সংকট থেকে দলকে উদ্ধার করতে পারবেন কিনা, তা এখনও অজানা৷ জার্মান সংসদে এসপিডিকে নেতৃত্ব দেয়া আন্দ্রেয়া নালেস এক্ষেত্রে হয়ত শুলৎসের চেয়ে ভালো কাজ করতে পারবেন৷ রবিবারের সম্মেলনে দেয়া তাঁর বক্তব্য শুলৎসের চেয়ে শক্তিশালী ছিল৷ তাঁর বার্তা অনেক ডেলিগেটের মন জয় করেছে৷ নালেস বলেছেন, জোট গড়ার আলোচনায় শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবে এসপিডি৷

প্রস্তরখন্ড, নাকি শক্ত জায়গা?

ডেলিগেটদের কেউই আসলে হৃদয় থেকে জোট গড়ার পক্ষে নন৷ যাঁরা পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তাঁরা দুটি খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে একটু ভালোটাকে বেছে নিয়েছেন৷ এরপর এসপিডির সাড়ে চার লক্ষ সদস্য যে ভোট দেবেন, তাঁদেরও একটি প্রস্তরখন্ড ও একটি শক্ত জায়গার মধ্যে যে-কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে৷

কিন্তু এরকম বিভাজিত একটি দল কীভাবে একটি দেশকে শাসন করবে? গত কয়েক বছর ধরে এসপিডি ক্রমেই দূর্বল হয়ে পড়ছে৷ তাই তাদের সতর্ক হতে হবে৷ বলা যায়, তাঁরা কিছুটা ‘অসুখী’৷ কিন্তু এসপিডি যদি এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভোটাররা এসপিডির উপর আস্থা হারিয়ে ফেলতে পারে৷

সাবিনে কিনকার্ৎস/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়