উন্নয়নের নামে গাছে হাত! মানছে না দিল্লিবাসী | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 28.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

উন্নয়নের নামে গাছে হাত! মানছে না দিল্লিবাসী

যে গাছ নিজে বিষ পান করে আমাদের সতেজ রেখেছে, সেই গাছ কেটে উন্নয়ন!‌ দক্ষিণ দিল্লির কয়েকটি এলাকায় ১৪,০৩১টি গাছ কেটে ফেলায় প্রতিবাদে সামিল আম নাগরিক৷ কেউ একে বলছেন, ‘‌চিপকো ‌আন্দোলন'‌, কেউ বলছেন ‘‌দিল্লি ট্রি এসওএস'‌৷

‘‌আমাকে কেটে ফেলো না, বড্ড কষ্ট হয়' – ভারতের রাজধানী দিল্লি শহরে কয়েক হাজার গাছ চিৎকার করে এমনটাই বলছে৷ তাদের গায়ে এমনই পোস্টার৷ সবাই জানেন, গাছবিহীন মানব সমাজ অসম্ভব, অবাস্তব৷ বৃষ্টির জন্য গাছ আবশ্যিক৷ সাধারণত এক একর জমিতে লাগানো গাছ বছরে ১৮ জন মানুষের অক্সিজেনের প্রয়োজনিয়তা মেটায়৷ তাই আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ ছুটে যাচ্ছেন আত্মীয়ের মতো গাছেদের জড়িয়ে ধরতে৷

ভারতের সবচেয়ে দূষিত শহর দিল্লি৷ মাত্রাচাড়া বায়ুদূষণে প্রাণ ওষ্ঠাগত৷ এর বিহিত কী হবে তা না ভেবে, একসঙ্গে কয়েক হাজার পুরোনো বড় গাছ কেটে নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে সরকারের মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নানা মহল৷

এদিকে দিল্লিতে ১২.‌৭৪ শতাংশ, অর্থাৎ ১৮৯ বর্গ কিলোমটার সবুজাঞ্চল রয়েছে৷  কিন্তু চিন্তার বিষয় হলো, প্রতিবছর দিল্লিতে গাছের সংখ্যা কমে চলেছে৷ এই অবস্থায় গাছ লাগানোর পরিবর্তে উন্নয়নের নামে গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে৷ সরকারি কর্মকর্তাদের বাংলো এবং মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরির জন্য প্রায় বিপুল সংখ্যক গাছ কাটার পরিকল্পনা তৈরি করেছে সরকার৷ খবর পেয়েই শহরের স্কুল-‌কলেজের ছাত্রছাত্রী থেকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন৷ আদালতে মামলা হয়েছে৷ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হয়েছে৷ চূড়ান্ত রায় না হলেও আপাতত আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত গাছ কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত৷

অডিও শুনুন 07:10
এখন লাইভ
07:10 মিনিট

‘এলাকার মানুষ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে এসেছে'

গবেষক কাঞ্চি কোহলি গত দু'‌মাস ধরে আন্দোলনের সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন৷ এক সাক্ষাৎকারে ডয়চে ভেলেকে তিনি বললেন, ‘‌‘‌সরকারি প্রকল্পটি নিয়ে কথা চলছিল গত কয়েকমাস ধরে৷ তারপরেই এইসব এলাকার মানুষ ধীরে ধীরে প্রতিবাদ করতে শুরু করেছিলেন৷ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, যারা পরিবেশ দূষণ নিয়ে কাজ করে তারাও এগিয়ে এসেছে৷ সবারই প্রশ্ন, একসঙ্গে এতগুলো ৪০-‌৫০ বছরের পুরোনো গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো?‌ এলাকার মানুষ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে এসেছে৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রতিবাদের কথা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷ সরকারের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে৷ একটি মামলা করা হয়েছে৷ এখন সরকার কী পদক্ষেপ নেয় সেই দিকেই সবার নজর৷'‌'‌


সরকারের নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের ‘‌রিডেভলপমেন্ট প্ল্যান'‌-‌এ অ্যামেরিকার ওয়ার্ড ট্রেড সেন্টারের কায়দায় সুউচ্চ আবাসন টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার৷ নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘‌ন্যাশনাল বিল্ডিং কনস্ট্রাকশান কর্পোরেশন'‌ এবং ‘‌সিপিডব্লুডি'‌৷ এই দুই সংস্থা ‌দক্ষিণ দিল্লির সরোজিনী নগর (‌৮,৩২২)‌, নৌরোজি নগর (১৪৬৫)‌‌, নেতাজি নগর (‌২৩১৫)‌, কস্তুরবা নগর (‌৭২৩)‌, মহম্মদপুর (‌৩৬৩)‌, শ্রীনিবাসপুরী (‌৭৫০) এবং ত্যাগরাজ নগরের (‌৯৩)‌ প্রায় ১৪,০৩১টি গাছকে চিহ্নিত করেছে৷ সরকারের দাবি, এই গাছগুলি কেটে নিয়ে প্রায় দেড় লাখ গাছ লাগাবে তারা৷ প্রতিবাদের একেবারে শুরুর দিকে ফেসবুকে ‘Delhi Trees SOS' পেজ খুলে তার ব্যানারে প্রচার চালানো হয়৷ তারপর প্রথমদিন ২৫০ জন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নামেন৷ তা দেখে আরও মানুষ এগিয়ে আসেন৷ তারপর আরও৷ আরও পোস্টার৷ কোনোটিতে লেখা ‘‌নিষিদ্ধ করা হোক গাছ কাটা'‌, কোনটাতে লেখা, ‘‌দিল্লিকে মরুভূমি হতে দেব না৷'

তবে সুখবর হলো, আপাতত দিল্লিতে কোনো গাছ কাটা হবে না৷ স্থগিতাদেশ দিয়ে জানিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট৷ আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন কে কে মিশ্র নামে জনৈক পরিবেশপ্রেমী৷ তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে এই স্থগিতাদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট৷ এই বিষয়ে গ্রিন ট্রাইব্যুনালে শুনানি হবে আগামী ২ জুলাই৷

অডিও শুনুন 03:54
এখন লাইভ
03:54 মিনিট

‘প্রশ্নের জবাব নেই সরকারের কাছে'

আগে ব্যবসা করতেন৷ এখন পরিবেশ রক্ষায় জীবনপণ করেছেন দক্ষিণ দিল্লির এই বাসিন্দা৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বললেন, ‘‌‘‌বাড়ির সামনের কোনো গাছের সঙ্গে শিশু অবস্থা থেকেই সম্পর্ক তৈরি হয়৷ মা-‌ঠাকুরমাদের কোলে চড়ে ঘুরে বেড়ানোর মতোই বাড়ির সামনে গাছের ডালে চড়ে বড় হই আমরা৷ এমন ৪০-‌৫০ বছরের পুরনো গাছকে কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত কীভাবে মেনে নেওয়া যায়?‌ এরপর তো পরিবেশ দূ্যণের বিষয় আছে৷ দিল্লির দূষণ সম্পর্কে নতুন করে কাউকে কিছু বলার নেই৷ এখন পুরোনো বড় গাছ কেটে নিয়ে চারাগাছ লাগানো হলে সমস্যার সমাধান হবে কীভাবে?‌ এইসব প্রশ্নের জবাব নেই সরকারের কাছে৷'‌'‌

আন্দোলন সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাজীব সুরী আরও জানালেন, ‘‌‘‌গাছ কাটার খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ার গ্রুপে৷ যে যার মতো নিজেদের পরিচিতদের আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন৷ তারপর সবাই একজোট হয়ে প্রশাসনের নজর কেড়েছেন৷ এখন সরকারের কাছে বিনম্র আবেদন জানানো হচ্ছে যাতে তার আতাদের প্রাণঘাতী সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নেয়৷'‌'‌

একসঙ্গে এতগুলি গাছ কেটে ফেলার খরবে দিল্লি সাক্ষী থাকল ‘‌চিপকো'‌ আন্দোলনের৷ নানা বয়সের নাগরিক একসঙ্গে জড়ো হয়ে পোস্টার হাতে শান্তিপূর্ণ ভাবে পথে হাঁটলেন৷ গাছকে জড়িয়এ ধরে বললেন, ‘‌কাটতে দেব না'‌ – এটাই চিপকো আন্দোলন৷ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘‌গ্রিন রাইট'-‌এর সক্রিয় কর্মী অনিল সুদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কীসের ভিত্তিতে এই প্রকল্পে ছাড়পত্র দিল কেন্দ্রীয় সরকার?‌ ছাড়পত্র দেওয়ার আগে সরকার গাছ কাটার বিষয়টিকে যথেষ্ট দেয়নি৷ অত্যন্ত ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় হাজার হাজার গাছ কেটে ফেললে পরিবেশে তার কু-‌প্রভাব পড়বেই৷ আরও দূষিত হবে এলাকা৷ এদিকে এতদিন ধরে কেন্দ্রের তরফে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছিল, যে সংখ্যক গাছ কাটা হবে ঠিক সেই সংখ্যক গাছই নতুন করে লাগানো হবে৷ এখন যখন পরিস্থিতি বেগতিক দেখে খোদ কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘‌‘ওই এলাকায় কোনো ‌গাছ কাটা হবে না৷ তবে উন্নয়ন হবে৷'‌'‌ কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই আশ্বাসে মোটি চিঁড়ে ভিজছে না৷ সরকারি বিজ্ঞপ্তি না দিলে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন প্রতিবাদীরা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন