ইসির শর্ত শিথিলে ‘নারীরা পিছিয়ে পড়বে’ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 20.06.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ইসির শর্ত শিথিলে ‘নারীরা পিছিয়ে পড়বে’

খসড়া আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর সব স্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব পূরণের শর্ত আর থাকছে না৷ নির্বাচন কমিশনের এই ধরনের সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নারী নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা৷

সংগঠনের সব পর্যায়ে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ ভাগ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করার শর্তে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে ২০০৮ সালে নিবন্ধন পেয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলো৷ কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি৷ ফলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০ অনুচ্ছেদটি তুলে দিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক দলের জন্য নিবন্ধন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন৷ এরইমধ্যে আইনের খসড়া ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে৷

নারী নেত্রী খুশি কবির ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে নারীরা যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এই ধরনের সিদ্ধান্ত নারীদের আবার পিছিয়ে দেওয়ার সামিল৷ ৫০ জন সংরক্ষিত নারী ছাড়াও ২০ জন নারী সরাসরি ভোটে এবার নির্বাচিত হয়ে এসেছেন৷ আমরা দেখেছি, যেখানে নারীদের সরাসরি ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সেখানে নারীরা ভালো করেছেন৷ এখনো সংসদীয় কমিটিগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণ কম৷ আরপিও'র বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হলে এই সব জায়গায় নারীদের অংশগ্রহণ আরো কমে যাবে৷ তখন বলা হবে, নারীদের যোগ্যতা নেই তাই তারা এখানে আসতে পারছেন না৷ এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের নারীরা আবারও সেই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীতে পরিণত হবে৷ একটা কথা মনে রাখতে হবে, দেশে কিন্তু ৫১ শতাংশ ভোটার নারী৷ তাদের প্রতিনিধিত্ব ছাড়া দেশ এগুবে না৷’’

অডিও শুনুন 04:23

‘তাদের প্রতিনিধিত্ব ছাড়া দেশ এগুবে না’

কেন এই আইন পরিবর্তন করা হচ্ছে, সেটার ব্যাখা দিয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন এখনো এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেনি৷ এটা সবার মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে৷ মতামত পাওয়ার পরই চূড়ান্ত করা হবে৷ এই কাজটা নির্বাচন কমিশন নিজেরা করেনি৷ রাজনৈতিক দল থেকেই বলা হয়েছে, তাদের মূল দলের পাশাপাশি সহযোগী নারী সংগঠনও আছে৷ সেগুলোর নেতৃত্বে নারীরাই আছেন৷ এছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডেলিগেটদের ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়৷ এখন যদি ডেলিগেটরা নারীদের নির্বাচিত না করে তাহলে কি হবে? ২০০৮ সালে যখন আরপিও করা হয় তখন তাড়াহুড়ো করে এটা করা হয়েছিল৷ ফলে এমন অনেক কিছুই করা হয়েছিল, যা আসলে বাস্তব সম্মত নয়৷ এই কারণেই এটা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷’’

২০০৮ সালে নিবন্ধনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোতে সর্বোচ্চ নারী নেতৃত্বের হার ছিল শতকরা ১০ ভাগ৷ আরপিওতে ১২ বছরে অর্থাৎ ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব বাধ্যতামূলক করা হয়৷ কিন্তু ১২ বছর পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি৷

২০০৮ সালে আরপিও তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘এটা খুবই খারাপ কাজ হবে৷ তারা তো ভালো কাজগুলো এক এক করে শেষ করে দিচ্ছে৷ তখন আমরা সবগুলো রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, নারী নেতৃত্বসহ সবার সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেই এটা চূড়ান্ত করেছিলাম৷ ১৬টি ইসলামিক দল তো এটা মানতেই চায়নি৷ এমনকি বড় রাজনৈতিক দলগুলোও মানতে চায়নি৷ তাদের আমরা রাজি করিয়েই এটা চূড়ান্ত করেছিলাম৷ ২০২০ সালে যদি এটা বাস্তবায়ন করা না যায় তাহলে সময় বাড়িয়ে ২০২৫ বা ২০৩০ সাল করা হোক৷ কিন্তু এটা প্রত্যাহার করা হলে নারীরা অবশ্যই পিছিয়ে পড়বে৷ শুধু চাকুরিতে বেশি করে নারীরা যুক্ত হলেই নারীর ক্ষমতায়ন হয় না৷ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে৷ এটা প্রত্যাহার হলে নারীদের সেই সুযোগের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে বলেই আমি মনে করি৷’’

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কমিটিতে ২৬ শতাংশ নারী সদস্য রয়েছেন৷ বিএনপির সব পর্যায়ের কমিটিতে ১৫ শতাংশ নারী সদস্য রয়েছেন৷ সেই তুলনায় এগিয়ে থাকা জাতীয় পার্টি-জাপার সব স্তরের কমিটিতে ২০ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে জানানো হয়েছে৷ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে নারী নেতৃত্বের হার আরও অনেক কম৷ যদিও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একমাত্র গণফ্রন্ট দাবি করেছে, দলটির সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রয়েছেন৷

অডিও শুনুন 02:42

‘মতামত পাওয়ার পরই চূড়ান্ত করা হবে’

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি মনে করি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নারীদের পিছিয়ে দেওয়ার সামিল৷ আমার দল যেখানে নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে৷ আমাদের দলে দিন দিন নারী নেতৃত্ব বাড়ছে৷ আমরা অবশ্যই দলীয় ফোরামে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব৷ নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে এটা কোনভাবেই করা উচিত হবে না৷ এটা খারাপ দৃষ্টান্ত হবে৷’’

বিএনপির এই সাংসদের সঙ্গে অনেকটাই একমত ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদিকা অপু উকিল৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্বের যে বাধ্যবাধকতা আছে সেটা বাদ দেওয়া একেবারেই ঠিক হবে না৷ রাজনৈতিক দলগুলো যদি ২০২০ সালের মধ্যে এটা পূরণ করতে না পারে তাহলে সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেওয়া হোক৷ কিন্তু আইনের মধ্যে বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে৷ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করেন৷ তিনি দলের মধ্যে নারী নেতৃত্ব ২৫ শতাংশে নিয়ে এসেছেন৷ আর কিছুদিন সময় পেলে অবশ্যই এটা ৩৩ শতাংশে উন্নীত হবে৷’’

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটার এখনো কিছুই হয়নি৷ একজন কমিশনার প্রস্তাব করেছেন৷ তার ভিত্তিতে কমিশনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে৷ আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এখানে সর্বস্তরের মানুষ মতামত দিতে পারবেন৷ দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় যদি নির্ধারিত তারিখের মধ্যে খুব বেশি মতামত না পড়ে তাহলে সময় বাড়ানোর কথাও চিন্তা করতে পারে কমিশন৷ সবার মতামতের ভিত্তিতেই কমিশন এটা চূড়ান্ত করবে৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন