উড়ন্ত রোবট বানাতে বিজ্ঞানীদের গবেষণা | বিশ্ব | DW | 23.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

উড়ন্ত রোবট বানাতে বিজ্ঞানীদের গবেষণা

শিল্প-কারখানায় রোবটের ব্যবহার আগেই শুরু হয়েছে৷ মানুষের জন্য বিপজ্জনক অনেক কাজ এখন রোবট করছে৷ এ সব কাজের জন্য রোবটকে আরও উন্নত করতে সারা বিশ্বেই গবেষণা চলছে৷

সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ইউরোপীয় গবেষণা প্রকল্পে নিয়োজিত একদল গবেষক রোবট ওড়ানো নিয়ে কাজ করছেন৷ একটি রোবট দেখিয়ে গবেষক কস্টাস আলেক্সিস জানালেন, ‘‘এখানে আছে ‘ব্রেন’৷ আর এখানে সেন্সর আর প্রপেলার৷ প্রপেলার থেকে তথ্য ব্রেন-এ যায়, যা ন্যাভিগেশন সংক্রান্ত ভুলগুলো রিয়েল টাইমে পরিমাপ করে এবং প্রপেলারকে নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলো ঠিক করে৷’’

কয়েকটি ক্যামেরা থাকার কারণে মডেলটি সবকিছু ভালভাবে দেখতে পারে এবং সেভাবে সে তার পথ খুঁজে নেয়৷ এটি সামনের বাধা এড়াতে সক্ষম, এবং একে ধাক্কা দিলে সে আবার নিজের জায়গায় ফিরে আসে৷

আরেক গবেষক ইয়ানশ নিকোলিচ জানালেন, ‘‘মডেলটির নিজেকেই জানতে হবে যে, সে কোথায় আছে, কত দ্রুত এগোচ্ছে, আর তার চারপাশটাই বা দেখতে কেমন৷ সে কারণে মডেলে কয়েকটি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে৷ এছাড়া আছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এলইডি লাইট৷ আরও আছে পরিমাপ যন্ত্র, যা থেকে আমরা ‘অ্যাঙ্গুলার ভেলোসিটি ও অ্যাক্সিলারেশন’ জানতে পারি৷ ফলে যন্ত্রটি জানে, সে ঠিক কোথায় আছে৷ আর একে ধাক্কা দিলে সে আবার ফিরে আসে৷’’

মূল পরিকল্পনা হলো এমন রোবট ওড়ানো, যা দেয়াল ও বড় কারখানার পাইপ পরীক্ষার মতো বিপজ্জনক ও ব্যয়বহুল নানান কাজ সম্পন্ন করতে মানুষকে সহায়তা করবে

নিকোলিচ বলেন, ‘‘এখন যেটা করা হয় তা হচ্ছে, পুরো প্ল্যান্ট বন্ধ করে মানুষ পাঠিয়ে হাতেকলমে পরীক্ষা করা, যা সময়সাপেক্ষ ও খুবই বিপজ্জনক একটি কাজ৷ এ ধরনের কাজ করতে গিয়ে মানুষ মারাও যায়৷ তাই আমরা এক বা একাধিক হেলিকপ্টার পাঠানোর পরিকল্পনা করছি, যা থেকে পুরো বয়লারের ত্রিমাত্রিক ছবি পাওয়া যাবে৷ পরে সেই ছবি দেখে শুধু নির্দিষ্ট এলাকা হাতেকলমে পরীক্ষা করা যেতে পারে৷’’

প্রয়োজন হলে উড়ন্ত রোবটের নকশায় পরিবর্তন এনে সেটি দিয়ে ছোট কোনো বস্তু তুলে আনা কিংবা আল্ট্রাসনিক সেন্সর ব্যবহার করে দেয়ালের ভেতরের ছবি দেখা যেতে পারে৷ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কারণে এটি পরিচালনা করা বেশ সহজ৷ এর জন্য বিশেষ জ্ঞানের প্রয়োজন নেই৷

বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রবার্তো নালদি বলেন, এই রোবট ব্যবহার করা সহজ৷ ‘‘ব্যবহার করা খুবই সহজ৷ এটি কীভাবে চালাতে হয়, তাও জানার প্রয়োজন নেই৷ শুধু বোতাম চেপে ডান-বাম, উপর-নীচ করা যায়৷ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কারণে অনভিজ্ঞরাও এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে৷ অনেকটা ভিডিও গেমের মতো,’’ বলেন তিনি৷

তবে এ ধরণের যন্ত্রের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে বলে জানান বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লরেন্সো মার্কোনি৷ ‘‘এ ধরনের যন্ত্রের ক্ষেত্রে দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ আছে৷ প্রথমত, অপরিচিত পরিবেশে নিজের মতো চলতে পারবে এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য সেন্সর দিয়ে রিয়েল টাইমে সে ধরনের পরিবেশ গড়ে তোলা৷ আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলার পাশাপাশি যন্ত্রকে আশেপাশের পরিবেশ অনুযায়ী নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে,’’ বলেন তিনি৷

গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে উড়ন্ত রোবট মানুষের অনেক কাজ সহজ ও নিরাপদ করে শিল্পখাত অটোমেশনের একটি নতুন যুগের সূচনা করবে৷

গত অক্টোবরের ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন