ঈদ আনন্দে তুচ্ছ ভাইরাস আতঙ্ক | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 24.05.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইন্দোনেশিয়া

ঈদ আনন্দে তুচ্ছ ভাইরাস আতঙ্ক

করোনা ভাইরাস মহামারির আতঙ্ককে তুচ্ছ করে এশিয়ার দেশগুলোতে মুসলমানরা ঈদ আনন্দে মেতে উঠেছে৷

পোশাক কিনতে পশ্চিম জাভার একটি বাজার এলাকায় ভিড় জমিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার মানুষ৷

পোশাক কিনতে পশ্চিম জাভার একটি বাজার এলাকায় ভিড় জমিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার মানুষ৷

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের একটি ঈদুল ফিতর৷ দীর্ঘ একমাস রোজা রাখার পর আসে ঈদ৷ কিন্তু এবার পৃথিবীর চিত্র ভিন্ন৷

বছরের শুরুতেই থাবা বিস্তার করতে থাকা কোভিড-১৯ এক সময় বৈশ্বিক মহামারির রূপ নেয়৷ একে একে লকডাউন হয়ে যায় বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ৷

বন্ধ হয়ে যায় স্কুল-কলেজ, অনুষ্ঠান-আয়োজন৷ জনসমাগম বন্ধ করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে একে একে অফিস-আদালত, গণপরিবহন, বাজার এবং প্রার্থনালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়৷

লকডাউনের মধ্যেই শুরু হয় রোজা৷ ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তানের মতো মুসলমান অধ্যুষিত এশিয়ার দেশগুলোতে বাজার ও শপিংমল খুলতে শুরু করে৷ ঈদ আনন্দে লোকজন বাজার করা শুরু করে৷

যদিও সব দেশের সরকারই স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি মেনে দোকান খোলার এবং ক্রেতাদের কেনাকাটা করার শর্ত বেঁধে দেয় এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেয়৷ কিন্তু বাস্তবে দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া কাউকে ওই সব নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করতে দেখা যায়নি৷ লোকজন দোকানে ভীড় করে পছন্দের পোশাক, উপহার ও খাদ্যসামগ্রী কেনা শুরু করে৷

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে ভীড়ের মধ্যে কেনাকাটা করতে যাওয়া চার সন্তানের মা ইশরাত জাহান বলেন, ‘‘দুই মাসের বেশি সময় ধরে আমার বাচ্চারা ঘরবন্দি হয়ে আছে৷ ঈদ তো বাচ্চাদের জন্যই৷ আর তারা যদি নতুন পোশাক পরে ঈদ উদযাপন করতে না পারে তবে সারা বছর ধরে আমাদের এত পরিশ্রমের তো কোনো মানেই থাকে না৷''

পাকিস্তানে ফেব্রুয়ারিতে প্রথম করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়৷ ভাইরাসের বিস্তার রোধে দেশজুড়ে ব্যবস্থা গ্রহণে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে মতভেদ আছে৷

অর্থনীতি বাঁচাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমরান খান কঠোর লকডাউন আরোপে রাজি নন৷ তাই শুরুতে কিছুটা কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও ঈদ সামনে রেখে তা শিথিল করা হয়৷

দেশটিতে গণপরবিহন ও ব্যবসা-বাণিজ্য খুলে দেওয়া হয়েছে৷ লাহোরে একটি বাজারে কেনাকাটা করতে যাওয়া সানা আহমেদ বলেন, ‘‘লকডাউনের কারণে অনেক কিছু কিনতে পারিনি৷ ঈদের পর আবার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাবে৷ তাই এখন আমাকে বাজার করতেই হচ্ছে৷ আমরা সারা জীবনের জন্য বন্দি থাকতে পারবো না,জীবন চালাতে হবে৷’’

এরকম আরো ‍অনেকেই ভীড়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিকে উপেক্ষা করে বাজার করেছেন৷ তবে ব্যবসায়ীরা বলেন, বাজারে ক্রেতা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক কম৷

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বাস ইন্দোনেশিয়ায়৷ সেখানেও চলছে ঈদ উৎসব৷ পশ্চিম জাভা প্রদেশের একটি বাজারে আসা সিতি নেসিয়া বলেন, ‘‘আমি আতঙ্কে আছি৷ কিন্তু তারপরও বাইরে এসেছি, ঈদে আমার নতুন পোশাক চাইই চাই৷’’

মালয়েশিয়াতেও একই অবস্থা৷ তবে রাজধানী কুয়ালালামপুরের এক বিক্রেতা বলেন, ‘‘এ বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন৷ লোকজন বাইরে আসতে ভয় পাচ্ছে৷ ভবিষ্যতের চিন্তা করে অনেকে অর্থ বাঁচাতেও এবার কেনাকাটা করছেন না৷''

বাংলাদেশেও গত ১০ মে থেকে স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি মেনে চলার শর্তে দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়৷ রাজধানীতে বড় বড় কয়েকটি শপিংমল এবং বাজার ক্রেতা না পাওয়ার আশঙ্কায় দোকান খোলেনি৷

তবে দেশজুড়ে জেলা শহরগুলোতে দোকানে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে৷ সরকার কেনাকাটার সময় শিশুদের সঙ্গে না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও পছন্দমতো পোশাক কিনে দিতে অভিভাবকরা সে নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করেননি৷

এসএনএল/এসিবি (এএফপি) 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন