ঋণে কৃষি সংকটের সমাধান হবে না | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 12.04.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ঋণে কৃষি সংকটের সমাধান হবে না

কৃষকদের জন্য আলাদা প্রণোদনাকে স্বাগত জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও কৃষি খাত বিশেষজ্ঞরা৷ তবে ঋণ সুদমুক্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন কেউ কেউ৷ পাশাপাশি দরকার সরবরাহ ব্যবস্থা ও কৃষি উপকরণের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা৷

শনিবার প্রধানমন্ত্রী কৃষি খাতের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ তহবিল গঠনের কথা জানিয়েছেন৷ তার বক্তব্য অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক এই স্কিমটি গঠন করবে৷ সেখান থেকে মৎস্য চাষ, পোলট্রি, ডেইরিসহ কৃষি উৎপাদনের জন্য ঋণ নেয়া যাবে৷ এই সুবিধা পাবেন শুধু ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষিরা৷

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শিল্প খাতের জন্য ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার একটি প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন৷ সব মিলিয়ে করোনাকালীন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ঘোষিত তহবিলের আকার দাঁড়ালো ৭৭ হাজার ৭৫০ কোটি টাকায়৷

তবে কৃষি খাতের জন্য সবশেষ ঘোষিত তহবিলের যোগানটি কোথা থেকে, কিভাবে আসবে তা পরিস্কার নয়৷ এ বিষয়ে এখনও কোন নির্দেশনা পায়নি বাংলাদেশ ব্যাংকও৷

সাধারণত প্রতি বছর কৃষি খাতে আলাদাভাবে ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক৷ ২০১৯-২০ অর্থবছরে যা ছিল ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা৷ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত তহবিলের যোগান এর বাইরে কিনা তাও স্পষ্ট নয়৷ এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম রোববার সন্ধ্যায় ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘সাধারণ এসব বিষয়ে অর্থমন্ত্রণালয় থেকে আমাদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয়৷ তখন সেই নির্দেশনার আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দিষ্ট পলিসি অনুযায়ী তা পরিপালনের ব্যবস্থা করে৷ এই বিষয়ে এখন চিঠি দেয়া হলে আমরা পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করব৷’’

নামমাত্র বা বিনা সুদে দেয়া উচিত

কৃষি খাতের এই প্রণোদনাকে স্বাগত জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা৷ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্ট্যাডিজ-বিআইডিএস এর সাবেক মহাপরিচালক ড. কাজী সাহাবুদ্দিন বলেন, অন্যান্য খাতের তুলনায় কৃষির জন্য প্রণোদনার আকার ছোট৷ তারপরও তা কৃষকদেরকে উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে উৎসাহিত করবে৷ 

বর্তমানে কৃষি খাতে ঋণের সুদ হার প্রতিষ্ঠান ভেদে নয় থেকে ২০ ভাগ পর্যন্ত৷ নতুন ঘোষিত তহবিলে এর হার পাঁচ ভাগ৷ তবে ড. সাহাবুদ্দিন মনে করেন সংকটকালীন এই সময়ে নামমাত্র বা বিনা সুদে কৃষকদের ঋণ দেয়া উচিত ছিল৷ তিনি বলেন, ‘‘সবচেয়ে ভাল হতো এই টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করলে, তা না হলেও শূন্য সুদে দেয়া যেত৷ অর্থাৎ, কৃষক ৫০০ টাকা নিয়ে সমপরিমান টাকা ফেরত দিবেন৷’’

তাঁর সঙ্গে অনেকটা একমত বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকনোমিক মডেলিং- সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রথমত টাকাটা যাতে কৃষকের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে হবে৷ দ্বিতীয়ত, সুদের ব্যাপারটিও সরকার ভেবে দেখতে পারে৷ আমার ধারণা এই সুদ পরে সরকার মওকুফ করে দিতে পারে৷’’

তাঁর মতে, সামনে এমন পরিস্থিতি আসতে পারে যার জন্য সরকারের নিজ থেকেই এমন উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন হতে পারে৷

শুধু ঋণ যথেষ্ট নয়

ড. সেলিম রায়হান মনে করেন, কৃষকদের জন্য শুধু ঋণ দেয়াই যথেষ্ট নয়৷ ‘‘আরো কিছু উদ্যোগ নিতে হবে৷ কৃষি উপকরণের অভ্যন্তরীন বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে৷ সেক্ষেত্রে শুধু ঋণ দিয়ে সংকট সমাধান করা যাবে না৷ এজন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে কৃষি উপকরণের সরবরাহ ব্যবস্থাটা সচল রাখার উদ্যোগ নিতে হবে৷ কৃষকরা দেখা যাবে টাকা পাবে, কিন্তু সেটা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারবে না৷ যেহেতু ফসল নির্দিষ্ট সময়ের উপর নির্ভরশীল তাই ভেঙ্গে পড়া সরবরাহ ব্যবস্থাকে দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে,’’ বলেন এই অর্থনীতিবিদ৷ 

বোরো ফসল তোলার জন্য শ্রমিকদের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাতায়তের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শও দেন তিনি৷

আসছে মৌসুমে সরকার সাড়ে ১১ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে৷ এক্ষেত্রে সরকারকে আগের চেয়েও সতর্ক থাকতে বলেন ড. সাহাবুদ্দিন৷ তার মতে, ‘‘উৎপাদন খরচ না বাড়ায় ধান চাল সংগ্রহ অভিযানের জন্য বেধে দেয়া দামে কৃষকের লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে৷ তবে এজন্য কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি চাল কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে৷ মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা যেন কৃষকের সুবিধা না ভোগ করে৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়