ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষের হুমকিতে ৫০ লাখ শিশু | বিশ্ব | DW | 19.09.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষের হুমকিতে ৫০ লাখ শিশু

প্রায় তিন বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে ইয়েমেনের ৫০ লাখেরও বেশি শিশু দুর্ভিক্ষের হুমকিতে রয়েছে বলে তথ্য সেভ দ্য চিলড্রেনের৷ বন্দর শহর হোদাইদাতে আক্রমণে খাদ্য, জ্বালানি ও ত্রাণ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে৷

এক প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই দাতব্য সংস্থা বলছে, হোদাইদার মধ্য দিয়ে আসা সরবরাহ ব্যাহত হলে ‘অনাহারের মাত্রা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে যাবে৷'

সৌদি-সমর্থিত আক্রমণে লোহিত সাগরের পাড়ে অবস্থিত শহরটির বন্দর যে-কোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে৷ সেভ দ্য চিলড্রেন ইয়েমেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর তামের কিরোলোস বলছেন, ‘‘সরবরাহ সামান্য মাত্রায় ব্যাহত হলেও এরই মধ্যে অপুষ্টিতে ভোগা লাখ লাখ শিশু মৃত্যুর হুমকিতে পড়তে পারে৷''

দেশটিতে পাঠানো খাদ্য, জ্বালানি ও মানবিক সহায়তার ৮০ শতাংশই আসে ২০১৪ সাল থেকে হুতি বিদ্রোহীদের দখলে থাকা হোদাইদা দিয়ে৷ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্য ও পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এরই মধ্যে দেশজুড়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার দুই মাস পর সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে নতুন করে হোদাইদায় যৌথ হামলা শুরু করে ইয়েমেন সেনাবাহিনী, সরকারপন্থি মিলিশিয়া এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট৷

জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়েছে, ছয় লাখ বাসিন্দার এই শহরে আক্রমণ করা হলে দেশজুড়ে অন্তত ৮০ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে পড়বে৷

নেই কান্নার শক্তিও

সেভ দ্য চিল্ড্রেন ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী বলছেন, ‘‘পরবর্তী খাবার কখন পাওয়া যাবে তা নিয়ে সবসময়ই অনিশ্চয়তায় থাকে দেশটির লাখ লাখ শিশু৷ আমি একটি হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়েছিলাম, যেখানে  শিশুরা ক্ষুধায় এত দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে, তাঁরা কাঁদতেও পারছিল না৷''

তিনি বলেন, ‘‘এই যুদ্ধ ইয়েমেনের একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে৷ তাঁরা বোমা থেকে শুরু করে ক্ষুধা, এমনকি কলের মতো রোগের হুমকিতে দিন কাটাচ্ছে৷'' ইয়েমেন যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন, ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ হয়েছেন বাস্তুচ্যূত৷ আরো হাজার হাজার মানুষ মারা গেছেন অপুষ্টিতে ও রোগে ভুগে৷

২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা দেশটির উত্তরাঞ্চলের দখল নিয়ে নেয়, নিয়ন্ত্রণে আসে রাজধানী সানার কর্তৃত্বও৷ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদির সমর্থনে ২০১৫ সালে ইয়েমেন সংকটে হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরবের নেতৃত্বে আরব জোট৷

হোদাইদা বন্দর ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশ ইরান হুতি বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ সৌদি আরবের৷ তবে ইরান এবং হুতি বিদ্রোহীরা এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে৷

যুদ্ধরত দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো৷ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে অস্ত্র বিক্রি করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে বিভিন্ন পশ্চিমা রাষ্ট্রের সরকার৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও জেট বিমানে জ্বালানি সরবরাহ করে আসছে৷ এসব তথ্য ব্যবহার করেইয়েমেনের বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালাচ্ছে সৌদি আরব, উঠেছে এমন অভিযোগও৷

এডিকে/এসিবি (এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন