উত্তর কোরিয়া সংকট: ১০টি প্রশ্ন, ১০টি উত্তর | বিশ্ব | DW | 01.09.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া সংকট: ১০টি প্রশ্ন, ১০টি উত্তর

পিয়ংইয়াং-এর তরফ থেকে প্ররোচনা অব্যাহত; চলেছে রকেট পরীক্ষা; সারা বিশ্বে বাড়ছে উদ্বেগ ও আশঙ্কা৷ ডয়চে ভেলের প্রশ্নোত্তরে সামগ্রিক পরিস্থিতি৷

অতীতের কোরিয়া যুদ্ধের সঙ্গে আজকের সংঘাতের সম্পর্ক কী?

কোরিয়া যুদ্ধ চলে ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল অবধি৷ উত্তর কোরিয়ার মানুষদের যৌথ স্মৃতিতে তা কোনোদিই মুছে যায়নি – এবং যাতে মুছে না যায়, সেজন্য উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র ও সরকার যথাসাধ্য করে চলেছেন৷ কোরিয়া যুদ্ধে মিত্রশক্তিরা বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির তোয়াক্কা না করে যুদ্ধ চালায়, যে কারণে উত্তর কোরিয়ায় মার্কিন বিরোধী প্রচারণা এত কার্যকর৷ মাত্র তিন বছরের যুদ্ধে একটানা মার্কিন বোমাবর্ষণের ফলে উত্তর কোরিয়ার জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ প্রাণ হারান৷ এছাড়া সেই যুদ্ধ সরকারিভাবে এখনও সমাপ্ত হয়নি, কেননা কোনো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি; তত্ত্বগতভাবে গত ৬৪ বছর ধরে যুদ্ধবিরতি চলছে৷ দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩০,০০০ মার্কিন সৈন্যের উপস্থিতি ও দক্ষিণ কোরিয়ার সৈন্যদের সাথে তাদের নিয়মিত সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়াকে স্থায়িভাবে সন্ত্রস্ত করে রেখেছে৷

উত্তর কোরিয়ার মানুষদের জীবন কী রকম?

দশকের পর দশকের বিচ্ছিন্নতা উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি করেছে৷ নব্বই-এর দশকের মাঝামাঝি দেশের ব্যাপকতম দুর্ভিক্ষ ও অনাহারে আনুমানিক তিন লাখ মানুষ প্রাণ হারান৷ আজও উত্তর কোরিয়ার জনগণের এক-তৃতীয়াংশ অপুষ্টিতে ভুগছে, বলে জাতিসংঘের বিবরণে প্রকাশ৷ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়৷

কিম জং-উনের প্রশাসন ঠিক কতটা খামখেয়ালি?

৩৩ বছর বয়সি কিম জং-উন যে একজন স্বৈরাচারি একনায়ক, যার প্রধান লক্ষ্য হল বিশ্বের একমাত্র পারিবারিক ও বংশানুক্রমিক কমিউনিস্ট স্বৈরতন্ত্রকে যে কোনো উপায়ে বাঁচিয়ে রাখা – সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকতে পারে না৷ কিন্তু কিমকে ‘পিয়ংইয়াং-এর পাগল' বলে মনে করলে ভুল করা হবে৷ গত ছ'বছর ধরে কিমের বিভিন্ন পদক্ষেপ যেমন নির্মম, তেমনই কৌশলী বলে প্রমাণিত হয়েছে৷ শাসনপ্রণালী বজায় রাখার দৃষ্টিকোণ থেকে কিমের পারমাণবিক কর্মসূচি যুক্তিযুক্ত৷

Infografik Timeline Nordkoreas Raketentests 05.07.2017 ENG

কিম-এর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন আক্রমণ করার জন্য নয়; তিনি চান সেই চূড়ান্ট ‘ডিটারেন্ট' বা প্রতিরোধী অস্ত্র – এবং সেই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমানে সমানে আলাপ-আলোচনা, দুই পরমাণু শক্তির মধ্যে যে ধরণের আলোচনা হয়ে থাকে৷

বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার মনোভাব কী?

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন মাত্র গত মে মাসে ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন৷ তিনি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্প্রীতি বৃদ্ধি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কিছুটা হ্রাসের জন্য সচেষ্ট৷ ট্রাম্প প্রশাসনের অনিশ্চিত কোরিয়া নীতি মুন-এর কাজকে আরো শক্ত করে তুলেছে৷ মুন দৃশ্যত চান না যে, তাঁর দেশ একটি আন্তর্জাতিক সংঘাতে রাজনৈতিক পণবন্দিতে পরিণত হোক৷

সামরিক সংঘাত কোনদিকে মোড় নিতে পারে?

সামরিক বিচারে সুসজ্জিত দুই কোরিয়ার পিছনে রয়েছে তাদের কোরিয়া যুদ্ধের আমলের সাবেক মিত্ররা, যারা নিজেরাও আবার পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বি৷ চীন উত্তর কোরিয়াকে, ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়াকে সমর্থন করে থাকে৷ সংঘাতে জাপান, রাশিয়া এবং ন্যাটো – ও সেই সূত্রে জার্মানির জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে৷ পরমাণু অস্ত্র ছাড়াও, দুই কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বিপন্ন হবার আশঙ্কা আছে৷ উত্তর কোরিয়ার রাজধানী সৌলের এক কোটি বাসিন্দা উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে বাস করেন৷

উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প কী পরিবর্তন এনেছেন?

মার্কিন ছাত্র অটো ওয়ার্মবিয়ারের মৃত্যু নিয়ে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সূচনাতেই ঝড় বয়ে যায়৷ উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক প্ররোচনার জবাবেও ট্রাম্প সংযম প্রদর্শন করেননি, বরং পিয়ংইয়াং তার রকেট পরীক্ষা চালিয়ে গেলে ‘‘রোষের আগুন''-এর কথা বলেছেন৷ সংযত হবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আহ্বানের পর উভয় পক্ষই বাগাড়ম্বর কিছুটা কমিয়ে এনেছে৷ কিন্তু তার কয়েক দিন পরেই যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে তাদের বাৎসরিক সামরিক মহড়া শুরু করে ও উত্তর কোরিয়া জাপানের উপর দিয়ে আবার একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে৷

চীন উত্তর কোরিয়ার উপর আরো চাপ দিচ্ছে না কেন?

চীন জাতিসংঘের আরোপিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনুযায়ী উত্তর কোরিয়া থেকে কয়লা ও অপরাপর পণ্য আমদানি বন্ধ রেখেছে৷ অপরদিকে বেইজিং উত্তর কোরিয়ায় তেল ও খাদ্য রপ্তানি বন্ধ করতে রাজি নয় – চীন যাকে ‘‘মানবিক সাহায্য'' বলে গণ্য করে থাকে৷ চীন যে উত্তর কোরিয়ায় প্রশাসন বদলে আগ্রহী নয়, তা প্রধানত দু'টি কারণে: উত্তর কোরিয়া ভেঙে পড়লে চীন অভিমুখে উদ্বাস্তুর স্রোত শুরু হবে; দ্বিতীয়ত, উভয় কোরিয়ার পুনর্মিলন ঘটলে গোটা কোরীয় উপদ্বীপ মার্কিন প্রভাবে চলে যাবে ও মার্কিন সৈন্যরা – অন্তত তত্ত্বগতভাবে – বস্তুত চীনের সীমান্তে এসে দাঁড়াবে৷ 

রাশিয়া কি শুধু নীরব দর্শক?

রাশিয়া বলে চলেছে যে, উত্তর কোরিয়ার রকেট পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ‘‘নৌ- ও বিমান পরিবহণের জন্য একটি বড় ঝুঁকি'', এছাড়া বেসামরিক ব্যক্তিদের জন্যও একটি বিপদ৷ রাশিয়ার উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে একটি ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে৷ অপরদিকে রাশিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্পর্কে সাবধান করে দিচ্ছে৷ উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে মস্কোর দ্বিধা থাকলেও, রাশিয়া জাতিসংঘের প্রস্তাব মেনে নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তার যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রকল্প বন্ধ রেখেছে৷

জাতিসংঘের অবস্থান কী?

গত বছর জাতিসংঘ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের সহযোগিতার একটি পূর্ণাঙ্গ নীতি পেশ করে৷ কিম সরকারের সাথে একযোগে দেশটিকে মিলেনিয়াম লক্ষ্যসমূহের পথে নিয়ে যাওয়াই জাতিসংঘের উদ্দেশ্য৷ অপরদিকে আগস্টের গোড়ায় নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে এযাবৎ সবচেয়ে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে একমত হয়৷ উত্তর কোরিয়া থেকে কয়লা, লোহা, শিসা ও সি-ফুড রপ্তানি নিষিদ্ধ হওয়ার ফলে দেশটির প্রায় ১০০ কোটি ডলার লোকসান হবে৷

কূটনীতি কি এখনও সফল হতে পারে?

ছ'পাক্ষিক আলাপ-আলোচনা থেকে দেখা গেছে যে, উত্তর কোরিয়া বাকিদের পরস্পরের বিরুদ্ধে লাগিয়ে নিজের সুবিধা হাসিল করতে ওস্তাদ৷ পিয়ংইয়াং গত ছ'বছর ধরে চীন, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছে৷ বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা একটি ‘ডাবল ফ্রিজ' বা ‘দ্বিবিধ থামার' কথা বলছেন৷ কিন্তু পিয়ংইয়াং তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য একটি উচ্চ মূল্য দাবি করছে: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলাপ-আলোচনা ও ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিবর্তে একটি শান্তি চুক্তি – যার অর্থ এই দাঁড়াবে যে, দক্ষিণ কোরিয়াকে তার সংবিধানে একটি দ্বিতীয় কোরীয় রাষ্ট্রকে স্বীকার করে নিতে হবে৷ যার অর্থ দাঁড়াবে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর দক্ষিণ কোরিয়ায় সৈন্য স্থাপন করার কোনো বৈধ কারণ থাকবে না৷ যার অর্থ দাঁড়াবে: এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়বে৷

কশিক, ফন হাইন, এবিগহাউজেন, বুশুয়েভ, মুনো/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়