1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
Bangladesch | Lehrer Hridoy Mandal in Munshiganj
গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল জামিনে মুক্তি পেয়েছেনছবি: bdnews24.com

স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা?

সমীর কুমার দে ঢাকা
১০ এপ্রিল ২০২২

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে একটি ঘটনায় ধর্ম ও বিজ্ঞানের দ্বন্দ্ব সামনে এসেছে৷ পাশাপাশি ধর্ম নিয়ে বাড়ছে অসহিষ্ণুতা৷ এ বিষয়ে কী ভাবছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা? বিজ্ঞানীরাই বা কী বলছেন?

https://www.dw.com/bn/%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B7%E0%A7%80-%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE/a-61425131

আসলেই ধর্ম আর বিজ্ঞান কি সাংঘর্ষিক? এ বিষয়ে জানতে ডয়চে ভেলের কথা বলেছে দুই জন ইসলামি চিন্তাবিদ এবং দুই বিজ্ঞানীর সঙ্গে৷   

বিজ্ঞান চর্চা করতে গিয়ে বা পড়াতে গিয়ে কখনও কি মনে হয়েছে ধর্ম আর বিজ্ঞান সাংঘর্ষিক? জবাবে ইউজিসি অধ্যাপক ড. হাসিনা খান বলেন, ‘‘আমি কোন দিনই সে সমস্যা পাইনি, একেবারেই না৷ কোন রকম বিরোধ আমি দেখিনি এবং সে কথাটাই আমি প্রচার করি আমার ক্লাসে৷ আমি যে বিষয়টা পড়াই তার মধ্যে এ বিষয়টা টেনে আমি এটাই বোঝানোর চেষ্টা করি যে, এর মধ্যে কোন বিরোধ নেই৷

‘ধর্ম কখনও বিজ্ঞানের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা করেনি’

এই যে বিজ্ঞানকে ধর্মের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয় এটা কেনো? এর জবাবে ড. খান বলেন, ‘‘এটা কারও স্বার্থে করা হয়৷ নিজের কোন এজেন্ডা বা কিছু পাওয়ার জন্য এটা করে বলে আমার আগাগোড়া মনে হয়েছে৷ ধর্মকে এর মধ্যে নিয়ে আসার কোন কারণ নেই৷ ধর্ম কখনও বিজ্ঞানের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা করেনি৷ বিজ্ঞান প্রমাণিত৷ আমি অনেক অনেক প্রমাণ দিয়ে ক্লাসে পড়াই ৷''

ধর্ম আর বিজ্ঞানের মধ্যে কোন সম্পর্ক বা দ্বন্দ্ব আছে কি-না? জানতে চাইলে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীর পরিচালক মাওলানা আনিসুজ্জামান সিকদার বলেন, ‘‘না, প্রশ্নই আসে না৷ কোন দ্বন্দ্ব নেই৷ যদি কোন দ্বন্দ্ব থাকে সেটা হল আমাদের অজ্ঞানতা৷ আমাদের বুঝতে না পারার কারণে দ্বন্দ্ব৷ এটা আমাদের বোঝার ভুল৷ আল্লাহ কোরআনকে বলেছেন বিজ্ঞানময় কোরআন৷ পরতে পরতে আল্লাহ বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেছেন৷ দিন থেকে রাত আর আসমান থেকে জমিন এর মধ্যে আল্লাহ জ্ঞানী লোকের জন্য অনেক উপকরণ রেখেছেন৷ আপনি যদি সৃষ্টিজগৎকে না চেনেন তাহলে তো আপনি স্রষ্টাকে তো চিনবেন না৷''

’আল্লাহ কোরআনকে বলেছেন বিজ্ঞানময় কোরআন’

ধর্ম ও বিজ্ঞানের দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. আ. ব. ম. ফারুক বলেন, ‘‘ ধর্ম হল মানুষের নিজস্ব বিশ্বাসের বিষয়৷ বিজ্ঞানে অভিরুচির কোন বিষয় না৷ এখানে যেটা সত্য সেটাই বলতে হবে৷ একজন একটা ওষুধ আবিষ্কার করেছেন এটা সত্য কথা৷ সৃষ্টিকর্তা মানুষকে অসুখ যেমন দেন, অসুখের চিকিৎসাও দেন৷ আমার দায়িত্ব হল চিকিৎসা খুঁজে বের করা৷ এই বের করতে গেলে তো বিজ্ঞানকে লাগবে৷ সব ধর্মই বলছে, জ্ঞান অন্বেষণ করো৷ ইসলাম তো বলছে, জ্ঞান অন্বেষণ করতে সুদূর চীন দেশেও যাও৷ তখনকার সময়ে আরব দেশ থেকে চীনে যাওয়া খুবই কষ্টকর ছিল৷ সুতারাং জ্ঞান অন্বেষণ হল এতটাই জরুরি৷'‘

ধর্ম আর বিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান নিজামী বলেন, ‘‘আরও আলোচনা করে, পড়াশোনা করে আগাতে হবে৷ তাহলে সব বিরোধ থেকে আমরা একটা গ্রহণযোগ্য অবস্থানে পৌঁছতে পারবো৷''

‘ইসলাম তো বলছে, জ্ঞান অন্বেষণ করতে সুদূর চীন দেশেও যাও’

এই যে এক একটি ঘটনায় ইসলাম অবমাননা হয়েছে বলে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়, শাস্তি চাওয়া হয় এ ব্যাপারে আপনার মত কি? এ প্রসঙ্গে মাওলানা সিকদার বলেন, ‘‘অভিযোগগুলো নিয়ে যদি আপনি বিচার করেন তাহলে দেখবেন কিছু স্বার্থান্বেষী লোক তাদের স্বার্থকে চরিতার্থ করার জন্য এটা করেন৷ ভারতবর্ষে এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে বসবাস করে৷ এর মধ্যে আগের ৭০০ বছরে তো কোন বিরোধ ছিল না৷ বৃটিশরা যখন এখানে এল তখন হিন্দু-মুসলমান দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করে দিল৷ তখনই শুরু হল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা৷ নিজেদের কর্তৃত্ব রাখার জন্য তারা এটা করেছে৷  বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ পৃথিবীতে বিরল৷ এখানে যে দু'একটা ঘটনা ঘটছে, সেটা একটা স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের হীন স্বার্থে ভাইতে ভাইতে গোলমাল লাগিয়ে দিচ্ছে৷''

কুমিল্লার ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে তো প্রমাণ হলো, একটা স্বার্থান্বেষী মহল তাদের স্বার্থকে চরিতার্থ করার জন্য এই কারবার করেছে৷

মাওলানা সিকদার আরও বলেন, ‘‘আপনি যদি কাউকে জাহান্নামী বলেন, এটা বলা যাবে না৷ কে জান্নাতে যাবে আর কে জাহান্নামে যাবে এটা আল্লাহ'র ইচ্ছা৷ তিনি যাকে চান তাকে জান্নাতে নেবেন৷''

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

Bangladesch Demonstration auf Campus der Universität von Dhaka angegriffen

বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ছাত্রলীগের

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

প্রথম পাতায় যান