1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
সিলেট-সুনামগঞ্জে যে বন্যা হয়ে গেল, সেটা ১২২ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। বন্যা মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি কতটা ছিল? হাওরে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের ফলে কি পানি সরতে দেরি হয়েছে?
এম এ মান্নান, বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রীছবি: Samir Kumar Dey/DW

উন্নয়নের মাসুল আমরা দিয়েছি: পরিকল্পনামন্ত্রী

সমীর কুমার দে ঢাকা
২৪ জুন ২০২২

সিলেট-সুনামগঞ্জে যে বন্যা হয়ে গেল, সেটা ১২২ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে৷ বন্যা মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি কতটা ছিল? হাওরে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের ফলে কি পানি সরতে দেরি হয়েছে?

https://www.dw.com/bn/%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80/a-62252751

সঠিক সময়ে নৌকাই বা পাওয়া গেল না কেন? এসব নিয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন সুনামগঞ্জের এমপি ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান৷

ডয়চে ভেলে : সিলেট-সুনামগঞ্জে সর্বশেষ যে বন্যা হল, এটার আভাস তো বিশেষজ্ঞরা আগেই দিয়েছিলেন৷ এতে সরকারের প্রস্তুতি কতটা ছিল?

আব্দুল মান্নান : কোন বিশেষজ্ঞ দিয়েছিলেন? কোন ব্যক্তির নাম বলতে পারবেন?

অধ্যাপক আইনুন নিশাত তো ডয়চে ভেলের কাছে বলেছেন, বন্যা তো হওয়ারই কথা ছিল, সেটা হয়ত এক সপ্তাহ পরে হওয়ার কথা ছিল, একটু আগে হয়েছে৷

যে ধান কেটে ভাত খায়, সেও জানে আষাঢ়ে পানি আসবে৷ আমরা বন্যার পূর্বাভাস পেয়েছিলাম৷ কিন্তু কোন বিশেষজ্ঞ কি পৃথিবীতে আছে, কত ফুট পানি হবে বলতে পারবে? এই বিজ্ঞান আমাদেরও নেই, নাসারও নেই, গুগলেরও নেই৷ পানি আসবে এই আভাস আমরা পেয়েছিলাম৷ সেটা আমরা ভারত থেকেও পাই, আমাদের নিজস্ব সংস্থা থেকেও পাই৷ কিন্তু হাইট কত উঠতে পারে, সেটা কেউ বলেও নাই, বলতে পারবেও না৷ এটা বিরল, ১২২ বছরের রেকর্ড ভেঙে গেছে৷

আপনারা কি সবার কাছে ত্রাণ পাঠাতে পেরেছেন? অনেকেই তো পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন?

আমার সুনামগঞ্জ জেলা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত৷ পানি নামা শুরু হয়ে গেছে৷ লোক বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে৷ আরও দু'একদিন লাগবে৷ আমি ওই এলাকার ছেলে৷ আমি ওখানে বড় হয়েছি৷ আমার জন্ম ওই গ্রামে৷ মাটির ঘরে আমার জন্ম৷ আমি সবকিছু জানি৷ আমাদের ওখানে ভাতের অভাব ছিল না৷ অভাব ছিল, রান্না করে খাবে কোথায়? শোবে কোথায়? বসবে কোথায়? স্কুলে, মসজিদে, মাদ্রাসায়, বিভিন্ন ধনী লোকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে৷ কেউ নিরাশ্রয় বা ওপেন এলাকায় ছিল না৷ আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি৷ আমাদের সরকার যে, বিভিন্ন এলাকায় স্কুল কলেজ বানিয়েছে, সেটার একটা ভালো সুফল আমরা পেয়েছি৷ আমি মন্ত্রী বা এমপি যাই হই না কেন, আমার বাড়িতে একশ’ মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন৷ তার মধ্যে ৭০-৮০ জন এখনও আছেন৷ খাবারের অভাব হয়নি৷ অভাব হয়েছিল, চাল-ডাল নিয়ে যাব কিভাবে? নৌকা ছিল না৷ কারণ দেশে নৌকার চল উঠে গেছে৷ সড়ক হয়ে গেছে বেশি৷ এজন্য প্রথম দু'এক দিন ডিফিকাল্ট গেছে৷

‘বন্যা-প্লাবন এলাকায় আর সড়ক নির্মাণ করা হবে না’

অনেকেই বলছেন, হাওরে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মানের ফলে পানি সরতে দেরি হচ্ছে৷ আপনি কি মনে করেন?

আমাদের দেশ একটা উন্নয়নের পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে৷ আমরা সবার কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি৷ অনেক জায়গায় সড়ক নির্মাণ করছি, সেটা অস্বীকার করব না৷ হাজার হাজার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করেছি৷ সেটা হয়ত বন্যার পানি চলাচলে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করেছে৷ আইনুন নিশাতসহ বিশেষজ্ঞরা চটজলদি এটা বলতে পারবেন না, স্টাডি করে বলতে হবে৷ আমাদের সরকার ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বন্যা-প্লাবন এলাকায় আর সড়ক নির্মাণ করা হবে না৷ নিষেধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ যেসব সড়ক আছে, সেগুলোতে আমরা কেটে কেটে অনেকগুলো কালভার্ট বানাবো৷ যেখানে একটা দুইটা কালভার্ট আছে, সেখানে ২০টা কালভার্ট করব৷ যাতে পানি চলাচল আরেকটু ফ্রি হতে পারে৷ আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বর্ষাকালে কাজে নামতে পারব না, নভেম্বর মাসেই শুরু করে দেব৷

প্রধানমন্ত্রী উড়াল সড়কের যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তার অগ্রগতি কতদূর?

সড়ক না করে আমরা উড়াল সড়ক করব৷ প্লাবন ভুমিতে আর কোন সড়ক নির্মাণ করব না৷ অন্য জায়গায় করব৷ এতে টাকা বেশি লাগবে, কিন্তু আখেরে আমাদের লাভ অনেক বেশি হবে৷

হাওরে তো নৌকার অভাব হওয়ার কথা না, কিন্তু বন্যার মধ্যে আমরা দেখলাম নৌকা পাওয়া যাচ্ছে না, আবার পাওয়া গেলেও ভাড়া কয়েকগুণ বেশি৷ কেন এমনটা হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

এখন নৌকা নেই৷ ছোটবেলায় আমি যেখানে ৫০০ নৌকা দেখেছি, সেখানে পাঁচটা নৌকাও নেই৷ কারণ গাড়ি যায় সারা বছর, নৌকার চল উঠে গেছে৷ নৌকা কিছু পাবেন যদি আপনি দিরাই, শাল্লা যান৷ কিন্তু এবারের বন্যা ওখানে এফেক্ট করেনি৷ এবারে বন্যা এফেক্ট করেছে পাহাড়ের কাছে যারা৷ অনেক বিশেষজ্ঞ আছেন তাদের আমি সম্মান রেখেই বলছি, তারা বইয়ের বিশেষজ্ঞ৷ মাঠের বিশেষজ্ঞ অনেকেই নন৷

অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যাচ্ছে, ফলে নদীগুলো দিয়ে পানি দ্রুত সরতে পারছে না৷ অনেকদিন ধরেই তো পাথর উত্তোলন নিয়ে কথা বার্তা হচ্ছে৷ কিন্তু কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না?

নির্মাণে আমাদের পাথর লাগবে না? এতে তো নদীর গভীরতা বাড়ে৷ এতে ক্ষতি কি হল? পাথর তুললে নদীর তলদেশ কিভাবে উঁচু হল? এতে তো নদীর গভীরতা বাড়বে৷ বাংলাদেশের নির্মাণ কাজে যত পাথর ব্যবহৃত হয় এর অধিকাংশ তো সুনামগঞ্জ থেকে আসে৷ আমরা তো নদীকে গভীর করতে চাচ্ছি৷ সেটা বালু কেটেই হোক, পাথর কেটেই হোক আর মাটি কেটেই হোক৷ এর কারণে তো আপনি আমাকে স্বাগত জানাবেন৷ এই ধরনের মন্তব্য অবৈজ্ঞানিক বলে আমি মনে করি৷ আমি বিজ্ঞানী নই, কমন সেন্স থেকে বলছি৷ আপনিও কমন সেন্স থেকে কথাটা বোঝার চেষ্টা করবেন৷ নদীতে যদি একটানা বালু আর পাথর জমে তাহলে নদীর বুক উঁচু হয়ে যাবে না? আমরা তো ভালো করছি৷ নদী থেকে পাথর, বালু ও মাটিও তুলছি৷ এতে নদীও গভীর হচ্ছে৷ এতে কার বাধা দেওয়ার আছে? ওখানে বাস করে যারা তাদের কাছে যান, সত্যি তথ্য পাবেন৷ ওদের বড় বড় ডিগ্রী নেই, কিন্তু কমন সেন্স আছে, অভিজ্ঞতা আছে৷ বই পড়ে মডেল বানিয়ে এগুলো করা যায় না৷ এবার যেটা হয়েছে বিরল ঘটনা৷ এটা ইউরোপেও হয়, আমেরিকাতেও মাঝে মধ্যে হয়ে যায়৷ এগুলো প্রাকৃতিক লীলাখেলা৷ এভাবেই নেওয়া ভালো৷ আমাদের দায়িত্ব হল মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো৷ আমরা দাঁড়িয়েছি৷ প্রথমদিন সবকিছু তছনছ হয়ে গিয়েছিল৷ মোবাইল নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল৷ সড়ক যোগাযোগ ভেঙে পড়েছিল৷ তাহলে আমরা কিভাবে মানুষের কাছে যাব? আমি তো দুই দিন টেলিফোনেই যোগাযোগ করতে পারছিলাম না৷ সবগুলো মোবাইল কোম্পানির নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল৷ এটা দোষারোপের বিষয় না৷

কয়েক মাসের মধ্যে সিলেট-সুনামগঞ্জে তিন দফা বন্যা হয়ে গেল৷ প্রচুর মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন৷ সরকার তাদের পুনর্বাসনে কি ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে?

মানুষের প্রাণের ক্ষতি হয়নি৷ মৃত্যু নেই৷ সব মিলিয়ে মাত্র দুই জনের মৃত্যু হয়েছে৷ আল্লাহ মাফ করুক৷ ক্ষতি হয়েছে নাম্বার ওয়ান গ্রামীণ সড়কের৷ আর ক্ষতি হয়েছে গরীব মানুষের কুড়ে ঘরের৷ মাটি এবং বাঁশের ঘর ভেঙে পড়েছে৷ জোয়ারে ঠেলে নিয়ে গেছে৷ বিল্ডিংয়ের ক্ষতি হয়নি৷ সড়কের ক্ষতি হওয়ার কারণ বন্যার তোড়ে বাঁধ ভেঙে গেছে৷ রেল লাইনের ক্ষতি হয়েছে৷ রেলের লাইন উপরে রয়ে গেছে, নিচে মাটি সরে গেছে৷ কিছু গরু-বাছুরের ক্ষতি হয়েছে৷ আসামে একশ'র বেশি মানুষ মারা গেছে৷ অল ইন্ডিয়া রেডিও'র খবর আমি শুনেছি৷ আমাদের মৃত্যু তো দুই জনের৷ এটা কোন কৃতিত্বের বিষয় না৷ কপাল ভালো যদি বলতে চান, সেটা বলতে পারেন৷ আপনি বৈজ্ঞানিক হলে বলবেন আমাদের ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল৷ অথবা আমাদের মানুষের উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা অনেক ভালো৷ নানাভাবে এটার ব্যাখা দেওয়া যায়৷

স্থানীয় প্রশাসনের বন্যা মোকাবেলায় কোন গাফিলতি ছিল?

গাফিলতির কোন প্রশ্নই নেই৷ তারা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন৷ ডিসি, ইউএনও, ইঞ্জিনিয়ার সকলে মিলে৷ কোন ডিপার্টমেন্টকে আমি বেশি ক্রেডিট দিচ্ছি না৷ সকলে মিলেই চেষ্টা করেছে৷ যারা সুনামগঞ্জের বাইরে ঢাকায় ছিল, তারা বাড়িতে যেতে পারেনি৷ তাদের কি দোষ? আমি এলাকার এমপি, একটা নিউজ পেপার হেডলাইন করল কোন এমপি-মন্ত্রী এলাকায় নেই৷ ভাই আমি তো মাসে তিনবার এলাকায় যাই৷ কাউকে বলে যাই না৷ আমি কিভাবে যাব? প্লেন যায় না, সড়কে যাওয়া যায় না, এমনকি আমি হেঁটেও যেতে পারব না৷ আমি কি সাঁতরিয়ে যাব? আমি ব্যক্তিগতভাবে করোনায় আক্রান্ত৷ এইসব বলা যায়, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন৷ দুই দিকেই দেখা উচিৎ৷

বাংলাদেশ তো সব সময় দুর্যোগপ্রবণ দেশ৷ আগে থেকেই সবকিছুর একটা প্রস্তুতি রাখতে হয়৷ এই ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় ভবিষ্যতে আপনারা কি ধরনের প্রস্তুতির কথা ভাবছেন?

আমাদের প্রস্তুতি ছিল৷ যথেষ্ট পরিমাণ চাল গুদামে আছে৷ ডিসিদের ক্ষমতা আছে চাল বন্টন করার৷ তারা সেটা করেছে৷ মোমবাতি, দেশলাইসহ জরুরি দ্রব্যাদি ইউএনওদের কাছেই থাকে৷ আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পানি বিশুদ্ধ করার ট্যাবলেট, স্যালাইন সবই ছিল৷ আমি তো যেতে পারছি না৷ দুই তিন মাইল কি সাঁতরিয়ে যাওয়া যাবে? নৌকা লাগবে৷ কিন্তু নৌকা তো ছিল না৷ আমি তো প্রথমেই বলেছি, উন্নয়নের মাসুল আমরা দিয়েছি৷ ভাটি দেশ থেকে নৌকা উঠে গেছে প্রায়৷ নৌকা না থাকায় ক্ষতিটা বেশি হয়েছে৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে পোস্ট, মহিলা দল নেত্রী গ্রেপ্তার

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ
প্রথম পাতায় যান