উদ্বিগ্ন জাতীয় কমিটি, নতুন বিধিনিষেধ চায় | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 14.08.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

উদ্বিগ্ন জাতীয় কমিটি, নতুন বিধিনিষেধ চায়

সরকারের বিধিনিষেধ শিথিলে উদ্বিগ্ন কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি৷ আরও এক বা দুই সপ্তাহ চলমান লকডাউন থাকলে পুরোপুরি এর সুফল পাওয়া যেত বলে মনে করেন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ৷ 

বিধিনিষেধ শিথিলে রাজধানী ঢাকা ফিরেছে আগের চেহারাতে

বিধিনিষেধ শিথিলে রাজধানী ঢাকা ফিরেছে আগের চেহারাতে

প্রবীণ এই চিকিৎসক বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় কমিটি ৪৪তম সভা করেছে৷ সেখানে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে ঠিক আছে৷ কিন্তু এখনও কিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব৷ যেমন পর্যটনকেন্দ্র আপাতত বন্ধ রাখতে হবে৷ হোটেল-রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া যাবে না৷ সবার মাস্ক ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে৷  

সরকার পরামর্শ কমিটির কথা শুনছে কিনা জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ৮০ থেকে ৯০ ভাগ শুনেছে৷ শুধু লকডাউন সংক্রান্ত কিছু বিষয় ঠিকভাবে মানতে পারেনি৷ আমরা হয়ত বলেছি, তিন সপ্তাহ, তারা দিয়েছে দুই সপ্তাহ৷

বৃহস্পতিবারের বৈঠক শেষে শুক্রবার জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, বিধিনিষেধ শিথিলতার ক্ষেত্রে সরকার কিছুটা তাড়াহুড়া করেছে৷ এর ফলে সংক্রমণ আবার বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকা রয়েছে, তাতে অর্থনীতি আরও বেশি হুমকির মুখে পড়বে৷ সারাদেশে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে৷ চলমান অবস্থায় লকডাউন শিথিল করার সরকারি সিদ্ধান্তে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে৷

অডিও শুনুন 04:43

লকডাউন সংক্রান্ত কিছু বিষয় সরকার ঠিকভাবে মানতে পারেনি: ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

জাতীয় কমিটির এই সুপারিশের ব্যাপারে সরকার কী ভাবছে? জানতে চাইলে করোনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘জাতীয় কমিটির সুপারিশগুলো ভালো৷ আমরা পরবর্তী বৈঠকে তাদের সুপারিশের ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব৷'' তবে পরবর্তী বৈঠকের সময় এখন ঠিক হয়নি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘‘১৫ আগস্টের নানা কর্মসূচী রয়েছে, এগুলো শেষ হলে পরে আমরা বৈঠক করব৷’’

কারিগরি পরামর্শক কমিটি সরকারের গৃহীত সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেছে৷ সভা-সমাবেশ, সামাজিক অনুষ্ঠান, পর্যটন আরও কিছুদিন বন্ধ রাখাসহ অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহণ চলাচল, যেসব ক্ষেত্রে সম্ভব বাড়িতে বসে কাজ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে৷ এছাড়াও অনলাইন সভা/কর্মশালা/প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রেখে অফিস খোলা রাখা,  তিন লেয়ার বিশিষ্ট মাস্ক পরার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেছে কমিটি৷

কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা তো সুপারিশ করি, সরকার নানাভাবে চিন্তা করে সেটার বাস্তবায়ন করে৷ বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও আমরা বলেছি, শতভাগ সঠিকভাবে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে৷ আমাদের মতো দেশে তো মাসের পর মাস লকডাউন দিয়ে রাখা যাবে না৷ সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধিতে অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে হবে৷ এটা করা গেলে সংক্রমনের হার নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলেই মনে করে কমিটি৷’’

জাতীয় কমিটির পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন মহল থেকে ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন বিষয়ে নানাজন নানাভাবে মতামত দেওয়ায় জনমনে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে৷ কমিটি মনে করে, ভ্যাকসিন কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললে এরকম পরিস্থিতির উদ্ভব হবে না৷ সভায় গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারীদের কোভিড-১৯ টিকা প্রদানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়৷ গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারীদের টিকা প্রদানের ব্যবস্থা আরও সহজ ও নিরাপদ করার জন্য কমিটির সভা থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়৷

অডিও শুনুন 01:04

পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা জানা যাবে আরও দুই সপ্তাহ পর: ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম

জাতীয় কমিটির সুপারিশের ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পরামর্শক কমিটি সব সময় ভালো পরামর্শই দেয়৷ আমরাও তো বলেছি, কিছু বিধিনিষেধ থাকলে ভালো হয়৷ এখন যে সংক্রমণের হার দেখছেন, সেটা কিন্তু দুই সপ্তাহ আগের রেজাল্ট৷ এখন বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ফলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা জানা যাবে আরও দুই সপ্তাহ পর৷ তবে সরকারকে তো নানা বিষয়ে চিন্তা করতে হয়৷ অনেক দেশই কিন্তু বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে আবারও বিধিনিষেধে ফিরেছে৷ বৃটেনের কথাই আমরা বলতে পারি৷ সেখানে তো স্কুল-কলেজও খুলে দেওয়া হয়েছিল৷ এখন কিন্তু সবকিছু আবার বন্ধ করতে হয়েছে৷’’

সরকার তাড়াহুড়ো করায় ফল আবার খারাপ কিছু না হয়, সে ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘এখন সবকিছু খুলে দিয়ে যদি সামনে আবারও বন্ধ করতে হয় তাহলে তো অর্থনীতি ভালোর চেয়ে খারাপ হবে৷ তার চেয়ে বুঝেশুনে যদি সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয় তাহলে সবার জন্যই ভালো৷ আমরাও জাতীয় কমিটির সুপারিশের মতো করে বলতে চাই, এখনই সবকিছু পুরোপুরি খুলে দেওয়া ঠিক হচ্ছে না৷ কিছু বিধিনিষেধ থাকতেই হবে৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়