উত্তর কোরিয়াকে বশে আনতে বহুমুখী উদ্যোগ | বিশ্ব | DW | 07.09.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়াকে বশে আনতে বহুমুখী উদ্যোগ

উত্তর কোরিয়াকে বশে আনতে চীন ও রাশিয়ার উপর চাপ বাড়ছে৷ মার্কিন ও চীনা প্রেসিডেন্ট টেলিফোনে যোগাযোগ রাখছেন৷ দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানও নিজস্ব উদ্যোগ নিচ্ছে৷ আরও নিষেধাজ্ঞা চাপানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইইউ৷

নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক চাপ ও হুমকির মুখে উত্তর কোরিয়া নতি স্বীকার করে কিনা, অপেক্ষা করে তা দেখার সময় নেই দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক মানুষের৷ যুদ্ধ আসন্ন, এমনটা মনে করছেন তারা৷ এদিকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা মোতায়েনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন অনেক মানুষ৷ উল্লেখ্য, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার আওতায় শেষ চারটি লঞ্চার বসানোর কাজ চলছে৷ বিক্ষোভকারীদের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপকে চরম প্ররোচনা হিসেবে গণ্য করে উত্তর কোরিয়া দক্ষিণের উপর হামলা চালাতে পারে৷

উত্তর কোরিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নতুন করে খুব বেশি কিছু যোগ করার অবকাশ নেই৷ মার্কিন প্রশাসন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উপর সে দেশে পেট্রোলিয়াম সরবরাহ নিষিদ্ধ করার জন্য চাপ দিচ্ছে৷ উত্তর কোরিয়া থেকে বস্ত্র ও শ্রমিক আমদানিও বন্ধ করতে চায় ওয়াশিংটন৷ বিদেশে শীর্ষ নেতা কিম জং উন-এর সম্পত্তি আটক রাখা ও তাঁর বিদেশ ভ্রমণ নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবের খসড়ায় অন্তর্ভূক্ত করেছে মার্কিন প্রশাসন৷

চীন ও রাশিয়ার মতো দেশের উপর চাপ বাড়াতে মার্কিন প্রশাসন নিজস্ব পদক্ষেপেরও হুমকি দিয়েছে৷ যে সব দেশ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য চালাচ্ছে, তাদের সঙ্গে মার্কিন ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিচ্ছে ওয়াশিংটন৷ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই লক্ষ্যে এক নির্বাহী আদেশ প্রস্তুত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্টিভ মেনুশিন৷ তবে এমন পদক্ষেপ অত্যন্ত অবাস্তব বলে মনে করছে অনেক মহল৷ বিশেষ করে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিণতি অ্যামেরিকার পক্ষে সামাল দেওয়া কঠিন হবে৷

উত্তর কোরিয়া পরিস্থিতিকে ঘিরে চীনের অস্বস্তি বেড়ে চলেছে৷ কোরীয় উপদ্বীপ ও জাপানে অ্যামেরিকার মদতে বেড়ে চলা সমরসজ্জার ফলে চীনের নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থের ক্ষতি হচ্ছে৷ বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা চীনের মাথাব্যথার কারণ৷ বুধবার চীনা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট টেলিফোনে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন৷ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সে বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কিছু করতে চান৷ দেখা যাক, তিনি সেটা করতে পারেন কিনা৷ কিন্তু উত্তর কোরিয়ার অবস্থা আমরা মেনে নেবো না৷'' উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক হামলার প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, অবশ্যই সেটা প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে না৷

উত্তর কোরিয়াকে বশে আনতে চীন ও রাশিয়ার উপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান৷ রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্তক শহরে এক আঞ্চলিক শীর্ষ সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন উত্তর কোরিয়ার উপর আরও নিষেধাজ্ঞার পক্ষে চীন ও রাশিয়ার সমর্থন আদায় করতে চাইছেন৷ সেই দুই দেশ অবশ্য ধাপে ধাপে সামরিক উত্তেজনা কমানোর ডাক দিচ্ছে

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নও উত্তর কোরিয়ার উপর নিজস্ব নিষেধাজ্ঞা চাপানোর উদ্যোগ নিচ্ছে৷ ইইউ-র পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আসন্ন সম্মেলনে এই মর্মে প্রস্তাব পেশ করবেন বলে জানিয়েছেন৷

এসবি/ডিজি (রয়টার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন