‘উপাচার্য-শিক্ষক নিয়োগ নীতি বিশ্বমানের নয়′ | বিশ্ব | DW | 14.05.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘উপাচার্য-শিক্ষক নিয়োগ নীতি বিশ্বমানের নয়'

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষক নিয়োগে ন্যূনতম যোগ্যতা ঠিক করে দিয়ে নীতিমালা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। তবে ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নীতিমালার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সেই কমিশনের এক সদস্য৷

নিয়োগ বাণিজ্যরোধ, উন্নত বাংলাদেশ পরিচালনার দক্ষ গ্রাজুয়েট পেতে এটা করতেই হবে- এই অভিমত দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর। তার মতে, ন্যূনতম পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়োগ হওয়া উচিত নয়।

ডয়চে ভেলে: সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়?

মুহাম্মদ আলমগীর: অর্গানোগ্রাম অনুসারে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংখ্যা নির্ধারিত থাকে। এই অর্গানোগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক সুপারিশকৃত এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদনকৃত হয়। অনুমোদিত হওয়ার পর প্রতিটি অর্থবছরে নিয়োগের বিপরীতে অর্থ বরাদ্দ থাকে। অর্থ বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে কোন নির্দিষ্ট পদের বিপরীতে যদি আমাকে নিয়োগ দিতে হয়, তাহলে বাংলাদেশের জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। বিজ্ঞপ্তি প্রচার হওয়ার পর সাধারণত ২১ দিন সময় দেয়া হয়। আবেদন পাওয়ার পর এগুলো যাচাইবাছাই করে দেখা হয়। এরপর যথানিয়মে সেখানে নিয়োগ অনুষ্ঠিত হয়।

অডিও শুনুন 26:44

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই দেশে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়: আলমগীর

প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হলে লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয়। লিখিত পরীক্ষা নেয়ার পর শর্টলিস্ট করা হয়। এরপর মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার পর নিয়োগ দেয়া হয়। অনেকগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, সেখানে কোন বিভাগে নিয়োগ দেয়ার আগে সেই বিভাগে লোকজন প্রয়োজন আছে কি-না, সেটা বিভাগের পরিকল্পনা কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত হতে হবে। এই সুপারিশ পাওয়ার পর বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। এরপর সিলেকশন বোর্ড সুপারিশ করে। এটা সিন্ডিকেটে অনুমোদন পাওয়ার পর যে কেউ নিয়োগ লাভের জন্য নির্বাচিত হয়। এরপর নির্ধারিত শর্তে নির্ধারিত সময়ে তাকে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিতে হয়।

এই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তার শেষ কর্মদিবসে বিপুল সংখ্যক জনবল নিয়োগ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, আইনে তাকে এই ক্ষমতা দেয়া আছে। আসলেই কি তাই?

২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার সবকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে। তারা বলেছে যে, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি সুনির্দিষ্ট পদ থাকে এবং সেই পদের বিপরীতে যদি অনুমোদন থাকে, সেখানে অর্থ বরাদ্দ থাকে, তাহলে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই পদে নিয়োগ দেয়া যাবে। অস্থায়ী বা অ্যাডহকভিত্তিকে নিয়োগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোপূর্বে উপাচার্যের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত হয়েছে। সেই তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরেকটি পরিপত্রে সেখানে সব ধরনের নিয়োগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এরপর উপাচার্য সেই সময়ে চলমান সব নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তার মানে উনি সেই পরিপত্র মেনে নিয়েছিলেন। তাহলে তিনি হঠাৎ করে কীভাবে আবার তার কার্যদিবসের শেষ দিনে এতজনকে অস্থায়ীভিত্তিতে নিয়োগ করেন? তিনি সম্পূর্ণরূপে অবৈধ এবং নিয়ম বহির্ভূত কাজ করেছেন।

যে নিয়োগগুলো তিনি বিভিন্ন বিভাগে দিয়েছেন, সেখানে বিভাগীয় উন্নয়ন কমিটির কোন সুপারিশ ছিল না। তার মানে তার এইসব নিয়োগ অবৈধ।

আপনি বলেছেন, বর্তমান পদ্ধতিতে আবেদনের যোগ্যতা থাকলে নিচের দিকের কেউও নিয়োগ পেতে পারে। তার মানে তো আমাদের নিয়োগ পদ্ধতিতেও ঝামেলা আছে। আমাদের নিয়োগ পদ্ধতিটি কি আদর্শ নিয়োগ পদ্ধতি?

আমি মনে করি, যে নিয়োগ নীতিমালা রয়েছে। দুয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া নীতিমালাগুলোকে আমরা ভালোই বলতে পারি।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালা কি বিশ্বমানের?

আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা বিশ্বমানের নয়। আন্ডারগ্রাজুয়েট ডিগ্রি আর মাস্টার্স নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া আমাদের দেশ ও আর দুয়েকটি দেশ ছাড়া কোথাও সম্ভব নয়। এমনকি আমাদের পাশের দেশ ভারতেও হয় না। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে হলে একজন প্রার্থীর অবশ্যই পিএইচডি ডিগ্রি দরকার হয়। তার যথেষ্ট রিসার্চ পেপার লাগে। পিএইচডি করার পর পোস্ট ডক এবং রিসার্চ ক্যারিয়ার লাগে। এই পর্যায়ের শিক্ষক যদি আমরা নিয়োগ দিতে পারতাম। তাহলে এই নিয়োগ নিয়ে যে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এই প্রশ্নগুলো হতো না। কারণ একজন যখন পিএইচডি করে, দীর্ঘদিন রিসার্চ করে, তাহলে তার মধ্যে একটা অন্য রকম নৈতিকতা সৃষ্টি হয়। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার জন্য কখনো কারো কাছে ধরনা দেবে না। এ রকম শিক্ষক নিতে চাইলে তার বেতন কাঠামো বদলে ফেলতে হবে।

চাকরি হওয়ার পর কেউ পারফর্মেন্স খারাপ করলে তার চাকরি ডিসকন্টিনিউ করার বিষয়টা আমাদের সিস্টেমে কীভাবে আনা যায়?

এই বিষয়টা আমাদের সিস্টেমে আনতে চাইলে আমাদের চাকরির শর্তটা পুরোপুরি পরিবর্তন করতে হবে। আপনি যদি একজন পিএইচডি হোল্ডারকে বলেন, আমি তোমাকে নিয়োগ দিচ্ছি। কিন্তু এই নিয়োগ কেবল তিন বছরের জন্য। এরপরও আপনার চাকরি থাকবে কি-না, সেটা আপনার অর্জনের উপর নির্ভর করবে। এই তিন বছরে আপনার এতগুলো রিসার্চ পেপার থাকবে, এতগুলো জার্নালে আর্টিকেল থাকবে। পিএইচডি দিতে হবে, পিএইচডি স্টুডেন্ট থাকতে হবে। তাহলে তোমার জব কন্টিনিউ করা হবে।

এটা কি কেবল সহকারি অধ্যাপক পদে নাকি সবগুলো ধাপে হবে?

এটা পরের প্রত্যেকটি ধাপে হবে।

এই উদ্যোগটা আসলে কে নেবে?

এক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকার ও ইউজিসিকে কাজ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষকদেরকে সংকীর্ণ স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে আসতে হবে। কখনো না কখনো আমাদেরকে এই পর্যায়ে যেতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেরা উদ্যোগী না হলে আপনাদের কিছুই করার নেই। তাই কি বিষয়টা?

আমরা করতে গেলে আমরা বাধাগ্রস্ত হবো।

আপনি যেটা বললেন, গ্রাজুয়েট হওয়ার পর নিজেদের গ্রাজুয়েটদের প্রথম পাঁচ বছর চাকরি না দেয়ার দৃষ্টান্তটা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে?

আমি আপনাকে সুনির্দিষ্ট করে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বলতে পারবো না। তবে আপনি যদি দেখেন, ইউরোপে-জাপানে অনেক জায়গায় এই দৃষ্টান্ত আছে যে, তারা নিজের গ্রাজুয়েটকে প্রথমে নেয় না।

২০৪১ সালে বাংলাদেশ যখন উন্নত বাংলাদেশ হবে, সেই সময় কি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও যাতে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়- এ রকম কোন মহাপরিকল্পনা আপনাদের রয়েছে?

ঠিক মাস্টারপ্ল্যান ওই লেভেলে নাই। কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে ২০৩০ সালে আমাদের উচ্চশিক্ষাকে আমরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছি, সে জন্য একটা স্ট্রাটেজিক প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে।

অনিয়ম ঠেকানোর ক্ষেত্রে কি সত্যিই ইউজিসির কিছুই করার নেই?

৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইউজিসি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন তিনি একবারও ভাবেননি যে, ইউজিসিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ, দুর্নীতি, অনিয়ম নিয়ে তদন্ত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গায় যেখানে জ্ঞানের সৃষ্টি হয়, অন্বেষণ হয়, জ্ঞান বিতরণ করে, সেখানে অনিয়ম-দুর্নীতি এগুলো কেন আসবে? বিশ্ববিদ্যালয়েতো এটা আসতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়কে আর ৮-১০টা প্রতিষ্ঠানের সাথে তুলনা করলে হবে না। সে জন্য ইউজিসিকে এই ক্ষমতা দেয়া দরকার বলে মনে করা হয় নাই। আবার ইউজিসির ক্ষমতা যে একেবারে নেই, তা নয়। কারণ একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট কিন্তু ইউজিসির মাধ্যমেই যায়।

ইউজিসির অনেক ক্ষমতা। কারণ ইউজিসি বাজেট দেয়। বাজেটের সঙ্গে দুর্নীতি ঠেকানোকে কীভাবে যুক্ত করা যাবে? দুর্নীতি ঠেকাতে বাজেট কম-বেশি করে দেয়া হবে?

না, যার জন্য আমরা ওখানে যাচ্ছি না। বাজেট মন্ত্রণালয় আমাদেরকে দেয়, আমরা সেটা বণ্টন করে দেই। যার জন্য বাজেটে কোন ড্রামাটিক পরিবর্তন আসে না।

তার মানে বাজেটেও আপনারা কেবল রুটিন দায়িত্ব পালন করেন। এটা ক্ষমতার কেন্দ্র না। মূল্যায়ন করেও বাজেট দেয়ার বিষয়টা আসলে নাই?

পারফরমেন্সভিত্তিক বাজেটের পরিকল্পনা আছে। তবে এখনো সেটা বাস্তবায়নে আমরা যেতে পারিনি।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সাবেক উপাচার্য-নিয়োগ দুর্নীতির কারণে যাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। এ রকম আর কোন দৃষ্টান্ত আছে?

বেগম রোকেয়ার সেই তদন্তও ইউজিসি করেছে। আরো কয়েকজন উপাচার্যকে তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। এখন মনে পড়ছে না, তবে আমার জানা মতে, ইউজিসি অন্তত ৭-৮টির তদন্ত করেছিল, যেগুলোর খুব একশন হয়েছে।

আপনি বলেছেন, অনিয়ম হওয়ার কথা নানা কর্তৃপক্ষ বললে আপনারা তদন্ত করেন। বলা লাগবে কেন? এটা কি আদর্শ অবস্থা? যদি এটা আদর্শ অবস্থা না হয়ে থাকে, তাহলে আদর্শ অবস্থা কী?

আদর্শ অবস্থা হতে পারে ইউজিসিকে সেই ক্ষমতা দিয়ে দেয়া। ইউজিসি মনিটর করবে। কোথাও কোন ব্যত্যয় ঘটলে ইউজিসি সাথে সাথে সেখানে হস্তক্ষেপ করবে।

গবেষণা বরাদ্দ কম- এমন অভিযোগ আমরা সব সময় শুনি। কিন্তু সেই কম টাকাও নাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেকে ব্যয় করতে পারে না। এটা কি সত্য?

হ্যাঁ, এটা কিছুটা সঠিক।

উপাচার্যরা হবেন আদর্শ। আমরা কেন তাদের বিষয়ে তদন্ত করতে যাবো। তারা সব নিয়োগ যথাযথভাবে করবেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, সেই উপাচার্যদের নিয়োগ কি যথাযথভাবে হয়?

আমি এ বিষয়টি নিয়ে উপর লেভেলেও কথা বলেছি, যখন আমার সাথে দেখা হয়েছে।

বাংলাদেশে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকিগুলোতে উপাচার্য নিয়োগের কোন সুস্পষ্ট নীতিমালা নাই। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম এবং জাহাঙ্গীরনগর-এই চার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের নীতিমালা আছে। এই নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও একমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকী তিনটিতে এই প্রক্রিয়ায় উপাচার্য এখন নিয়োগ হয়নি। তাহলে বঙ্গবন্ধু যে চমৎকার একটা নিয়ম করে দিয়েছিলেন, আমরা সেটাও প্রাকটিস করতে পারছি না। এই চার বিশ্ববিদ্যালয়েও উপউপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নাই। এর বাইরে আরো ৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের কোন নীতিমালা নাই। কে উপাচার্য হবেন, সেটা কেউ জানে না। যিনি উপাচার্য হবেন তিনিও জানেন না। এটা হতে পারে না।

উপাচার্য নিয়োগের জন্য একটা স্বচ্ছ-সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে। যেন আমি নিজেও জানি যে, কোন ক্রাইটেরিয়া থাকলে আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হতে পারবো। আমি মনে করি, উপাচার্য নিয়োগের জন্য ওপেন অ্যাডভারটাইজমেন্ট হবে। একজনের মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস বা ছয় মাস আগে সেটা শুরু হবে। একটা কমিটি থাকবে, হাই লেভেল কমিটি। যারা উপাচার্য নিয়োগ দেবে। শর্টলিস্টিং হবে। এরপর যারা নিয়োগ পেতে চায়, তাদের প্রেজেন্টেশন হবে। এরপর নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। তাহলে যিনি নিয়োগপ্রাপ্ত হলেন, তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। তিনি জানতে পারবেন যে, হ্যাঁ আমি একটি প্রতিযোগিতামূলক পথে এসেছি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটা সামারি প্রধানমন্ত্রীর অফিসে পাঠায়। সেখান থেকে সুপারিশ যায় রাষ্ট্রপতির কাছে। এরপর তিনি নিয়োগ দেন। এই প্রক্রিয়ায় হতে পারে না। বিশ্বের কোথাও এই প্রক্রিয়ায় নিয়োগ হয় বলে আমার জানা নেই। এখানে একটা স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকতে হবে। তাহলে উপাচার্য নিয়োগে যে সংকট তৈরি হচ্ছে, তা অনেকাংশে এড়িয়ে যেতে পারবো।

উপাচার্যরা তো নিয়োগ দুর্নীতিসহ অন্যান্য দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তদন্ত করে সত্যতা পেলেও দেখা যায়, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হয় না। হয়ত পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় বা পুনরায় নিয়োগ পান না। এই প্রচলিত আইনে বিচার নিশ্চিতে কী করা যায়?

দুর্নীতির অভিযোগ পেলেও সেটা দুদকের পাঠানোর বা মামলা করার কোন উদ্যোগ নেয়ার কোন প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আপনাদের নেই। দুর্নীতি প্রমাণিত হলেও অনেকক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তাকে পদচ্যুত করা হয়। একাডেমিক অঙ্গনে এমন অপরাধ প্রচলিত আইনে কীভাবে বিচার হতে পারে?

আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা এখনো সেভাবে তৈরি করতে পারিনি। আপনি প্রায়ই শুনেন যে, দুদক হচ্ছে কাগুজে বাঘ বা নখবিহীন বাঘ। দেশে দুর্নীতি ধরার সবচেয়ে বড় সংস্থা দুদক, তাদের সক্ষমতা নিয়ে যখন কথা হয়। আমাদের দেশে এমন কোন প্রতিষ্ঠান পাবেন না, যাদেরকে বলতে পারবেন, এরা শতভাগ অ্যাকাউন্টেবিলিটি নিয়ে কাজ করে। আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশ। আমরা স্ট্রাগল করছি, ইনস্টিটিউশনাল সেটাপের জন্য। প্রত্যেকটা জায়গায় যখন জবাবদিহিতা আসবে, তখন দেখবেন, আমরা যখন একটা অনিয়ম ধরবো তখন সাথে সাথে ব্যবস্থা শুরু হয়ে যাবে।

আপনারা আপনাদের তদন্ত প্রতিবেদনগুলো কি দুদকে পাঠান?

আমরা পাঠিয়েছি। রাজশাহীর ঘটনায় আমরা দুদকে পাঠিয়েছি। দুদক আমাদেরকে তদন্ত করতে বলেছিল। আমরা তাদেরকে পাঠিয়েছি।

তার মানে দুর্নীতির অভিযোগ আপনাদের তদন্তে প্রমাণিত হলেও আপনারা সেটা দুদকে পাঠান না, যদি সেটা তাদের অনুরোধে করা না হয়ে থাকে?

না, দুদক আমাদের লাইন মিনিস্ট্রি না। জেনারেলি আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেই। যখন কোন তদন্তের ব্যাপারে দুদকও আমাদের বলে বা একই ধরনের তদন্ত হয়, তখন সেটা আমরা দুদকেও পাঠিয়ে দেই। আমরা এখনো ইনস্টিটিউশনগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করাতে দাঁড় করাতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই দেশে বিচ্ছিন্ন কোন দ্বীপ নয় যে, হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোন দৃষ্টান্ত তৈরি করে ফেলবে।

আপনি বলেছেন, বাংলাদেশের কোন প্রতিষ্ঠানই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। ইউজিসিও কি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না?

ইউজিসির স্বাধীনতা নিয়ে কোন সংকট নেই। স্বাধীন বলতে সেই অর্থে না। আমরা অনেক সময় মনেই করি না যে, আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারি।

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়