উচ্চতার ভয় তাড়াতে ভরসা ভার্চুয়াল রিয়ালিটি | অন্বেষণ | DW | 18.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

উচ্চতার ভয় তাড়াতে ভরসা ভার্চুয়াল রিয়ালিটি

উঁচু বাড়ির ছাদ অথবা পাহাড়ের উপর থেকে নীচে তাকালে অনেকের মাথা ঘুরে যায়৷ সেই ভয় দূর করা সহজ নয়৷ এবার ভার্চুয়াল রিয়ালিটি থেরাপির মাধ্যমে ভার্টিগো রোগীদের মন থেকে উচ্চতার ভয় দূর করার চেষ্টা চলছে৷

ভিডিও দেখুন 04:34
এখন লাইভ
04:34 মিনিট

উচ্চতার ভয় দূর করা যায় যেভাবে

এমন দৃশ্য নিকোল ফেয়ারিং-এর কাছে দুঃস্বপ্নের মতো লাগে৷ তিনি ভার্টিগো বা উচ্চতাজনিত আতঙ্কের রোগী৷ এমনকি জানালা পরিষ্কার করাও বড় সমস্যা৷ তিনি বলেন, ‘‘উপরে তাকালেও একেবারে ভালো লাগে না৷ তখন আমি কাঁপতে থাকি৷ নিজেকে সামলাতে জানালা আঁকড়ে ধরি৷''

কয়েক কিলোমিটার দূরে বটরপ শহরের বিখ্যাত ইস্পাতের কাঠামো, যার পোশাকি নাম টেট্রাহেড্রন৷ নিকোল ফেয়ারিং-এর ছাদের ঘরের তুলনায় এই কাঠামোর উচ্চতা প্রায় ১০ গুণ বেশি৷ রুয়র এলাকার এই দ্রষ্টব্য অনেককে আকর্ষণ করলেও নিকোল এটি দেখলে মানসিক চাপে ভোগেন৷ নিকোল বলেন, ‘‘পড়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে৷ শুধু দড়ি দিয়ে বাঁধা৷ ভালো নয়৷'' 

প্রায়ই তিনি এই ভয় ভাঙার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন৷ প্রথমে কিছুটা সাহস পেলেও আরও এগোলেই সেটা বোধহয় থাকবে না বলে তিনি মনে করেন৷ বাচ্চাদের সঙ্গে উপরে যেতে হলে তাঁর মনে ব্যর্থতার বোধ আসে৷ কারণ তিনি উপরে উঠতে পারেন না৷ ভয়েরই জয় হয়৷''

রেগেন্সবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় নিকোল-কে আশার আলো দেখাতে পারে৷ সেখানে আন্দ্রেয়াস ম্যুলব্যার্গার ও টেরেসা ভেক্সলার ভয়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ঘোষণা করেছেন৷

ভার্চুয়াল রিয়ালিটির জগতে তাঁরা নিকোল ফেয়ারিং-এর সামনে বটরপ শহরের সেই কাঠামো ফুটিয়ে তুলেছেন, বাস্তব জগতে যার সামনে তিনি হার মানতে বাধ্য হন৷ খোলামেলা এই কাঠামো ভয় দূর করার থেরাপির জন্য আদর্শ হতে পারে৷

তাঁরা নিকোলের সঙ্গে অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করছেন৷ কোন উচ্চতায় তাঁর ঠিক কতটা ভয় করছে, সে বিষয়ে খুঁটিনাটি প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে তাঁকে৷ নিকোল বলেন, ৭০ শতাংশ ভয় রয়েছে৷ ভয়ের মাত্রা সর্বোচ্চ স্তরে ওঠার পর স্থির হয়ে দাঁড়ানোর পালা৷

ভয়ের সর্বোচ্চ মাত্রা সত্ত্বেও নিকোল জানেন, সবটাই তাঁর মনের মধ্যে ঘটছে৷ তাহলে ভার্চুয়াল জগতের বদলে আসল টাওয়ারের উপর উঠলে কেমন হয়? থেরাপিস্ট আন্দ্রেয়াস ম্যুলব্যার্গার বলেন, ‘‘বাস্তবের মুখোমুখি হওয়া একটা সমস্যা বটে৷ তাই সেই ঝক্কি কেউই প্রায় নিতে চায় না৷ একদিকে তার আয়োজনের কাজ রয়েছে, তাছাড়া অনেকে নিজেকে সেই অবস্থায় কল্পনা করতে পারে না, বোধহয় এমন থেরাপি করার সাহস পায় না৷ তার বদলে তাদের কাছে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি পরিস্থিতিতে নিজেদের ভয়ের মুখোমুখী হওয়া অনেক সহজ৷''

মায়ার সেই জগত যত নিখুঁত হবে, থেরাপিও তত কাজ দেবে৷ মনস্তত্ববিদরা ফ্যান চালিয়ে বাতাস সৃষ্টি করে অথবা নড়বড়ে রেলিং-এর মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলেন৷

৩ দিন আগে নিকোল-এর থেরাপি শেষ হয়েছে৷ তিনি জানালেন, আর ভয় করছে না৷ এখন আর নিকোল-এর রেলিং-এর প্রয়োজন নেই৷ সাময়িক হলেও এটা একটা বিশাল সাফল্য

সব রোগীর ক্ষেত্রে এমন উন্নতি দেখা যায় না৷ কিন্তু নিকোল ভার্চুয়াল রিয়ালিটি থেরাপির মাধ্যমে তাঁর লক্ষ্য পূরণ করেছেন৷ অবশেষে তাঁর ভয় দূর হয়েছে৷

প্রতিবেদন: মার্টিন পিক/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন