1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

উপকূলের বিপর্যস্ত বাঁধের স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা

পায়েল সামন্ত কলকাতা
২৯ মে ২০২১

ইয়াস ও ভরা কোটালের আঘাতে বিপর্যস্ত সুন্দরবনসহ পশ্চিমবঙ্গের উপকূল৷ একাধিক জেলায় কোথাও নদীর বাঁধ ভেঙেছে, কোথাও বাঁধ উপচে জল ঢুকেছে গ্রামে৷ আবার কোথাও বাঁধে ফাটল৷ কেন এমন হাল? তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর৷

https://p.dw.com/p/3u9SD
Indien | Zyklon Yaas
ছবি: Payel Samanta/DW

এই প্রথম নয়, বার বার দুর্যোগের কবলে পড়ে এমন ভাবে সর্বস্ব হারিয়েছেন উপকূলের বাসিন্দারা৷ হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি, মিনাখাঁতে বাঁধ ভেঙে নদীর জল ঢুকে জমি বাড়ি ভেসে গিয়েছে৷ একই ছবি সাগর, পাথরপ্রতিমা, নামখানায়৷ দিঘা, রামনগরেও একই অভিজ্ঞতা৷ বাঁধে সমস্যার কারণে শয়ে শয়ে মাছের ভেড়ি ও কৃষিজমি নোনাজলে ভরে গিয়েছে৷ ভেড়ি প্লাবিত হয়ে লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে গিয়েছে৷ নষ্ট হয়েছে গিয়েছে বিঘের পর বিঘে জমির ফসল৷ বৃহস্পতিবারও নতুন করে ভেঙেছে বিদ্যাধরী নদীর বাঁধ৷ স্থানীয়দের অভিযোগ, অস্থায়ী বাঁধ থাকার কারণেই তাঁদের এই সর্বনাশ হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা৷

মমতার দাওয়াই

ইয়াসের তাণ্ডবেবেহাল দশা নদী বাঁধের৷ ভেঙেছে সমুদ্র বাঁধও৷ সেচ দপ্তরের কাজকর্মে অসন্তোষ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কড়া ধমকের মুখে পড়তে হয়েছে সেচ দপ্তরের সচিবকেও৷ নতুন করে অর্থ বরাদ্দ করার আগে টাস্ক ফোর্সের অনুমতি বাধ্যতামূলক বলে নির্দেশ দিয়েছেন মমতা৷ মাটির বাঁধ না দিয়ে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি৷ তাঁর বক্তব্য, ‘‘ম্যানগ্রোভ এলাকায় গাছ লাগানো উচিত৷ মাটির বাঁধ তো ভেঙে যাবেই৷ তার থেকে গাছ লাগালে শিকড় মাটির ভিতরে ঢুকে মাটিকে ধরে রাখে৷ ওটা অনেক ভালো৷''

বাঁধ ভেঙে যায়

আমপানের তাণ্ডবে বসিরহাটের সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার বেশিরভাগ বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল৷ সেই সময় জোড়াতালি দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ তৈরি করে দেয় জেলা প্রশাসন৷ এমনই অভিযোগ সুন্দরবনবাসীদের অনেকেরই৷ সন্দেশখালি এলাকার বাসিন্দা, সুন্দরবন বাঁধরক্ষা কমিটির সদস্য, নীলোৎপল বর্মন বলেন, ‘‘গত আমপানে যে বাঁধগুলি তৈরি হল, সেগুলি এক বছরের মধ্যে ভেঙে পড়ল কী করে? এ প্রশ্ন আমাদেরও৷''

‘‘বাঁধগুলি এক বছরের মধ্যে ভেঙে পড়ল কী করে?’’: নীলোৎপল বর্মন

দীর্ঘদিন সুন্দরবন অঞ্চলে পরিবেশ নিয়ে কাজ করেছেন পরিবেশকর্মী নব দত্ত৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘২০০৯ সালে আয়লার পর কেন্দ্র থেকে স্থায়ী কংক্রিটের বাঁধের জন্য বরাদ্দ টাকাও এসেছিল৷ কিন্তু তা অধিকাংশ কাজে না লাগায় ফেরত গিয়েছে৷ মাটির বাঁধ বছরের পর বছর তৈরি হয় ভাঙার জন্যই৷ এটাকে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতি, ব্যবসা চলছে৷'' টাকা ফেরত যাওয়ার অভিযোগ খারিজ করে সেচমন্ত্রী সৌমেন কুমার মহাপাত্র বলেন, ‘‘না, আয়লার সময় যে টাকাটা আসার কথা ছিল, সেটা পুরোটা আসেনি৷ কোনো টাকা ফেরত যায়নি৷''

কতটা কাজ হচ্ছে

আমপান পরবর্তীতে যেসব বাঁধ তৈরি হয়েছে, তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অর্থ দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ পাশাপাশি সেচ দপ্তরকে নির্দেশ দেন নতুন বাঁধ তৈরির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে৷ সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রথমে যে জায়গায় জল ঢুকছে সেগুলি তৎক্ষণাৎ বন্ধ করতে হবে৷ আমরা বন দপ্তরের সঙ্গে সংযোগ রেখে ম্যানগ্রোভ লাগানোর কাজে হাত দেব৷ বাঁধকে এটাই রক্ষা করতে পারে৷''

‘‘কেন্দ্রের কোনো আর্থিক সাহায্যই কয়েক বছর আসছে না’’: সৌমেন মহাপাত্র

প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রোষ থেকে রক্ষা পায়নি সমুদ্র বাঁধও৷ রাজ্যের ৬ জেলায় ২৯৩ কিমি নদী ও সামুদ্রিক বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ সেচমন্ত্রী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কেন্দ্রের কোনো আর্থিক সাহায্যই কয়েক বছর আসছে না৷ রাজ্য সরকার নিজস্ব ক্ষমতাবলে কাজ করছে৷ কংক্রিটের বাঁধ খুবই ব্যয়বহুল৷ তবে মুখ্যমন্ত্রী স্থায়ী সমাধানের দিকে হাঁটছেন৷''

বাঁধের স্থায়ী সমাধান তবে কী? সুন্দরবনের‘ম্যানগ্রোভ-ম্যান' নামে পরিচিত, পেশায় ভূগোলের শিক্ষক উমাশঙ্কর মণ্ডল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কংক্রিটের বাঁধ কখনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না৷ এতে জৈব বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হতে পারে৷'' তাঁর পরামর্শ, ‘‘বাঁধকে আরও উঁচু করে বাঁধাই করতে হবে৷ বাঁধের সামনে প্রচুর ম্যানগ্রোভ লাগাতে পারলে উপকার হবে৷ বাঁধ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য লোক দরকার৷'' অনেক সুন্দরবনবাসীর মতো তাঁরও অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় অবৈধ ভেড়ি নির্মাণ হচ্ছে, ম্যানগ্রোভ সৃজনে বা বাঁধ নির্মাণেও যথেষ্ট অস্বচ্ছতা রয়েছে৷ সেটা দূর করতে হবে৷