‘উৎপলের অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের আইনানুগ সাজা চাই′ | বিশ্ব | DW | 20.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগওয়াচ

‘উৎপলের অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের আইনানুগ সাজা চাই'

দু'মাসের বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর ফিরে আসা সাংবাদিক উৎপল দাস বলেছেন, ঢাকার ধানমণ্ডি এলাকা থেকে তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে অপহরণকারীরা টাকা দাবি করেছিল৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আজ আলোচিত বিষয় ছিল তার ফিরে আসা৷

তবে কারা তাঁকে ধরে নিয়েছিল, কোন এলাকায় আটকে রাখা হয়েছিল – সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি৷ ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম-এর প্রতিবেদনে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত পৌঁনে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার আধুরিয়া শাহজালাল সিএনজি ফিলিং স্টেশনে একটি মাইক্রোবাস থেকে তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হয়৷ খবর পেয়ে সেখান থেকে পুলিশ তাঁকে নিয়ে যায় ভুলতা ফাঁড়িতে৷ রাত আড়াইটার দিকে সেখান থেকে উৎপলকে নিয়ে নরসিংদীর রায়পুরায় যান পরিবারের সদস্যরা৷

ভুলতা ফাঁড়িতে উৎপল সাংবাদিকদের বলেন, তাঁকে ধানমণ্ডির স্টার কাবাবের সামনে থেকে অপহরণ করা হয়৷ তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘‘পেছন থেকে আমাকে ধরে একটি গাড়িতে তোলার পর চোখ বেঁধে ফেলায় কারও চেহারা দেখতে পাইনি৷ আমাকে নিয়ে টিনশেডের নর্মাল একটা ঘরে আটকে রেখেছিল৷ সেখানে তিনবেলা দরজার নীচ থেকে খাবার দেওয়া হতো৷ ঘরে চৌকি বা খাট ছিল না, ফ্লোরে থাকতে হতো৷ ওই ঘরের সঙ্গে একটা বাথরুম ছিল৷ সেখানে গোসল করতাম৷''

উৎপল বলেন, তুলে নিয়ে যাওয়ার পর প্রথম দিকে তাঁকে চড় থাপ্পড় মারা হয়েছে৷ ‘‘তারা আমাকে বলত, তোর অনেক টাকা তুই টাকা দে৷ আমার মোবাইল ফোন তারা নিয়ে নিয়েছিল৷ মঙ্গলবার রাতে চোখ বাঁধা অবস্থায় তিন-চার ঘণ্টা একটি গাড়িতে করে আমাকে ঘোরানো হয়৷ তারপর নামিয়ে দেওয়া হয় ওই ফিলিং স্টেশনে৷''

এদিকে উৎপলের ফিরে আসার খবরে রাত আড়াইটার দিকে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়িতে ছুটে যান তাঁর মা, বাবা, বোনসহ কয়েকজন আত্মীয়৷ উৎপলের বোন বিনিতা রানি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘একমাস আগে এক লোক ফোন করে বলেছিল, সে নাকি এসআই রিপন তালুকদার৷ উৎপলকে মুর্মুর্ষু অবস্থায় টাঙ্গাইলে পাওয়া গেছে, তাঁর চিকিৎসার পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে, এই কথা বলে সে টাকা পাঠাতে বলে৷''

উৎপল দাস ফিরে আসায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনেকেই স্বস্তি জানিয়েছেন৷ কাবেরি গায়েন লিখেছেন, ‘‘উৎপল দাস ফিরে এসেছে, এর চেয়ে আনন্দের খবর আর হয় না৷ নাহয় ওর চেহারা শনাক্ত করতে কষ্টই হলো৷ দাড়ি-গোঁফের জঙ্গলের জন্যই হয়ত৷ না হয় কোনো কথা নাই বলুক আর, তবুও ফিরে এসেছে তো! এবার মুবাশ্বার ফিরে আসুক৷''

পীর হাবিব ঈশ্বরের কাছে শুকরিয়া জানিয়ে লিখেছেন, ‘‘আমাদের উৎপল ফিরেছে৷ বলেছে সেই প্রাণবন্ত উৎফুল্ল কণ্ঠে আমি ভালো আছি৷ মায়ের কাছে বাড়ি যাচ্ছি, কাল বা পরশু অফিসে যোগ দেবো৷ সরকার,আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গণমাধ্যম সবার কাছে কৃতজ্ঞতা৷ বুক থেকে ভারি পাথর নেমেছে৷''

দেব দুলাল গুহ লিখেছেন, ‘‘সবার মনে একটাই প্রশ্ন কোথায় ছিলেন উৎপল? স্বেচ্ছায় উধাও ছিলেন নাকি অন্য কোনো কারণ ছিল?''

এসএম ইমরুল কায়েস লিখেছেন, ‘‘কিছুটা একগুয়ে এই ছেলেটা প্রাণচঞ্চল৷ হঠাৎ হারিয়ে যাওয়াতে অনিশ্চিত শংকায় দিন যাপন করছিলাম আমি৷ বিধাতা তাঁকে সুস্থ অবস্থায় তাঁর পরিবারের কাছে ফেরত এনেছে এই জন্য শুকরিয়া৷ বাকি হারিয়ে যাওয়াদের দ্রুত পরিবারের কাছে ফেরত আসার দোয়া করি৷ সবাই ভালো এবং সুস্থ অবস্থায় ফেরত আসুক এই কামনা করি৷''

কুদ্দুস আফরাদ লিখেছেন, ‘‘নিখোঁজ সাংবাদিক উৎপল দাস অবশেষে আড়াই মাস পর ফিরে এসেছেন৷ তাৎক্ষণিক ছবিতে তাঁর চেহারাই বলে দিচ্ছে এতদিন কেমন ছিলেন, কোথায় ছিলেন তিনি৷ আমরা উৎপলের অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের আইনানুগ সাজা চাই৷''

অনলাইন নিউজ পোর্টাল পূর্ব-পশ্চিমবিডি ডট নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক উৎপল গত ১০ অক্টোবর দুপুরে মতিঝিলের অফিস থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না৷ উৎপল ছাড়াও গত চার মাসে ঢাকায় রাজনীতিক, কূটনীতিক, শিক্ষক ও ব্যবসায়ী মিলে ডজনখানেক মানুষ নিখোঁজ হন৷ সর্বশেষ ৪ঠা ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিদেশ ফেরত মেয়েকে আনতে ধানমণ্ডির বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশে বের হয়ে নিখোঁজ হন সাবেক কূটনীতিক এম মারুফ জামান৷ সাম্প্রতিক সময়ে নিখোঁজদের মধ্যে উৎপলের আগে পরিবারের কাছে ফেরেন ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায়৷ তিনিও আড়াই মাস ‘অজ্ঞাতবাসে' ছিলেন৷

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন