একই ছবির দুটি রূপ! | অন্বেষণ | DW | 05.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

একই ছবির দুটি রূপ!

মিউজিয়াম বা গ্যালারিতে গিয়ে ছবির কদর করতে হলে ঠিক জায়গায় দাঁড়ানো জরুরি৷ স্পেনের এক শিল্পী এমন ছবি আঁকছেন, বিভিন্ন কোণ থেকে দেখলে যেগুলির রূপ বদলে যায়৷ তরুণী পরিণত হয়ে যায় বৃদ্ধায়৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

এক নারীর মুখচ্ছবিতে ব্যথার ছাপ ছড়িয়ে পড়ছে৷ হাসিখুসি একটি মেয়ের মুখে উগ্র মনোভাবের একটি ছেলের অভিব্যক্তি৷ স্যার্শি কাদেনাস-এর ছবির কদর করতে হলে পরিপ্রেক্ষিত বদলে ফেলতে হবে৷ স্পেনের এই চিত্রশিল্পী তাঁর শিল্পকর্মের মধ্যে দুই রকম অর্থ ফুটিয়ে তুলতে ভালোবাসেন৷ তিনি বলেন, ‘‘ছোটবেলায়ই লেন্টিকুলার বা মসূরাকার ছবি পছন্দ করতাম৷ তৈলচিত্রের ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতি প্রয়োগ করার আইডিয়া মাথায় এলো৷ এভাবে দর্শকদের অবাক করে দেই৷''

কাটালুনিয়া প্রদেশে জিরোনা শহরের কাছেই ৪৭ বছর বয়সি এই শিল্পীর স্টুডিও৷ নিজেই তিনি আঁকার কাজ শিখেছেন৷ আপাতত তিনি একটি মেয়ের প্রতিকৃতি নিয়ে ব্যস্ত৷ পরিপ্রেক্ষিত বদলে গেলেই ছবিতে মেয়েটিকে বৃদ্ধার মতো দেখায়৷

বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী ও পরিবারের সদস্যরাই সাধারণত তাঁর মডেল হন৷ সবার আগে তিনি তাঁদের ছবি তোলেন৷  প্রত্যেক ছবির জন্য স্যার্শি কাদেনাসের এক মাস সময় লাগে৷ কিন্তু কীভাবে এমন বিভ্রম সৃষ্টি হয়? কাদেনাস আসলে বিশেষ ধরনের রং ব্যবহার করে দ্ব্যর্থ ছবির রিলিফ সৃষ্টি করেন৷

কেকে ক্রিম দেবার সিরিঞ্জ তাঁর গোপন হাতিয়ার৷ এর কারণ ব্যাখ্যা করে কাদেনাস বলেন, ‘‘আমার প্রতিবেশী ছিলেন কেক প্রস্তুতকারক৷ এটা তাঁর কাছ থেকে পেয়েছি৷ তাঁকে কাজ করতে দেখে সেটি ব্যবহারের আইডিয়া মাথায় আসে৷’’

ভিডিও দেখুন 04:18

দিক বদলালে রূপও বদলায়

মিশ্রণটি দুই দিন শোকাতে হবে৷ তারপর ছেনি দিয়ে সবকিছু নিখুঁত করে তুলতে হয়৷ তারপর ছোটখাট ত্রুটি দূর করার পালা৷ সবশেষে ছবিদুটি আঁকতে আমার দু'টি নিখুঁত সারফেসের প্রয়োজন হয়৷ প্রত্যেক দিকে একটি করে ছবি থাকে৷

প্রথমে তিনি একটি স্কেচ করে নেন৷ স্যার্শি কাদেনাস এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেন, ‘‘রং দিয়ে আঁকার সময় তরুণ থেকে বৃদ্ধ হবার রূপান্তর চোখে পড়ে৷ স্কেচ করার সময় খেয়াল রাখতে হয়, যাতে দু'টি মোটিফের রেখা মোটামুটি একই জায়গায় থাকে৷ শেষে বৃদ্ধার ত্বকের ভাঁজগুলি আঁকতে হয়, তরুণীর ক্ষেত্রে যা থাকে না৷ ব্যস আর কিছু নয়৷ দু'জনেরই গালের অংশটি হুবহু এক থাকে৷’’

তারপর তিনি তেল রং দেন৷ সবসময়ে ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেল বা কোণ বজায় রাখতে হয়৷ গোটা প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে স্যার্শি বলেন, ‘‘এখান থেকে আমি শুধু একটি ছবি দেখতে পাই৷ ফ্ল্যাট সারফেসে আঁকার রীতি অনুযায়ীই আঁকতে হয়৷ রেখাগুলি যাতে একটানা না হয়, সেই কায়দা শিখতে হয়৷ ক্যানভাসের মধ্যেই প্রবেশ ও বেরোনোর পথ থাকতে হবে৷ প্রথমে একটি ছবি শেষ করি৷ তারপর অন্যদিক থেকে পরের ছবিটি আঁকি৷’’

জিরোনা শহরের চলচ্চিত্র মিউজিয়াম থেকেও স্যার্শি কাদেনাস প্রেরণা পান৷ সেখানে তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর শিল্পকর্মে বিভ্রমগুলি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসেন৷ তাঁর মতে, অতীতে এ সব মানুষকে প্রেরণা জুগিয়েছে, বিস্ময় সৃষ্টি করেছে৷ সেই বিস্ময় ও জাদু তাঁর সবচেয়ে ভালো লাগে৷

গোটা বিশ্বে মূলত ব্যক্তিগত সংগ্রহেই তাঁর ছবি শোভা পাচ্ছে৷ এরই মধ্যে কিছু মিউজিয়ামও তাঁর কাছ থেকে ছবি কিনেছে৷ ম্যারিলিন মনরো একই ছবিতে আলব্যার্ট আইনস্টাইনে রূপান্তরিত হচ্ছেন৷ স্যার্শি কাদেনাস ভবিষ্যতেও চিত্রশিল্পের মধ্যে এমন বিভ্রম সৃষ্টি করতে চান৷ থ্রিডি চশমায় দেখা যায়, এমন তৈলচিত্র আঁকার আইডিয়া তাঁর মাথায় এসেছে৷

ক্রিস্টিনা লাউবে/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন