‘ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে′ | বিশ্ব | DW | 14.06.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

‘ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে'

ঋণের টাকা শোধ না করে, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন শেখ হাসিনা৷ শুক্রবার বিকেলে, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সংবাদ সম্মলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন৷

২০২৩-২৪ সালে দেশের প্রবৃদ্ধি ১০-এ উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে এই বাজেট দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি৷

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আর্থিক ও শেয়ার বাজার সংস্কার একান্তভাবে জরুরি৷' আর্থিক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ব্যাংকের মূলধন বাড়ানো এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে৷

দেশের শিল্প ও ব্যবসাখাতকে প্রতিযোগিতামূলক রাখতে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি জানান, ব্যাংক ঋণের ওপর সুদের হার এক অংকে অর্থাৎ সিঙ্গল ডিজিটে নামিয়ে আনা হচ্ছে৷ একইসঙ্গে, বড় ঋণগুলো আরো নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষণ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠাগুলোর ঋণ মনিটরিং ব্যবস্থাকে জোরদার করা হবে৷

সরকার প্রধান বলেন, শেয়ার বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করতে চায় তার সরকার৷ দেশের জন্য শক্তিশালী অর্থনীতির পাশাপাশি একটি বিকশিত পুঁজিবাজার দেখতে চান শেখ হাসিনা৷ তিনি বলেন, ‘এই বাজেটে পুঁজিবাজারের অনেক প্রণোদনা থাকছে৷ পুঁজি বাজারের তালিকাভূক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ আয় করমুক্ত থাকবে৷'

‘ভালো না লাগা পার্টি'র গুরুত্ব নেই

বাজেট পর্যালোচনায় সিপিডি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই বাজেট অপশাসনের সুবিধাভোগীদের পক্ষে যাবে৷ এ বিষয়ে প্রশ্ন এলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু লোক থাকে, যাদের একটা মানসিক অসুস্থতা থাকে৷ তাদের কিছুই ভালো লাগে না৷ আপনি যতোই ভালো কাজ করেন, তারা কিছুই দেখে না৷ যখন দেশে একটা গণতান্ত্রিক পদ্ধতি থাকে, দেশে উন্নয়ন হয়, সাধারণ মানুষের উন্নতি হয়, তখন তারা কোনো কিছুই ভালো দেখে না৷' 

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘তারা কী গবেষণা করেন আমি জানি না। এত সমালোচনা করেও আবার বলবে, আমরা কথা বলতে পারি না। আমার কথা হচ্ছে, সাধারণ মানুষ খুশি কি-না। তারা লাভবান হচ্ছে কি-না, এটাই দেখার বিষয়। এটা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। এর সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো আমাদের লক্ষ্য৷'

দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করা এবং স্বাধীনতার সুফল মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছানোই নিজের লক্ষ্য বলে জানান প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, ‘আগে বিশ্বদরবারে ভিক্ষুকের জাত বলতো, এখন আর কেউ এটা বলতে পারে না। এটাই বড় অর্জন। এমন অর্জন সত্ত্বেও সমালোচনা। আসলে ‘ভালো না লাগা পার্টি'র কিছুই ভালো লাগে না। যারা সমালোচনা করে, করে যাক। ভালো কিছু বললে গ্রহণ করবো, মন্দ কিছু বললে ধর্তব্যে নেবো না।'

পত্রিকা মালিকদের এক হাত!

খেলাপী ঋণ আদায় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, পত্রিকা মালিকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী৷ প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পত্রিকা মালিকরা কোন ব্যাংক থেকে কতো টাকা নিয়েছেন, তারা তা ফেরৎ দিয়েছেন কিনা বা কতো টাকা শোধ দিয়েছেন, এই হিসেবটা জানা থাকলে, এরকম প্রশ্ন আসতো না৷ পত্রিকা মালিকদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ খুঁজে বের করতেও সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি আশা করেন, পত্রিকার মালিকরা খেলাপি ঋণ ফেরৎ দিয়েই, এ প্রসঙ্গে লেখালেখি করবে৷

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি যেন সুদের হার সিঙ্গল ডিজিটে থাকে৷ সিঙ্গল ডিজিটে রাখার জন্য কতগুলো সুবিধাও দিলাম৷ কিন্তু অনেক বেসরকারি ব্যাংক সেটা মানেনি৷ এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেয়া হবে৷ তাদের এই নিয়মটা মেনে চলতে হবে৷ যেন সুদের হার সিঙ্গল ডিজিটে হয়, কোনোভাবে ডাবল ডিজিট যাতে না হয়৷ তাহলে আমাদেরও বিনিয়োগ বাড়বে৷'

প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, একদিকে চড়া সুদের হার, অন্যদিকে চক্রবৃদ্ধি কারণেই খেলাপি ঋণের পরিমাণটা বড়ো হয়েছে৷ তিনি বলেন, প্রকৃত ঋণের দিকে তাকালে, পরিমাণটা এতো বড় দেখাতো না৷ এই দুর্বলতা দূর করার চেষ্টার কথাও জানান সরকার প্রধান৷

কালো টাকা সাদা

বিদেশে অর্থপাচার ঠেকাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখার কথা জানিয়েছন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে নতুন অর্থবছরের বাজেটে।

‘বিনিয়োগের পর কিন্তু নির্দিষ্ট হারে তাদের সুদ দিতে হবে৷ অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে যদি সে বিনিয়োগ করে, তাহলে কোনো প্রশ্ন করা হবে না৷', বললেন প্রধানমন্ত্রী৷

ভবিষ্যতে যাতে কেউ কালো টাকার মালিক হতে না পারে সেদিকেও সরকার সজাগ থাকবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী৷

উন্নয়ন সোপান

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে তার সরকার৷ তাই জনগণকে কষ্ট না দিয়ে, সবাইকে সম্পৃক্ত করে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নেয়া হয়েছে৷ ২০৩০ সালের তিন কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির স্বপ্নও দেখান প্রধানমন্ত্রী৷

এ বছর থেকে ভ্যাট আইন শুরুর কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পণ্যের দাম যাতে না বাড়ে সেদিকে দৃষ্টি দেয়া হবে৷ আর বাড়লেও সেটা যাতে সহনীয় পর্যায়ে থাকে সেটা নিশ্চিত করা হবে৷

বাজেটকে এক বাক্যে ‘জনকল্যাণমূলক' আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷ বাজেট বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান তিনি৷

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ থাকায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ দায়িত্ব নেন৷ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর হয়ে বাজেটের বক্তৃতার একাংশও পড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের' শিরোনামে প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২০৷ বাজেটে ব্যয় মেটাতে সরকারি অনুদানসহ আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এবারও বাজেট ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন