উৎসবের মৌসুমে ছোট ব্যবসায়ীদের কষ্ট | বিশ্ব | DW | 04.11.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

উৎসবের মৌসুমে ছোট ব্যবসায়ীদের কষ্ট

জ্বালানির দাম দাম অবশেষে কিছুটা কমলেও পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এখনো স্বস্তিতে নেই৷ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে৷

পেঁয়াজ, টমেটো, আলু বা অন্যান্য সবজির দাম দুর্গাপুজোর থেকে অনেকটাই বেড়েছে এই মৌসুমে৷ ভোজ্যতেল বাদ দিলেও শাক সবজির দাম পাইকারি ও খুচরা বাজারের দর অনেকটাই বেড়েছে৷ মাছ-মাংসের বাজারেও হাত ছোঁয়ানো যাচ্ছে না৷ কিন্তু এত দাম কেন? পাইকারদের বক্তব্য, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির জন্য খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছে৷ তাছাড়া অতিবৃষ্টির জন্য সবজি অনেক নষ্ট হয়ে গিয়েছে, ফলে কলকাতার বাজারে চাহিদা থাকলেও জোগান কম৷

জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতাদের যেমন হাঁসফাঁস অবস্থা, তেমনি বাদ নেই ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা৷ রান্নায় ব্যবহৃত ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ২৭০ টাকা বেড়েছে৷ দুর্গাপুজো কাটিয়ে কালীপুজো, ভাইফোঁটায় ছোট-বড় খাবারের দোকানের ব্যবসায়ীরা ভেবেছিলেন লাভের মুখ দেখবেন৷ কিন্তু তেমনটা সম্ভব হচ্ছে না৷ সব রকমের ব্যবসাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা৷

দমদম গোরাবাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মানুষের জিনিসপত্র কেনাকাটার আগ্রহ থাকলেও তাদের হাতে পয়সা এতই কম যে কিনতে পারছে না৷ অনেকের বাড়িতে কারো চাকরি নেই৷ দমদম শহরাঞ্চলেই অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে প্রায়৷ গ্রামাঞ্চলে আরো খারাপ অবস্থা৷ এ রকম কিছু দিন চললে মানুষ আরো সমস্যায় পড়বে৷’’

অডিও শুনুন 05:19

‘মানুষের কেনাকাটার আগ্রহ থাকলেও হাতে পয়সা এতই কম যে কিনতে পারছে না’

যদিও রাস্তাঘাটে চোখে পড়ার মতো ভিড় আছে৷ দোকানে দোকানে মানুষ ঘুরছে৷ মাংস বা মাছের বাজারে ক্রেতারা দাম জিজ্ঞাসা করে ফিরে যাচ্ছেন৷ বেদিয়াপাড়া ঝুপড়িতে থাকেন শুক্লা সরদার৷ ২০ বছর ধরে আবাসনে সাফাইকর্মীর কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি৷ মাছ কিনতে কিনতে বললেন, ‘‘করোনার জ্বালায় সংসারের হাল খুবই খারাপ৷ রোজগারপাতি নেই, তার উপর জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে আমাদের বেঁচে থাকা মুশকিল৷ আগে এক-দেড় কিলো মাছ লাগত৷ এখন ৫০০ গ্রাম মাছ কিনি৷ বেশিরভাগ দিন মাছ খাই না৷’’

গোরাবাজারের মাছ বাজারে ২০ বছরের ব্যবসায়ী তারক দাস৷ তিনি বলেন, ‘‘এত বছর ব্যবসা করছি, এমন অবস্থা কখনো দেখিনি৷ লোকজন খুব কম আসছে৷ পরিবহন খরচ বাড়ায় অন্য জিনিসের মত মাছের দাম বেড়েছে৷ আমাদের ব্যবসা ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছে৷’’ সবজি বাজার ঘুরে আগুন দাম চোখে পড়ল৷ সবজি ব্যবসায়ী অনন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, "এত দাম দিয়ে সবজি মানুষ কিনতে চাইছে না৷ আমরা কী করব? কোলে মার্কেট থেকেই চড়া দামে কিনে আনছি৷ তাই আমাদের কিছু করার নেই৷’’

দোকানে ভিড় কমেছে কোভিডের কারণে, একইসঙ্গে বেড়েছে অনলাইন শপিংয়ের হিড়িক৷ যারা চাকরি হারিয়েছেন, তারা কিছু রোজগারের আশায় স্বল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসায় নেমে পড়েছেন৷ এতে প্রতিযোগিতা বেড়েছে৷ মহিলারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাড়ি-সহ অন্যান্য সামগ্রীর ব্যবসা করতেন৷ তাতেও ভাটা পড়েছে৷ সবমিলিয়ে

অডিও শুনুন 01:44

‘আগে ধনতেরাসে ৬০-৭০ হাজার টাকার ব্যবসা করেছি, এখন সেটা ২০ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে’

বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ছোট বিক্রেতারা৷ দীপাবলি বা ধনতেরাসের উৎসবে এ বার তেমন আয়োজন নেই৷ বেশি জিনিসপত্র তুলতে পারেননি বলে জানালেন ব্যবসায়ী নীলকন্ঠ ধর৷ নিত্যপ্রয়োজনীয় থেকে নানা শৌখিন দ্রব্যের দোকান তাঁর৷ বলেন, ‘‘আগে ধনতেরাসে আমরা ৬০-৭০ হাজার টাকার ব্যবসা করেছি৷ এখন সেটা ২০ হাজার টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে৷ অতিবৃষ্টির সঙ্গে রয়েছে করোনা৷ ব্যবসায়ীদের মত মহাজনরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন৷ এক-দেড় বছর ধরে বিয়েবাড়িতে ৫০ জনের বেশি যাওয়ার অনুমতি নেই৷ কত গিফট  আইটেম বিক্রি হবে তাতে?’’

কোভিড ও লকডাউনের জেরে ব্যবসায় সার্বিক মন্দা৷ এর ফলে অন্য এক সমস্যাও তৈরি হয়েছে৷ ব্যবসায়ী সমিতির অধীন সাড়ে ৪০০ বিক্রেতার কী সমস্যা? বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘‘পুঁজির সঙ্কট চোখে পড়ার মতো৷ আগে ১ লাখ টাকার পুঁজি পাওয়া গেলে এখন ২০-৩০ হাজারে নেমে গিয়েছে৷ সেই পুঁজি আনতে গেলে হয় ব্যাংক ঋণ, না হলে সুদখোর মহাজনের থেকে নিতে হয়৷ জিনিসপত্র নগদ কেনার ক্ষেত্রে বছর দুয়েক আগে যতটা স্বাবলম্বী ছিলাম, এখন আর নেই৷ যাঁদের পুঁজি আছে, তাঁরাই চালাতে পারছেন৷’’

সংশ্লিষ্ট বিষয়