ইয়ামিনের গল্পের আলো-আঁধার | আলাপ | DW | 18.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

ইয়ামিনের গল্পের আলো-আঁধার

ইন্টারনেটের সৌজন্যে মাদ্রাসাছাত্র ইয়ামিনের স্বপ্ন পূরণের গল্প এখন ভেসে বেড়াচ্ছে সর্বত্র৷ কিন্তু এমন হাজারো ইয়ামিনের স্বপ্ন যে থেকে যায় আড়ালে, সে খবর কে রেখেছেন কবে!

মুশফিকের সঙ্গে ইয়ামিন

মুশফিকের সঙ্গে ইয়ামিন

শেখ মোহাম্মদ ইয়ামিন৷ ১১ বছর বয়সি ছোট্ট শিশু৷ পড়াশোনা করেন মাদ্রাসায়৷ সেখানে খেলাধুলার সুযোগটাই হয়তো পান না তেমন, কিন্তু ক্রিকেটের জন্য যে বুকে উথালপাথাল ভালোবাসা! আর সন্তানের জন্য মায়ের ভালোবাসা তো সীমাহীন৷ ইয়ামিনের মা ঝর্না আক্তার তাই ছেলেকে নিয়ে ছোটেন পল্টন ময়দানে৷ ভর্তি করিয়ে দেন এক ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে৷ দিনকয়েক আগের এক সকালে অন্য সবার আগে মাঠে পৌঁছে যান দুজন৷ ছোট্ট ইয়ামিন তখন খেলবে কার সাথে? পাঞ্জাবি-পাজামা পরা ছেলের খেলার সঙ্গী হয়ে যান বোরখায় আবৃত মা৷ প্রথাগত এই ইসলাম ধর্মীয় পোশাক তাঁদের বাধা হয় না৷

মুহূর্তে এ ছবি ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে৷ তৈরি হতে থাকে খবরের পর খবর৷ তাতে ইয়ামিন জানায়, তার ক্রিকেটার হবার স্বপ্নের কথা৷ স্বপ্নের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের কথা৷ জানতে পেরে বাংলাদেশের এই ব্যাটসম্যান উদ্যোগ নিয়ে দেখা করেন মা-ছেলের সঙ্গে৷ খুদে ভক্তকে উপহার দেন নিজের জার্সি, গ্লাভস, রেপ্লিকা ব্যাট৷ প্রিয় ক্রিকেটারকে এত কাছ থেকে দেখে, তাঁর সঙ্গে কথা বলে, উপহার পেয়ে ইয়ামিনের খুশি দেখে কে!

কিন্তু এই ইয়ামিনের মতো বাংলাদেশের যে মাদ্রাসাপড়ুয়ারা খেলোয়াড় হবার স্বপ্ন দেখে অথবা নিদেনপক্ষে বিনোদনের জন্যই খেলাধুলা করতে চায়, সেটি কি নিশ্চিত করতে পেরেছে রাষ্ট্র?

এমনিতেই অদ্ভুত এক শিক্ষাব্যবস্থা এ দেশে৷ বাংলা মিডিয়াম, ইংলিশ মিডিয়াম, মাদ্রাসা মিলিয়ে জগাখিচুড়ি৷ প্রথম দুটো ধারার শিক্ষার্থীদের মনোবিকাশের জন্য তা-ও কিছুটা বিনোদনের ব্যবস্থা বিদ্যমান৷ খেলার মাঠ আছে, গান-নাচ-আবৃত্তির সাংস্কৃতিক ধারাটি ক্ষীণ হলেও প্রবাহমান৷ কিন্তু মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য তা বড্ড অপ্রতুল৷ বাংলাদেশের খেলাধুলায় শীর্ষ পর্যায়ের অ্যাথলেটদের মধ্যে মাদ্রাসা থেকে উঠে আসা কাউকে খুঁজে পাওয়া তাই খুব কঠিন৷

ইয়ামিনের গল্প চোখে আঙুল দিয়ে আমাদের চোখ খুলে দিতে পারে৷ এ উপলব্ধি আসা প্রয়োজন যে, মাদ্রাসার পড়াশোনা করা শিশু-কিশোরদের জন্য খেলাধূলার পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করা দরকার৷ যেন তাদের শৈশব-কৈশোরকাল আরো রঙিন হয়৷ মনোবিকাশ হয় যথাযথ৷ তাতে শেষ পর্যন্ত লাভ তো বাংলাদেশেরই৷ অন্য সব বাদ দিয়ে শুধু খেলাধূলার জায়গাটিই দেখুন না! মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কত কত ক্রীড়াপ্রতিভা লুকিয়ে আছে, সেটি তো আমরা কেউ জানিই না৷ কারণ, প্রতিভা প্রকাশের সুযোগটাই পাচ্ছেন না তাঁরা৷ বাংলা মিডিয়াম, ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে না কেন? এটি তো তাদের অধিকার৷

আর জনসংখ্যার বিশাল এই অংশকে যদি খেলাধূলায় সম্পৃক্ত করা যায়, তাহলে দেশের খেলাধুলার সামগ্রিক মানের উন্নতি হতে বাধ্য৷ ফুটবল আর ক্রিকেটের উদাহরণেই ব্যাপারটি আরো স্পষ্ট হতে পারে৷

Noman Mohammad

নোমান মোহাম্মদ, ক্রীড়া সাংবাদিক

একটা সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ছিল ফুটবল৷ শিশু-কিশোরদের বিনোদনের মূল মাধ্যম ছোট্ট গোল বস্তুটি৷ তা সেটি চামড়ায় তৈরি হোক কিংবা জাম্বুরা৷ এত এতজন ফুটবলের সঙ্গে থাকার কারণেই ভালো ফুটবলার উঠে আসতো অনেক৷ দুই যুগ আগের যে সময়ের কথা বলছি, ক্রিকেট তখনো মূলত অভিজাতদের খেলা৷ উচ্চবিত্তের খেলা৷ ১৯৯৭ আইসিসি ট্রফি জয়ের পর তা হয়ে ওঠে বাংলাদেশের গণমানুষের খেলা৷ শিশু-কিশোররা মেতে ওঠে ব্যাট-বল নিয়ে৷ সেটি যে নামী ব্র্যান্ডের কাঠের তৈরি হতে হবে, তা নয়৷ গাছের ডাল ভেঙে ব্যাট তৈরি করে খেলার উদাহরণ এখনো দেশের গ্রামে-গঞ্জে ভুরি ভুরি৷ আর সবাই যখন ক্রিকেটার হতে চায়, তখন শীর্ষ পর্যায়ে খেলার মতো খেলোয়াড়ের অভাব এখন আর হচ্ছে না৷

ঠিক তেমনিভাবে মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা চর্চা নিশ্চিত করা গেলে সব খেলাতেই আরো অনেক অনেক খেলোয়াড় পাবে বাংলাদেশ৷ নিশ্চতভাবেই৷

আবার ইয়ামিনের গল্পে আলোর নীচে অন্ধকারও আছে৷ তার ভাইরাল হওয়া ছবিটি চোখ বন্ধ রাখার ‘সুযোগ’ হিসেবেও দেখতে চাইবেন অনেকে৷ বলবেন হয়তো, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা তো খেলাধুলা করছে ঠিকই৷ ওদের জন্য আলাদা ব্যবস্থার প্রয়োজন কী!

ইয়ামিনের গল্পে বাংলাদেশ আলো খুঁজবে নাকি অন্ধকার- সেটি সময়ই বলে দেবে৷

গতবছর জুনের ছবিঘরটি দেখুন...

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন