ইসলাম অবমাননার অভিযোগ: স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা? | বিশ্ব | DW | 10.04.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ইসলাম অবমাননার অভিযোগ: স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা?

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে একটি ঘটনায় ধর্ম ও বিজ্ঞানের দ্বন্দ্ব সামনে এসেছে৷ পাশাপাশি ধর্ম নিয়ে বাড়ছে অসহিষ্ণুতা৷ এ বিষয়ে কী ভাবছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা? বিজ্ঞানীরাই বা কী বলছেন?

Bangladesch | Lehrer Hridoy Mandal in Munshiganj

গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল জামিনে মুক্তি পেয়েছেন

আসলেই ধর্ম আর বিজ্ঞান কি সাংঘর্ষিক? এ বিষয়ে জানতে ডয়চে ভেলের কথা বলেছে দুই জন ইসলামি চিন্তাবিদ এবং দুই বিজ্ঞানীর সঙ্গে৷   

বিজ্ঞান চর্চা করতে গিয়ে বা পড়াতে গিয়ে কখনও কি মনে হয়েছে ধর্ম আর বিজ্ঞান সাংঘর্ষিক? জবাবে ইউজিসি অধ্যাপক ড. হাসিনা খান বলেন, ‘‘আমি কোন দিনই সে সমস্যা পাইনি, একেবারেই না৷ কোন রকম বিরোধ আমি দেখিনি এবং সে কথাটাই আমি প্রচার করি আমার ক্লাসে৷ আমি যে বিষয়টা পড়াই তার মধ্যে এ বিষয়টা টেনে আমি এটাই বোঝানোর চেষ্টা করি যে, এর মধ্যে কোন বিরোধ নেই৷

‘ধর্ম কখনও বিজ্ঞানের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা করেনি’

এই যে বিজ্ঞানকে ধর্মের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয় এটা কেনো? এর জবাবে ড. খান বলেন, ‘‘এটা কারও স্বার্থে করা হয়৷ নিজের কোন এজেন্ডা বা কিছু পাওয়ার জন্য এটা করে বলে আমার আগাগোড়া মনে হয়েছে৷ ধর্মকে এর মধ্যে নিয়ে আসার কোন কারণ নেই৷ ধর্ম কখনও বিজ্ঞানের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা করেনি৷ বিজ্ঞান প্রমাণিত৷ আমি অনেক অনেক প্রমাণ দিয়ে ক্লাসে পড়াই ৷''

ধর্ম আর বিজ্ঞানের মধ্যে কোন সম্পর্ক বা দ্বন্দ্ব আছে কি-না? জানতে চাইলে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীর পরিচালক মাওলানা আনিসুজ্জামান সিকদার বলেন, ‘‘না, প্রশ্নই আসে না৷ কোন দ্বন্দ্ব নেই৷ যদি কোন দ্বন্দ্ব থাকে সেটা হল আমাদের অজ্ঞানতা৷ আমাদের বুঝতে না পারার কারণে দ্বন্দ্ব৷ এটা আমাদের বোঝার ভুল৷ আল্লাহ কোরআনকে বলেছেন বিজ্ঞানময় কোরআন৷ পরতে পরতে আল্লাহ বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেছেন৷ দিন থেকে রাত আর আসমান থেকে জমিন এর মধ্যে আল্লাহ জ্ঞানী লোকের জন্য অনেক উপকরণ রেখেছেন৷ আপনি যদি সৃষ্টিজগৎকে না চেনেন তাহলে তো আপনি স্রষ্টাকে তো চিনবেন না৷''

’আল্লাহ কোরআনকে বলেছেন বিজ্ঞানময় কোরআন’

ধর্ম ও বিজ্ঞানের দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. আ. ব. ম. ফারুক বলেন, ‘‘ ধর্ম হল মানুষের নিজস্ব বিশ্বাসের বিষয়৷ বিজ্ঞানে অভিরুচির কোন বিষয় না৷ এখানে যেটা সত্য সেটাই বলতে হবে৷ একজন একটা ওষুধ আবিষ্কার করেছেন এটা সত্য কথা৷ সৃষ্টিকর্তা মানুষকে অসুখ যেমন দেন, অসুখের চিকিৎসাও দেন৷ আমার দায়িত্ব হল চিকিৎসা খুঁজে বের করা৷ এই বের করতে গেলে তো বিজ্ঞানকে লাগবে৷ সব ধর্মই বলছে, জ্ঞান অন্বেষণ করো৷ ইসলাম তো বলছে, জ্ঞান অন্বেষণ করতে সুদূর চীন দেশেও যাও৷ তখনকার সময়ে আরব দেশ থেকে চীনে যাওয়া খুবই কষ্টকর ছিল৷ সুতারাং জ্ঞান অন্বেষণ হল এতটাই জরুরি৷'‘

ধর্ম আর বিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান নিজামী বলেন, ‘‘আরও আলোচনা করে, পড়াশোনা করে আগাতে হবে৷ তাহলে সব বিরোধ থেকে আমরা একটা গ্রহণযোগ্য অবস্থানে পৌঁছতে পারবো৷''

‘ইসলাম তো বলছে, জ্ঞান অন্বেষণ করতে সুদূর চীন দেশেও যাও’

এই যে এক একটি ঘটনায় ইসলাম অবমাননা হয়েছে বলে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়, শাস্তি চাওয়া হয় এ ব্যাপারে আপনার মত কি? এ প্রসঙ্গে মাওলানা সিকদার বলেন, ‘‘অভিযোগগুলো নিয়ে যদি আপনি বিচার করেন তাহলে দেখবেন কিছু স্বার্থান্বেষী লোক তাদের স্বার্থকে চরিতার্থ করার জন্য এটা করেন৷ ভারতবর্ষে এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে বসবাস করে৷ এর মধ্যে আগের ৭০০ বছরে তো কোন বিরোধ ছিল না৷ বৃটিশরা যখন এখানে এল তখন হিন্দু-মুসলমান দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করে দিল৷ তখনই শুরু হল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা৷ নিজেদের কর্তৃত্ব রাখার জন্য তারা এটা করেছে৷  বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ পৃথিবীতে বিরল৷ এখানে যে দু'একটা ঘটনা ঘটছে, সেটা একটা স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের হীন স্বার্থে ভাইতে ভাইতে গোলমাল লাগিয়ে দিচ্ছে৷''

কুমিল্লার ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে তো প্রমাণ হলো, একটা স্বার্থান্বেষী মহল তাদের স্বার্থকে চরিতার্থ করার জন্য এই কারবার করেছে৷

মাওলানা সিকদার আরও বলেন, ‘‘আপনি যদি কাউকে জাহান্নামী বলেন, এটা বলা যাবে না৷ কে জান্নাতে যাবে আর কে জাহান্নামে যাবে এটা আল্লাহ'র ইচ্ছা৷ তিনি যাকে চান তাকে জান্নাতে নেবেন৷''

সংশ্লিষ্ট বিষয়