উটের দুধ বিক্রি করে টিকে আছে রাইকা সম্প্রদায় | অন্বেষণ | DW | 09.01.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

উটের দুধ বিক্রি করে টিকে আছে রাইকা সম্প্রদায়

রাজস্থানের রাইকা সম্প্রদায়ের শত বছরের উট পালার প্রথা এখন হুমকির মুখে৷ লাভজনক না হওয়ায় উট পালার উপর থেকে আগ্রহ অনেকের কমে যাচ্ছে৷ তবে তাঁদের আশার আলো দেখাচ্ছেন এক জার্মান৷

 উটের নানামুখী ব্যবহারের মাধ্যমে রাইকাদের জন্য অর্থ আয়ের নানাপথ তৈরি করে দিয়েছেন তিনি৷

রাইকা জনগোষ্ঠী গত কয়েক শতক ধরে রাজস্থানে উট পালন করছে৷ অনেকের বিশ্বাস যে, ঈশ্বর শিব নিজেই এই রাইকা সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছেন, যাঁদের কাজ হচ্ছে শুধু উট পালন করা৷ তবে সময় বদলেছে৷ রাইকাদের প্রথাগত জীবনযাপন এখন হুমকির মুখে৷  

কৃষিকাজে এখন মেশিন ব্যবহার করে অনেককিছু করা যায়, যা করতে আগে উটের দরকার হতো৷ ফলে উটের প্রয়োজনীয়তা দ্রুত কমছে৷ গত ত্রিশ বছরে রাজস্থানে উটের বংশবৃদ্ধিও নাটকীয়ভাবে কমেছে৷ ভানওয়ারলাল রাইকার উটের পালও ছোট হয়ে গেছে৷ তাঁর বাবার কাছে এর দ্বিগুন উট ছিল৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের এই ঐতিহ্য বংশানুক্রমে চলছে৷ কিন্তু যদি আয় না থাকে, তাহলে আমরা এই ঐতিহ্য কিভাবে ধরে রাখবো? তরুণদের জীবিকার আশায় গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে যেতে হচ্ছে৷ আমার সন্তানরা স্কুলে যায়৷ আর সেজন্য আমার প্রতিমাসে অনেক টাকা খরচ হয়৷ যদি আমরা উট পেলে আর জীবিকা নির্বাহ করতে না পারি, তাহলে আমরা টিকে থাকবো কিভাবে?''

ইলসা-ক্যোঁহলার-রোলেফসন একজন জাতিবিদ এবং পশুচিকিত্সক৷ হানোয়ান্ত সিং রাঠোরকে সঙ্গে নিয়ে তিনি একটি সংগঠন তৈরি করেছেন, যেটি উট পালকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে৷ রাইকা এবং তাঁদের উটের জন্য এটি একটি অ্যাডভোকেসি গ্রুপ৷ তিনি বলেন, ‘‘উট পশুচারণ নানাভাবে গাছ সংরক্ষণে সহায়তা করে৷ অনেক গাছ শুধুমাত্র জাবর কাটা পশুর সহায়তায় অঙ্কুরিত হতে পারে৷ এটা একটা প্রাকৃতিক চক্র: মানুষ, উট, বায়োটপ এবং মানসম্পন্ন খাবার উৎপাদন৷'' 

ভিডিও দেখুন 05:36

উটের দুধ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ

গত কয়েকশ' বছর ধরে উট প্রজনন রাইকাদের উপার্জনের মূল উৎস৷ নারী উটগুলোকে তাঁরা প্রজননের জন্য রেখে দেন৷ উটের দুধ খুবই স্বাস্থ্যকর৷ উটপালক এবং তাঁদের পরিবারের খাদ্য তালিকার অন্যতম উপাদান এটি৷ তাঁরা আগে বলতো, উটের দুধ বিক্রি অনেকটা নিজের সন্তান বিক্রির মতো ব্যাপার৷ কিন্তু সেই অবস্থান থেকেও সরে এসেছেন তাঁরা৷

এখন ভানওয়ারলাল রাইকা প্রতিদিন সকালে উটের দুধ পাশের একটি দুধ বিক্রির খামারে নিয়ে যান৷ তিন বছর আগে এলপিপিএস এই খামার চালু করেছে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম৷ উট বিক্রি করে ফেলি৷ কিন্তু তখনই এই সংগঠন উটের দুধ বিক্রি শুরু করে৷ ফলে আমি আবার উটের পাল ফিরিয়ে আনি৷ এখন উটের দুধ বিক্রির মাধ্যমে আমি আমার পরিবারের অন্নসংস্থান করতে পারছি৷ এখন এই সংগঠন যদি কাল থেকে আবার দুধ বিক্রি বন্ধ করে দেয়, তাহলে আমার উটের পাল আবার বিক্রি করে দিতে হবে৷''

 উটের দুধ বিক্রির এই খামারতোলারাম রাইকার ভাগ্যও বদলে দিয়েছে৷ যখন তিনি ছোট ছিলেন, তখন তাঁকে তাঁর পরিবার শহরে পাঠিয়েছিল পয়সা উপার্জন করতে৷ তিনি পনের বছর বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং চায়ের দোকানে কাজ করেছেন৷ তোলারাম রাইকা বলেন, ‘‘আমি শহরে অনেক বছর ধরে কাজ করেছি৷ কিন্তু সেখানে এখানকার তুলনায় কম রোজগার করতাম৷ আমি এই খামারে দুই মাস আগে কাজ শুরু করেছি৷ আমি উটের দুধ সম্পর্কে অনেক কিছু জানি৷ আমি এখানে কাজ করতে পেরে অনেক সন্তুষ্ট৷ আমি আশা করছি, খামারটা ভালোভাবে এগিয়ে যাবে৷''

উটের খাদ্য তালিকা বেশ বিস্তৃত৷ ৩৬ রকমের উদ্ভিদ খায় সেগুলো৷ এসব উদ্ভিদের মধ্যে ঔষধি গুণসম্পন্ন উদ্ভিদও আছে৷ ফলে সেগুলোর দুধে অনেক রকম স্বাস্থ্যকর উপাদান আছে বলে বিশ্বাস করা হয়৷

তবে এখনো কামেল কারিশমা প্রত্যাশা অনুযায়ী পর্যাপ্ত দুধ বিক্রি করতে পারছেন না৷ খামারটির কর্মক্ষমতার মাত্র একতৃতীয়াংশ এখন অবধি ব্যবহার করা হচ্ছে৷ ফলে এটির আরো ক্রেতা দরকার৷ ড. ইলসা-ক্যোঁহলার-রোলেফস এই বিষয়ে বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে ছয়টির মতো পরিবার আমাদের উটের দুধ সরবরাহ করছে৷ তবে এ ব্যাপারে অনেকের আগ্রহ আছে৷ আমরা প্রতিদিন রাইকাদের কাছ থেকে আমাদের কাছে দুধ বিক্রির আগ্রহের ব্যাপারে ফোনকল পাই৷ তাঁরা ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন৷ আমরা দেখেছি, যে রাইকারা দুধ বিক্রি করতে পারছেন, তাঁরা তাঁদের উটগুলো পালনে সক্ষম হচ্ছেন৷ ''

অবিক্রিত দুধ দিয়ে সাবান তৈরি করা হয়৷ এটি এমন এক পণ্য যা ভালো বিক্রি হয়৷ আর রাইকাদের জন্য এটা আয়ের আরেক উৎস৷ আসলে নতুন কিছু উৎপাদনে রাইকাদের আগ্রহেরও কমতি নেই৷ তাঁরা উটের লোম দিয়ে কাপড় তৈরি করছেন৷ এমনকি উটের গোবর দিয়ে কাগজও তৈরি হচ্ছে৷

প্রতিবেদন: কর্নেলিয়া বরমান / এআই

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন