ইসলামিক স্টেট কি নির্মূল হলো? | বিশ্ব | DW | 30.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সিরিয়া

ইসলামিক স্টেট কি নির্মূল হলো?

প্রায় পাঁচ বছর যুদ্ধের পর গত সপ্তাহে সিরিয়ার বাঘুজে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর সর্বশেষ ঘাঁটিটি নির্মূল করে কুর্দি নেতৃত্বাধীন ‘সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স’ (এসডিএফ)৷

মার্কিন সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় প্রায় ৫২ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা পুনরুদ্ধার করে তাঁরা৷ কম মূল্য দিতে হয়নি এরজন্য৷ পাঁচ বছরের এ যুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার সহযোদ্ধাকে হারিয়েছে তারা, জানালেন এসডিএফ প্রধান মাসলোম কোবানি৷

আইএস এর সর্বশেষ ঘাঁটিটি দখলে নেয়ার পর বাঘুজের একটি ভবনের উপর হলুদ রঙের পতাকা উড়িয়ে বিজয় উদযাপন করেছে তারা৷ উদযাপন দেখে কিছুটা হলেও আঁচ করা গেছে এলাকাটি পুনরুদ্ধারের জন্য কতটা মরিয়া ছিল এসডিএফ৷

 

আর এর মধ্য দিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে সিরিয়াতে থাকা আইএস-এর সমাপ্তি ঘটলো বলে ধারণা করছেন বিশ্ব নেতারা৷ বাঘুজ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার বিষয়টিকে উদযাপন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আইএস-এর পুনরুত্থানের বিষয়ে সতর্ক থাকবে৷

তবে ঘোষণা দিয়ে আইএস উচ্ছেদের খবর প্রকাশিত হলেও, নির্মূল হলো কি জঙ্গিগোষ্ঠিটি? বিশেজ্ঞরা বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে আইএস-এর দখলে থাকা অংশগুলো পুনর্দখলের মধ্য দিয়ে তাদেরকে পিছু হটানো গেলেও যে-কোনো পরিস্থিতিতে নিজেদের আবারো জড়ো করার ও বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর বিষয়ে নজর রাখা জরুরি৷

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

বিশেষজ্ঞ ও সিরিয়ার স্থানীরা বলছেন, সিরিয়া থেকে আইএসকে হটানো গেলেও তাদের উপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়া উচিত হবে না৷ কেননা, এ জঙ্গি গোষ্ঠীটি যে-কোনো সুযোগে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে পারে৷

দ্যা সেঞ্চুরি ফাউন্ডেশনের ফেলো এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যারন লুন্ড বলেন, নিজেদের সংগঠিত করার জন্য আইএস-এর সদ্যস্যরা যে-কোনো সম্ভাব্য সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইবে৷

একই মত ব্যক্ত করেন, লন্ডনভিত্তিক রাজনৈতিক গবেষণা সংস্থা আইএইচএস মার্কিট-এর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক কলাম্ব স্ট্র্যাক৷ তাঁর মতে, জঙ্গিগোষ্ঠীটি ইতিমধ্যে ইরাক, সিরিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের সুন্নি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নিজেদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছে৷ আর এর মধ্য দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে পারে তারা, বলেন তিনি৷

এদিকে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়, ইরাক ও সিরিয়ার কিছু অঞ্চলে নিজেদের সংগঠিত করছে আইএস৷ আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে তারা আবারো প্রত্যাবর্তন করতে পারে বলে ধারণা করছে পেন্টাগন৷

যেভাবে সংগঠিত হতে পারে আইএস

গত কয়েক বছর ধরে সংগঠনটির চরিত্র বিশ্লেষণ করে এর সম্ভাব্য পুনরুত্থানের বিষয়টি ধারণা করা যেতে পারে৷ জঙ্গি গোষ্ঠীটি তাদের কার্যক্রম সিরিয়া ও ইরাক ভিত্তিক পরিচালনা করলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সংগঠনটিতে যোগ দিতে গেছে হাজারো যোদ্ধা৷ 

নিউইয়র্ক ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা দ্য সোফান সেন্টার বলছে, ২০১৫ সালের শেষ পর্যন্ত বিশ্বের ৮৫টি দেশ থেকে প্রায় ৩০ হাজার যোদ্ধা এ জঙ্গিগোষ্ঠীটিতে যোগদান করে৷ তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ১২০টি দেশ যেমন আফগানিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, টিউনিশিয়া থেকে প্রায় ৪০ হাজার যোদ্ধা যোগ দিয়েছে এই জঙ্গিগোষ্ঠীতে৷ যাদের অনেকেই নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন বা অন্য কোনো স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন৷

এদিকে সারাবিশ্ব থেকে অনুসারী সংগ্রহের ক্ষেত্রে আইএস-এর প্রধান লক্ষ ছিল তরুণরা৷ আর তাঁদের যোগাযোগের প্রধান উপায় ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম৷

সিরিয়া কিংবা ইরাক থেকে তাদের স্থাপনা উচ্ছেদ করে দেয়া গেলেও বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আবারো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে৷ আর এ বিষয়টি মাথায় রেখেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট খুব সতর্ক করেন তরুণদের৷ তিনি বলেন, তরুণরা খুব সহজেই আইএস-এর প্রলোভনের শিকার হতে পারে৷ ইন্টারনেট ব্যবহার করা তরুণরা যদি আইএস-এর প্রপাগান্ডায় বিশ্বাস করে তাহলে তারা মৃত্যু মুখে পতিত হবে, বলেন তিনি৷

বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া আইএস সদস্যরা ওই অঞ্চল সমূহের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করে আল-জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াটার লু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বেসমা মোমানি বলেন, বিভিন্ন দেশে ফিরে যাওয়া আইএস সদস্যদের উপর দৃষ্টি রাখতে হবে

বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া আইএস সদস্যদের হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা আইএস এর সহযোগী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে তারা আবারো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে৷

জাতিসংঘের ২০১৬ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা বিশ্বের প্রায় ৩৪টি সমমনা সংগঠন আইএস খিলাফতকে সমর্থন দিয়েছে৷ যে কারণে সিরিয়া বা ইরাক থেকে বিতাড়িত হলেও সমমনা সংগঠনগুলোর মাধ্যমে আবারো নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ 

ভিডিও দেখুন 01:44

বেলজিয়াম কি আইএস সন্তানদের ফিরিয়ে নেবে?

এদিকে সুন্নি অধ্যুষিত এলাকাগুলোসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাজনৈতিক অস্থিরতায় আক্রান্ত অঞ্চলগুলোতে ঐ এলাকার অস্থিতিশীল পরিবেশকে পুঁজি করে আবারো জড়ো হতে পারে আইএস, মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷

চার বছরের বর্বরতা

‘‘২০১৫ সালের গ্রীষ্মকাল৷ শহরের কেন্দ্রে পড়ে আছে আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুটির শিরচ্ছেদ করা দেহ৷ দাফন করাতো দূরে থাক, তাঁর মৃতদেহের কাছেও ঘেঁষতে দেয়নি কাউকে৷ তার অপরাধ: আইএস-এর দখলদারিত্বের প্রতিবাদ করেছিল সে,'' এভাবেই আইএস এর হিংস্রতার বর্ণনা দিলেন এক সময়ের আইএস অধ্যুষিত অঞ্চল রাকা থেকে পালিয়ে আসা সিরীয় যুবক সামের (ছদ্মনাম)৷ এ সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘দ্যা রাক্কা ডায়েরিস' নামে একটি বই লিখেন তিনি৷ সামের লিখেছিলেন, স্থানীয় তরুণীরা ছিল আতঙ্কের মধ্যে, কখন ধরে নিয়ে যায় দায়েশ (আইএস এর আরবি নাম)৷

২০১৪ সালের জুন মাসে সিরিয়া ও ইরাক অধ্যুষিত অঞ্চলে নিজেদের খেলাফত ঘোষণা করে জঙ্গি সংগঠনটি৷ হিংস্রতা ছড়িয়ে দিয়ে জনগণকে আতঙ্কিত করতে চাইতো তারা৷ প্রায় পাঁচ বছরের এ সময়টিতে সংখ্যালঘুদের উপর ও তাঁদের সাথে দ্বিমত পোষণকারীদের উপর নির্যাতনের চিত্র দেখা যেত প্রকাশ্যেই৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন