‘ঊনবিংশ শতাব্দীর জনপ্রিয় হার্ট হ্যাকার সুচিত্রা সেন’ | বিশ্ব | DW | 17.01.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

‘ঊনবিংশ শতাব্দীর জনপ্রিয় হার্ট হ্যাকার সুচিত্রা সেন’

আজন্ম রোম্যান্টিক বাঙালির দুর্মর সিনে-রোম্যান্টিকতার শেষ ‘আইকন’ সুচিত্রা সেন৷ বাংলাদেশের পাবনায় জন্ম নেয়া রমা দাশগুপ্তই পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন বাংলা ছবির একমাত্র মহানায়িকা৷ তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ব্লগিং জগতও৷

শুক্রবার সেই মহানায়িকার মৃত্যুতে তাই শোকাহত ব্লগার আর ফেসবুক ব্যবহারকারীরা৷ কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে ৮৩ বছর বয়সে সুচিত্রা সেনের দেহত্যাগের খবরটি অনেক ব্লগার তাঁদের পোস্টে শেয়ার করেছেন৷ কেউ কেউ আবার পোস্টের সঙ্গে সুচিত্রা অভিনীত গানের দু-একটি লাইন জুড়ে দিয়েছেন৷

সামহয়্যার ইন ব্লগে জগজিত সেন লিখেছেন, ‘‘কিছুক্ষণ আরো না হয় রহিতে কাছে; আরো কিছু কথা না হয় বলিতে মোরে....এইসব বিখ্যাত গানের প্রাণ এসেছিল যার অনবদ্য কালজয়ী অভিনয়ের মাধ্যমে, সেই মহানায়িকা সুচিত্রা সেন সকাল ৮.২৫ মিনিটে না ফেরার দেশে চলে গেছেন...৷''

একই ব্লগে রিপন ইমরানের পোস্টের শিরোনাম, ‘‘সুচিত্রা সেনের নবজন্ম৷'' তিনি লিখেছেন, ‘‘নায়িকা সুচিত্রা সেনের মৃত্যু হয়েছিলো ঠিক ৩৬ বছর আগেই....যখন তাঁর শেষ অভিনীত ‘প্রণয় পাশা' সিনেমাটা দর্শক জনপ্রিয়তা না পাওয়ার পরপরই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে৷ কী অসামান্য ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ৷ ভক্ত হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চেয়েছেন স্বপ্নের নায়িকা হয়েই৷ কোনো জীর্ণ শীর্ণ বৃদ্ধার বেশে কখনই নিজেকে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে চাননি৷....আজ সেই মৃত নায়িকা সুচিত্রা সেনের নতুন করে জন্ম হলো৷ দর্শক হৃদয়ে তাঁর নামের পাশে যোগ হলো ‘কিংবদন্তি' নায়িকা শব্দটি৷ খুব সম্ভবত তিনিই বিশ্বের প্রথম নায়িকা যিনি তার বয়েসকে আটকে দিতে পেরেছেন৷''

মোরতাজা লিখেছেন, ‘‘রুপালি পর্দায় মানুষের সাদা কালো জীবনের রঙ্গিন স্বপ্নগুলোকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তোলার মহানায়িকা সুচিত্রা সেন আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটায় মারা গেছেন৷ জানি এটাই প্রকৃতির নিয়ম৷ তবুও কিছু মৃত্যু আমাদের বেশি কষ্ট দেয়৷.... সাধারণত নায়িকারা চলচ্চিত্রে আসেন, তারপর ক্যারিয়ার গড়েন এবং বিয়ে করে সংসারি হয়ে ঘরে ফিরে যান৷ বাংলাদেশে জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং সংসার শুরু করে পরে কলকাতায় থিতু হওয়া সুচিত্রা এখানে একেবারেই ভিন্ন৷ তিনি পড়াশোনা করেছেন, বিয়ে করে সংসার শুরু করে স্বামীর উৎসাহেই সিনেমায় এসেছেন এবং বাংলা সিনেমার দর্শকদের মন জয় করেছেন বছরের পর বছর ধরে৷''

ফয়সাল মাহাদী তাঁর পোস্টে সুচিত্রা সেনকে ‘হার্ট হ্যাকার' বলে আখ্যায়িত করেছেন৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘ঝরে গেল আরেকটা উজ্জ্বল নক্ষত্র, চিরন্তন সত্যের পথ ধরে হারিয়ে গেলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর জনপ্রিয় হার্ট হ্যাকার সুচিত্রা সেন৷

নির্মলেন্দু গুণ ফেসবুকে সুচিত্রা সেনকে নিয়ে লেখা তাঁর নিজের কবিতাটি শেয়ার করেছেন৷ কবিতাটি ২০০৪ সালে প্রকাশিত ‘চিরঅনাবৃতা, হে নগ্নতমা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত বলে জানিয়েছেন তিনি৷ কবিতাটি এরকম:

Raima Sen Schauspielerin aus Indien

নাতনি রাইমা সেনের চেহারায় সুচিত্রা সেনের আদল রয়েছে

তোমার চুলে-চোখে, ঠোঁটে-স্তনে,
নিতম্বে-গ্রীবায়
ছিল সুন্দরের সুষম বণ্টন৷
তোমার কণ্ঠস্বরে ছিল মধু
হাসিতে হিল্লোল,
আর ক্রন্দনে মৃত্যুর হাহাকার৷
আমার যৌবনে
তুমি ছিলে প্রিয়ার প্রতীক৷
প্রেমের প্রকর্ষে, কামের দহনে
আমি তোমাকে পেয়েছি স্বপ্নে,
আলিঙ্গনে, বারবার৷
হে প্রেম জাগানিয়া বঙ্গের উর্বশী,
হে চিরযৌবনা, চিরঅধরা আমার;
এই চিরবিরহী কবির
অনাশ্রিত প্রেমের অঞ্জলি – তুমি নাও৷

সংকলন: জাহিদুল হক
সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন