ইয়েমেনে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু, প্রতিদিন শত শত মায়ের কান্না | বিশ্ব | DW | 17.11.2017

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইয়েমেন

ইয়েমেনে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু, প্রতিদিন শত শত মায়ের কান্না

শিশুমৃত্যুর ভয়াবহ এক মিছিল চলছে ইয়েমেনে৷ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সেভ দ্য চিলড্রেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি৷ হিসেব বলছে, এ বছরের শেষ নাগাদ আরব দেশটিতে শিশুমৃত্যু ৫০ হাজার ছাড়াবে৷

২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনে চলছে রাজনৈতিক অচলাবস্থা৷ চলছে যুদ্ধ৷ হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পরই দেশটির ওপর সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট৷ তারপর থেকে ধীরে ধীরে সংকট ঘণীভূত হতে হতে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সম্প্রতি জাতিসংঘ এবং ২০টিরও বেশি মানবাধিকার সংগঠন সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের প্রতি ইয়েমেনের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও ভূমি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, অবরোধ চলতে থাকলে কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহতম দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হবে ইয়েমেন৷ দুর্ভিক্ষের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয় ওই বিবৃতিতে৷ 

মৃত্যুর মিছিল অবশ্য আগে থেকেই চলছে৷ গত মাসে জাতিসংঘ জানায়, ২০১৬ সালে যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনে নিহত হয়েছে ১,৩৪০ জন শিশু৷ এ জন্য সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে কালো তালিকাভুক্তও করা হয়৷ 

চলতি বছর, অর্থাৎ ২০১৭ সালের পরিস্থিতি তার চেয়েও ভয়ংকর৷ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক শিশু সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খাদ্য সংকটের কারণে দেখা দেয়া নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ইয়েমেনে প্রতি দিন গড়ে  ১৩০ জন শিশু মারা যাচ্ছে৷ মৃত্যুর এ হার বজায় থাকলে বছর শেষে এক বছরে মৃত শিশুর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়াবে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়৷ ইয়েমেনে এ বছর ইতিমধ্যেই ৪০ হাজারেরও বেশি শিশু মারা গেছে৷ ফলে অবরোধ প্রত্যাহার না করা হলে বাকি প্রায় দেড় মাসে আরো ১০ হাজার শিশুর মৃত্যু অনিবার্য বলেই মনে করছে সেভ দ্য চিলড্রেন৷

সেভ দ্য চিলড্রেন-এর ইয়েমেন কার্যালয়ের পরিচালক তামের কিরোলোস বলেছেন, ‘‘এই মৃত্যুগুলো খুব বেশি দুঃখজনক, কেননা, চাইলেই এগুলো এড়ানো যায়৷ প্রতিদিন নিজের সন্তানের মৃত্যুর কারণে অন্তত একশ' জন মায়ের আহাজারি শুনছি আমরা৷ এটা ভীষণ হতাশার৷''

সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেও সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট তাতে কর্ণপাত করেনি৷ বরং গত ৬ নভেম্বর হুতি বিদ্রোহীরা রিয়াদের কাছে মিসাইল নিক্ষেপ করার পর অবরোধ আরো কঠোর করা হয়৷

বৃহস্পতিবার যৌথ বিবৃতিতে সৌদি আরবের প্রতি অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও), ইউনিসেফ এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি) বলেছে, ‘‘(সামরিক) জোটের প্রতি আমরা আবার জীবনরক্ষাকারী সামগ্রী প্রবেশের সুযোগ দেয়ার জন্য জরুরি আহ্বান জানাচ্ছি৷ এসব পৌঁছাতে না পারলে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ মারা যাবে, যাদের অধিকাংশই শিশু৷''

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বানে সাড়া না দেয়ায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস হতাশ৷ তাঁকে উদ্ধৃত করে মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিচ বলেছেন, ‘‘এই সংকট মানবসৃষ্ট৷ এটা বড় বোকা বোকা যুদ্ধ৷ ''

এসিবি/ডিজি (এএফি, দ্য টেলিগ্রাফ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন